মুবাহালা নিয়ে হাবিবুর রহমান মিসবাহ ও নাঈমা জান্নাতের পাল্টাপাল্টি পোস্ট

আলোচিত ইসলামি বক্তা ও ‘৩১৩ প্রোপার্টিজ’-এর চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান মিসবাহ ও তার স্ত্রী নাঈমা জান্নাত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাল্টাপাল্টি পোস্ট দিয়েছেন। মিসবাহ তার বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগ অস্বীকার করে ‘মুবাহালা’র ঘোষণা দেওয়ার পর নাঈমা জান্নাতও সেই আহ্বান গ্রহণ করেছেন। একই সঙ্গে তিনি মিসবাহর বক্তব্যের বিভিন্ন দাবি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
শনিবার (২২ আগস্ট) রাতে দেওয়া এক ফেসবুক পোস্টে হাবিবুর রহমান মিসবাহ বলেন, তার ‘৯ বিয়ের’ তথ্য মিথ্যা। নাঈমা জান্নাত তার পঞ্চম স্ত্রী নন, বরং বর্তমান দ্বিতীয় স্ত্রী—এমন দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য, নাঈমার সঙ্গে তার বিয়ে হয়েছে এবং এর কাবিন ও রেজিস্ট্রি রয়েছে।
মিসবাহ আরও দাবি করেন, তার ঘরে স্ত্রী-সন্তান থাকার বিষয়টি জেনেই নাঈমা স্ত্রী হিসেবে তার ঘরে এসেছেন। তিনি কোনো পরকীয়া সম্পর্কে জড়িত নন এবং নাঈমার কাছে যৌতুক দাবি করেননি বলেও পোস্টে উল্লেখ করেন।
এসব বক্তব্যের পর মিসবাহ ‘মুবাহালা’র ঘোষণা দেন। তিনি আল্লাহকে সাক্ষী রেখে বলেন, তার বক্তব্য সত্য হলে তার ওপর কোনো লানত না নেমে যারা জেনে-শুনে মিথ্যা অভিযোগ করছেন, তাদের ওপর লানত নাজিল হোক। আর তিনি মিথ্যাবাদী হলে তার ওপরই লানত নেমে আসুক—এমন প্রার্থনা করেন তিনি।
মিসবাহ তার বিরুদ্ধে অভিযোগকারীদের এবং নাঈমা জান্নাতকে একইভাবে মুবাহালায় অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে আদালতে মামলা হয়ে থাকায় আইনি প্রক্রিয়ায় জবাব দেওয়ার কথাও বলেন তিনি।
এরপর নাঈমা জান্নাতও ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে মিসবাহর মুবাহালার আহ্বান গ্রহণ করার কথা জানান। তবে মুবাহালার আগে মিসবাহর বক্তব্যের কয়েকটি বিষয়ে ব্যাখ্যা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
নাঈমার অভিযোগ, এর আগে ‘আংটির বিষয়’ এবং ‘কুল্লামার তালাক’-এর কসমের ক্ষেত্রেও মিসবাহ তার বক্তব্যের কারিগরি ব্যাখ্যা দিয়েছেন। এ বিষয়ে তিনি আলেমদের কাছে ব্যাখ্যা ও ফতোয়া দেওয়ার আহ্বান জানান।
৯ বিয়ের প্রসঙ্গ টেনে নাঈমা প্রশ্ন করেন, মিসবাহ যখন বলেছেন তার ৯ বিয়ের তথ্য মিথ্যা, তখন তিনি নির্দিষ্টভাবে তার বিয়ের সংখ্যা কত—তা বলেননি কেন। তার দাবি, বক্তব্যে এমনভাবে শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে, যাতে পরবর্তী সময়ে ভিন্ন ব্যাখ্যার সুযোগ থাকে।
পরকীয়া প্রসঙ্গেও মিসবাহর বক্তব্যকে অসম্পূর্ণ দাবি করেছেন নাঈমা। তার ভাষ্য, আমি কোনো পরকীয়া সম্পর্কে জড়িত নই—এই বক্তব্যের মাধ্যমে অতীতে কোনো অনৈতিক সম্পর্কে জড়িত থাকার অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করা হয়নি।
মিসবাহর ‘বর্তমান দ্বিতীয় স্ত্রী’ বক্তব্য নিয়েও প্রশ্ন তোলেন নাঈমা। তিনি বলেন, মিসবাহর দ্বিতীয় স্ত্রী ছিলেন—এটি তার বক্তব্য; তবে তার সঙ্গে বিয়ের সময় সেটি মিসবাহর পঞ্চম বিয়ে ছিল বলে তিনি দাবি করেন।
কাবিন ও রেজিস্ট্রি প্রসঙ্গে নাঈমা বলেন, এসব নথি থাকলে তাকে সেগুলোর কপি দেওয়া হয়নি কেন, সে প্রশ্ন রয়েছে। তার দাবি, তাদের সন্তানের জন্মনিবন্ধন ও টিকার কার্ডও করা হয়নি। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট নথি যথাযথ জায়গায় উপস্থাপন করা হবে বলে জানান তিনি।
যৌতুকের অভিযোগ প্রসঙ্গে নাঈমা বলেন, মিসবাহ ‘যৌতুক দাবি করেননি’—এমন বক্তব্য দিলেও আদালতে দায়ের করা মামলার সব অভিযোগের জবাব শুধু একটি বাক্যে দেওয়া সম্ভব নয়। বিষয়টির আইনি ব্যাখ্যা আদালতেই পরিষ্কার হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
পোস্টের একপর্যায়ে নাঈমা মিসবাহর ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও একাধিক অভিযোগ তোলেন। তিনি দাবি করেন, মিসবাহ নিয়মিত নামাজ পড়তেন না, অবসর সময়ে সিনেমা দেখতেন এবং অশ্লীল গালিগালাজ ও বিভিন্ন নাটক-সিরিয়াল দেখায় যুক্ত থাকতেন। তবে এসব অভিযোগের স্বতন্ত্র কোনো প্রমাণ তিনি পোস্টে দেননি।
সবশেষে নাঈমা জানান, তিনি মিসবাহর মুবাহালার আহ্বান সবকিছু জেনে-বুঝেই গ্রহণ করেছেন। তিনি আল্লাহকে সাক্ষী রেখে তার বক্তব্য সত্য হলে লানত থেকে মুক্তি এবং মিথ্যা বলে থাকলে নিজের ওপর লানত নাজিল হওয়ার প্রার্থনা করেন।
দুই পক্ষই নিজেদের বক্তব্যের সত্যতা আল্লাহর ওপর ছেড়ে দেওয়ার কথা জানিয়েছে। পাশাপাশি মিসবাহ আদালতে করা মামলার আইনি জবাব দেওয়ার কথা বলেছেন। নাঈমাও জানিয়েছেন, আইনের বিষয় আদালতেই নিষ্পত্তি হবে এবং সত্য-মিথ্যার চূড়ান্ত ফয়সালা আল্লাহর হাতে।



