বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য কঠিন সিদ্ধান্ত নিল ফ্রান্স

ফ্রান্সে উচ্চশিক্ষা নিতে আসা বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য আরও কঠোর নিয়ম করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের টিউশন ফি ব্যাপকভাবে বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির সরকার।
গত বুধবার (২০ মে) প্রকাশিত এক সরকারি ডিক্রিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। তবে আগামী ২৬ মে এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে বিভিন্ন সংগঠন।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী শিক্ষাবর্ষ অর্থাৎ চলতি বছরের সেপ্টেম্বর থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বাইরের দেশগুলো থেকে ফ্রান্সে আসা অধিকাংশ শিক্ষার্থীকে লাইসেন্স বা ব্যাচেলর পর্যায়ে বছরে প্রায় তিন হাজার ইউরো টিউশন ফি দিতে হবে। বর্তমানে এই ফি মাত্র ১৭৮ ইউরো।
ফরাসি উচ্চশিক্ষামন্ত্রী ফিলিপ বাতিস্তের ‘চুজ ফ্রান্স ফর হায়ার এডুকেশন’ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হচ্ছে।
ডিক্রিতে ফ্রান্স সরকার জানিয়েছে, ২০১৯ সালে চালু হওয়া বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য পৃথক ফি কাঠামো এবার কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হবে। যদিও এত দিন অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয় এই নীতির পূর্ণ প্রয়োগ করেনি।
বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো বিদেশি শিক্ষার্থীদের বড় অংশকে বাড়তি ফি থেকে অব্যাহতি দিতে পারলেও ধীরে ধীরে সেই সুযোগ কমিয়ে আনা হবে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ২০২৮ সালের সেপ্টেম্বরের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ শিক্ষার্থীকে এই অতিরিক্ত ফি থেকে অব্যাহতি দিতে পারবে।
তবে যেসব বিদেশি শিক্ষার্থী ইতোমধ্যে ফ্রান্সের শিক্ষা কার্যক্রমে যুক্ত আছেন, তারা আগের সুবিধাগুলো বজায় রাখতে পারবেন।
সরকারের দাবি, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ‘উচ্চ সম্ভাবনাময়’ আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করা সম্ভব হবে, অনেকটা অ্যাংলো-স্যাক্সন দেশগুলোর মডেলের মতো। এর বিনিময়ে ফ্রান্স বিদেশি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা শেষে ওয়ার্ক ভিসা পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
এদিকে এই সিদ্ধান্তকে ‘অন্যায্য ও অসঙ্গতিপূর্ণ’ বলে আখ্যা দিয়েছে শিক্ষার্থী ও শিক্ষক সংগঠনগুলো। তাদের অভিযোগ, এই নীতির ফলে আর্থিকভাবে দুর্বল বিদেশি শিক্ষার্থীরা ফ্রান্সে উচ্চশিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবেন।
গত ১২ মে ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রথম দফার বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এবার বিভিন্ন শ্রমিক ও শিক্ষার্থী সংগঠনের জোট আগামী ২৬ মে আবারও দেশজুড়ে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে। তাদের দাবি, সরকারকে এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসতে হবে।
সূত্র : ইনফোমাইগ্র্যান্টস
