logo

মিশরে পাসপোর্ট আটকে রেখে ২২০ বাংলাদেশি শ্রমিককে কাজে বাধ্য করানোর অভিযোগ

আফছার হোসাইন
আফছার হোসাইন, মিশর
মিশরে পাসপোর্ট আটকে রেখে ২২০ বাংলাদেশি শ্রমিককে কাজে বাধ্য করানোর অভিযোগ
মিশরে বাংলাদেশি পোশাক শ্রমিকদেরকে হয়রানির অভিযোগ। অভিযুক্ত আব্দুল্লাহ (ইনসেটে)। ছবি: এশিয়া পোস্ট কোলাজ

মিশরের বন্দরনগরী আলেকজান্দ্রিয়ায় একটি পোশাক কারখানায় কর্মরত প্রায় ২২০ জন বাংলাদেশি শ্রমিককে তিন মাস ধরে বেতন না দিয়ে তাদের পাসপোর্ট আটকে রেখে কাজ করানোর অভিযোগ উঠেছে।

ভুক্তভোগী শ্রমিকদের অভিযোগ, মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ নামের এক বাংলাদেশি সাব-কন্ট্রাক্টরের মাধ্যমে তারা শাইনলার ইজিপ্ট নামের একটি পোশাক কারখানায় কাজ করছেন। ওয়ার্ক পারমিট করে দেওয়ার মিথ্যা আশ্বাসে তাদেরক বিনা বেতনে কাজ করতে বাধ্য করা হচ্ছে। পাওনা চাইতে গেলে নানা ধরণের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। এমনকি কয়েকজনকে মিথ্যা মামলায় পুলিশে দেয়ার অভিযোগও করেছেন তারা।

শুভ নামের এক বাংলাদেশি শ্রমিক বলেন, শাইনলার ইজিপ্টে অপারেটর হিসেবে সাত মাস ধরে কাজ করছেন। কিন্তু গত তিন মাস ধরে কোন বেতন পাচ্ছেন না তিনি। শুভ’র অভিযোগ, বারবার আব্দুল্লাহর সঙ্গে যোগাযোগ করে বেতন ও পাসপোর্ট ফেরত চাইলে তিনি তা দিতে অস্বীকৃতি জানান এবং তাকে ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদান করেন।

মিশরে ৪ হাজার বছরের পুরোনো সমাধিতে মিলল অক্ষত নানা নিদর্শন

শুভর দাবি, বেতন না পাওয়ায় দেশে থাকা পরিবারকেও টাকা পাঠাতে পারছেন না তিনি। একারণে পরিবারের লোকজনও অর্থকষ্টে আছে। অন্যদিকে মিশরে খাবার, বাসাভাড়া ও দৈনন্দিন খরচ চালানোও কঠিন হয়ে পড়েছে তার জন্য।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেক ভুক্তভোগী বলেন, গত সপ্তাহে বেতন ও পাসপোর্টের বিষয়ে কথা বলতে ২৫-৩০ জন শ্রমিক একসঙ্গে কারখানার অফিসে গেলে তাদের কোয়ালিটি ম্যানেজার মোহাম্মদ সালাহর সঙ্গে কথা হয়। মোহাম্মদ সালাহ তাদেরকে জানান, অফিসে ৭৫টি পাসপোর্ট রয়েছে এবং তাদের নামে ভিসা হয়েছে। কিন্তু ভিসা দেখতে চাইলে‌ তা দেখাতে‌ অস্বীকার করেন তিনি।‌ তিন মাসের বকেয়া বেতন চাইলে মোহাম্মদ সালাহ বলেন, কারখানার কাছে কারো কোন বকেয়া পাওনা নেই, আব্দুল্লাহকে সব পাওনা মিটিয়ে দিয়েছেন তারা।

রাদোয়ন উল্লাহ নামের আব্দুল্লাহ একজন প্রতারক আখ্যা দিয়ে বলেন, শুরুতে কয়েক মাস শ্রমিকদের নিয়মিত বেতন দেওয়ার পর হঠাৎ করে বেতন আটকে দেওয়া হয়। নিজের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, তার সঙ্গেও এমন ঘটনা ঘটেছে। পরে নানা দেন দরবার করে তিনি ও তার তিন বন্ধু পাসপোর্ট ফেরত পান।

কয়েক মিনিটে মিলবে মিশরের ভিসা, সুবিধা পাবেন ১১৮ দেশের নাগরিক

একই অভিযোগ করে সাহেব খান নামে আরেক বাংলাদেশি শ্রমিক বলেন, আব্দুল্লাহ মিশরী নারীকে বিয়ে করেছেন। একারণে, বেতন ও পাসপোর্ট ফেরত চাইতে গেলে তার মিশরীয় শ্যালক ও শ্বশুরবাড়ির আত্মীয়স্বজনকে দিয়ে তাদেরকে মারধরের হুমকি দেন।

এদিকে, শ্রমিকদের অভিযোগের বিষয়ে শাহিন লায়ার কোম্পানির সাব-কন্ট্রাক্টর হিসেবে পরিচিত মোহাম্মদ আব্দুল্লাহর বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

দূতাবাসের জরুরি হস্তক্ষেপের দাবি

এ অবস্থায় মিশরে বাংলাদেশ দূতাবাসের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী শ্রমিকরা।

দূতাবাসের কাছে আটকে থাকা পাসপোর্ট উদ্ধার, বকেয়া বেতন আদায়, আটক শ্রমিকদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত সহায়তা এবং শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানান তারা। ভুক্তভোগী শ্রমিকরা বলেন, বিদেশের মাটিতে তারা অসহায়। তাদের জীবন, নিরাপত্তা, সম্মান ও ন্যায্য পাওনা রক্ষায় এখন বাংলাদেশ দূতাবাসের কার্যকর উদ্যোগই তাদের শেষ ভরসা।

দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, পাসপোর্ট উদ্ধারসহ অন্যান্য প্রতিকার প্রার্থনা করে কয়েকজন বাংলাদেশি কর্মী দূতাবাস এবং সংশ্লিষ্ট মিশরীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছেন। তাঁদের আবেদনে উত্থাপিত বিষয়সমূহের প্রকৃতি ও প্রেক্ষাপট বিবেচনায়, বিষয়গুলো মিশরের প্রচলিত আইন ও বিধিবিধান অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কারখানা কর্তৃপক্ষ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই ও নিষ্পত্তির আওতাভুক্ত বলে প্রতীয়মান হয়। এ পরিপ্রেক্ষিতে, উত্থাপিত বিষয়গুলো যথাযথ আইনানুগ প্রক্রিয়ায় যাচাই ও নিষ্পত্তির লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।