২৮ আগস্টে ওসমান হাদির সেই আগুনঝরা স্ট্যাটাস

জুলাই অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশজুড়ে পরিচিতি পাওয়া ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদি গত বছরের ১২ ডিসেম্বর গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর গুরুতর আহত অবস্থায় চিকিৎসাধীন ছিলেন। পরে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর কয়েক মাস আগে, ২০২৫ সালের ২৮ আগস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান ও আন্দোলন নিয়ে কঠোর বার্তা দিয়েছিলেন হাদি।
ওই স্ট্যাটাসে তাকে ‘রাষ্ট্রদ্রোহী’ হিসেবে গ্রেপ্তারের দাবির প্রসঙ্গ তুলে আন্দোলনের নতুন ধাপে প্রবেশের কথা জানান তিনি। একই সঙ্গে নিজের মৃত্যুর পরও তার সহযোদ্ধাদের পাশে থাকার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন।
হাদি ওই স্ট্যাটাসে লিখেছিলেন, ‘মঞ্চ ৭১ কে ধন্যবাদ। তারা পাঁচ দফার প্রথম দফায় রাষ্ট্রদ্রোহী হিসেবে আমাকে গ্রেপ্তার করতে বলেছে। এবার আমরা ইনকিলাব মঞ্চ লড়াইয়ের সেকেন্ড ফেইসে প্রবেশ করলাম।’
এরপর তিনি লিখেছিলেন, ‘দিল্লির সেবাদাস ও গণহত্যাকারীদের এমন জানের শত্রু হতে পারাটাই সারা জীবনের শ্রেষ্ঠ সম্মান। জন্মভূমির স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের রক্ষায় আমার জান ও জবানকে আমার আল্লাহর কাছে অনেক আগেই সঁপে দিয়েছি।’
স্ট্যাটাসে নিজের মৃত্যুর সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করে হাদি লিখেছিলেন, ‘জাতির কাছে একটাই অনুরোধ- আল্লাহ আমারে নিয়া গেলে আমার ইনকিলাব এর পাগল ভাই-বোনগুলোরে আপনারা একা ছাইড়া দিবেন না। ওদেরকে কলিজায় আগলাইয়া রাইখেন। নিজের জীবনের চেয়েও ওরা এই লড়াইকে বেশি ভালোবাসে।’
স্ট্যাটাসের শেষদিকে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে হাদি বলেছিলেন, ‘দেহে শেষ বিন্দু রক্ত থাকা পর্যন্ত লড়াই চলবে। জান দিবো, জুলাই দিবো না....’
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর নির্বাচনি প্রচারে সক্রিয় ছিলেন হাদি। গত বছরের ১২ ডিসেম্বর গণসংযোগের জন্য বিজয়নগর এলাকায় গেলে তাকে লক্ষ্য করে গুলি করা হয়। চলন্ত রিকশায় থাকা হাদিকে চলন্ত মোটরসাইকেলে থাকা এক আততায়ী গুলি করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে অস্ত্রোপচারের পর রাতেই তাকে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
অবস্থার অবনতি হলে এর দুদিন পর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে হাদিকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তার মৃত্যুর খবর আসে। হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে হত্যাচেষ্টা মামলা করেন। পরে মামলায় হত্যার ৩০২ ধারা যুক্ত করা হয়। থানা পুলিশের পর মামলাটির তদন্তভার দেওয়া হয় গোয়েন্দা পুলিশকে (ডিবি)।
তদন্ত শেষে সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি, সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী ফয়সল করিম মাসুদসহ ১৭ জনকে আসামি করে গত ৬ জানুয়ারি হাদি হত্যা মামলার অভিযোগপত্র দেয় ডিবি।
অভিযোগপত্রে তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির পরিদর্শক ফয়সল আহমেদ উল্লেখ করেন, আসামিদের রাজনৈতিক পরিচয় এবং বিভিন্ন সময়ে হাদির দেওয়া রাজনৈতিক বক্তব্য বিশ্লেষণ করে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়।



