logo

সরকারি রেগুলেটরি অথরিটিগুলো ধ্বংস হয়ে গেছে: মাহবুব কবীর

সরকারি রেগুলেটরি অথরিটিগুলো ধ্বংস হয়ে গেছে: মাহবুব কবীর
মাহবুব কবীর মিলন। ছবি: তার ফেসবুক আইডি থেকে নেওয়া

দেশে বিভিন্ন সরকারি দিবস, জাতীয় দিবস, আন্তর্জাতিক দিবস জাঁকজমকভাবে পালন করতে সরকারি সংস্থা এবং কর্মকর্তাদের বিবেচনাবোধ ও স্বার্থের দ্বন্দ্ব সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক অতিরিক্ত সচিব মাহবুব কবীর মিলন। এ ছাড়া দেশে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোও ধ্বংস হয়ে গেছে বলেও মন্তব্য করেন।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড আইডিতে এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে তিনি এসব কথা বলেন।

পোস্টে মাহবুব কবির লেখেন, বিভিন্ন সরকারি দিবস, জাতীয় দিবস, আন্তর্জাতিক দিবস জাঁকজমকভাবে পালন করতে গিয়ে সকল সরকারি সংস্থা এবং কর্মকর্তাদের নর্মস, বিবেক ও বিবেচনাবোধ, কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট টোটালি ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। ধ্বংস হয়ে গেছে সব রেগুলেটরি অথরিটিগুলো।

উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর যদি তাদের জাতীয় দিবস চীন মৈত্রী হলে পালন করে, সব বড় বড় ফুড ইন্ডাস্ট্রি থেকে বিশাল অংকের চাঁদা নেয়ে; ফুড সেইফটি অথরিটি যদি তাদের জাতীয় দিবস পালন করে ফুড ইন্ডাস্ট্রি ও হোটেল রেস্তোরাঁ থেকে ডোনেশন নেয়; কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর যদি কৃষি দিবস পালন করে কীটনাশক ও সার ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে বিশাল অঙ্কের চাঁদা নেয়; মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ যদি চাঁদা নেয় খামারি ও ফিড মিলের কাছ থেকে; বিএসটিআই যদি নেয় তাদের সিল মারা কোম্পানিগুলো থেকে; ইউএনও যদি জাতীয় দিবস পালন করে ইটভাটা, কলকারখানা ও ব্যবসায়ীদের নিকট থেকে; তাহলে আর থাকে কী! অস্তিত্ব তো বিলীন হয়ে যাবার কথা এবং হয়েছও তা-ই।

অভিযোগ ও প্রশ্ন রেখে সাবেক এই সচিব বলেন, আমাদের আসলে কিছুই অবশিষ্ট নেই। কোনো রেগুলেটরি অথরিটিকে দেখেন বড় বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানে অভিযান পরিচালনা করতে? তাদের আউটলেট, শোরুমে? হ্যাঁ, মাঝেমধ্যে হয়েছে দু-একটা। এখন কেন নেই? আর যারা সাহায্য করে না (পকেট ব্যতীত), হয়তো তাদের ওখানেই যাওয়া হয়। আর হয় হকার, ফুটপাত, আড়ত, অলিগলিতে, টিনের ছাপড়িতে ভেজাল ও নকল কারখানায়।

এক রেগুলেটরি অথরিটির ডিজি (মহাপরিচালক) যদি নিজের লেখা বই ছাপাতে হয় স্টেকহোল্ডার বা সরাসরি যাদের রেগুলেট করা হয়, তাদের স্পন্সরশিপে; ব্যাক কাভারে যদি বিশাল ও বিতর্কিত শিল্প প্রতিষ্ঠানের (খাদ্যসহ) বিজ্ঞাপন থাকে, তাহলে আর কী বলবেন! কী বলতে পারি আমরা! কী রেগুলেট করবে সেই অথরিটি! করতে গেলে মুখ দেখাতে পারবে?

তিনি আরও বলেন, ডিজির বই ছাপায় যারা, কাভারে বিজ্ঞাপন থাকে যে শিল্প প্রতিষ্ঠানের, সেই অফিসের নিচের কোনো কর্মকর্তার ক্ষমতা আছে বা হবে সেই সব প্রতিষ্ঠানে অভিযান পরিচালনা করার?

পরামর্শ দিয়ে মাহবুব কবির লেখেন, আবারও বলি। এ দেশ কেয়ামত পর্যন্ত ঠিক হবে না। কেউ পারবে না। যার সামর্থ্য আছে সন্তান দেশের বাইরে পাঠিয়ে দিন। আর যাদের সামর্থ্য নেই? এখানে মরবেন সবাই। কারণ মানুষ তো ঠিক করা যাবে না। ঠিক হবে না। কাজে আপনি কী করবেন, সেটা আপনার ব্যাপার।