logo

‘ঢাবির সূর্যসেন হল শাখা শিবিরের সাথী ছিলেন রাশেদ খাঁন’

‘ঢাবির সূর্যসেন হল শাখা শিবিরের সাথী ছিলেন রাশেদ খাঁন’
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন (বামে) ও এনসিপির সাংগঠনিক সম্পাদক তারেক রেজা (ডানে)। ছবি: এশিয়া পোস্ট কোলাজ

গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন ‘ছাত্রশিবিরের শপথবদ্ধ সাথী’ ছিলেন বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাংগঠনিক সম্পাদক তারেক রেজা। রোববার (২৫ অক্টোবর) রাতে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ অভিযোগ তোলেন।

ফেসবুক পোস্টে এনসিপি নেতা তারেক রেজা লিখেছেন, রাশেদ খাঁন একসময় ঢাবির (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়) সূর্যসেন হল ছাত্রশিবিরের শপথবদ্ধ সাথী ছিলেন। ডাকসু নির্বাচনে জিএস পদে দাঁড়ানোর পর শিবির তাকে আরেকজনের জন্য সরে দাঁড়াতে বললে তিনি সংগঠন (শিবির) ছেড়ে দেন। এরপর তিনি হয়ে ওঠেন মোর ক্যাথলিক দ্যান দ্য পোপ। (সাবেক শিবিরদের এই সিন্ড্রম নতুন কিছু না)।

তিনি লেখেন, একটি ঘটনা বললে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে। যেদিন ভোরে আবরার ফাহাদ হত্যার খবর জানাজানি হয়, সেদিন ঢাবি ছাত্র অধিকারের নেতারা রাশেদ খাঁন ও নুরুল হক নুরকে ফোন করে কর্মসূচি দেওয়ার কথা জানান।

তিনি আরও লেখেন, নুর ভাই কিছুটা সন্দিহান ছিলেন, তবে খোঁজখবর নিয়ে ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নিতে বলেন। অন্যদিকে রাশেদ খান আপত্তি জানান। তার আশঙ্কা ছিল, আবরার ফাহাদ শিবির হতে পারেন, আর সেক্ষেত্রে তার জন্য কর্মসূচি দিলে ক্ষতি হবে (শিবির পরিচয় লুকানোর চেষ্টা)।

তারেক রেজা লিখেছেন, তার (রাশেদ) পরামর্শ না মেনে কর্মসূচি ঘোষণা করা হলে তিনি এক নেতাকে ফোন করে বলেন, ‘কথা না শুনলে তোমাদের ছাত্র অধিকার পরিষদ করার প্রয়োজন নেই, কাল থেকে আমাদের সঙ্গে আসবা না।’ অথচ কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ দেখে সেই রাশেদ খাঁনই শেষ পর্যন্ত এসে উপস্থিত হন।

এর আগে, নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে রাশেদ খাঁন দাবি করেন যে, এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বিএনপিতে যোগদানের জন্য বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের বাসায় গিয়ে বসে ছিলেন।

এনসিপির আসন সমঝোতা নিয়েও পোস্টে মন্তব্য করেন রাশেদ খাঁন। তার দাবি, বেশি আসন পাওয়ার আশায় এনসিপির শীর্ষ পর্যায়ের প্রায় এক ডজন নেতা সালাহউদ্দিন আহমদের বাসায় গিয়ে বসে থাকতেন। তবে বিএনপি এনসিপিকে চারটির বেশি আসন ছাড়তে রাজি হয়নি। এ কারণে বেশি আসন ও নির্বাচনী খরচের সুযোগ পেয়ে এনসিপি জামায়াতের জোটে গেছে।

তিনি এনসিপির রাজনীতিকে ‘সুবিধাবাদী জিন্দাবাদের রাজনীতি’ বলে আখ্যা দেন। তার দাবি, আলাদা কোনো সুবিধা আদায় কিংবা জামায়াতের পরামর্শে বিএনপিকে চাপে রাখার কৌশল হিসেবে এনসিপি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে কর্মসূচি শুরু করেছে।