logo

অস্ত্রের লাইসেন্স নেই ইশরাকের সঙ্গে রাইফেল হাতে থাকা সাবেক ছাত্রদল নেতা পাভেলের

অস্ত্রের লাইসেন্স নেই ইশরাকের সঙ্গে রাইফেল হাতে থাকা সাবেক ছাত্রদল নেতা পাভেলের
প্রথম দুটি ছবি অস্ত্র হাতে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক পাভেল শিকদার ও ডানে অস্ত্র হাতে ইশরাক হোসেন। কোলাজ ছবি: এশিয়া পোস্ট

রাজধানীর গেন্ডারিয়া রেলস্টেশন–সংলগ্ন দয়াগঞ্জ ঘুণ্টিঘর রেলগেট এলাকায় সম্প্রতি অস্ত্র উঁচিয়ে মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে আলোচনায় আসেন সদ্য সাবেক মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। এ ঘটনায় ইশরাকের পাশাপাশি তার সহযোগীদের হাতে থাকা অস্ত্র নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। বিশেষ করে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক পাভেল শিকদারকে একটি রাইফেল হাতে মহড়া দিতে দেখা যায়। তবে পাভেলের নামে কোনো অস্ত্রের লাইসেন্স নেই বলে অনুসন্ধানে নিশ্চিত হয়েছে এশিয়া পোস্ট। রাইফেলটি ইশরাক হোসেনের নামে লাইসেন্স করা বলে জানিয়েছে পুলিশ।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ওয়ারি জোনের ডিসি মল্লিক আহসান উদ্দিন সামী এশিয়া পোস্টকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, রাইফেলটি নিয়ে পাভেলের কাছে তারা কিছু জানতে চাননি। এ বিষয়ে কোনো তদন্তও হয়নি।

অস্ত্র উঁচিয়ে অভিযানের ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেন ইশরাক হোসেন। ওই ভিডিওতে ইশরাকের সঙ্গে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে পাভেল শিকদারসহ একাধিক ব্যক্তিকে দেখা যায়।

ডিএমপি সূত্রে জানা গেছে, পাভেলের হাতে থাকা ইশরাক হোসেনের লাইসেন্সকৃত অস্ত্রটি একটি বিদেশি রাইফেল। এটি পয়েন্ট ২২ বোরের এবং জার্মানিতে তৈরি। রাইফেলটির বিপি নম্বর ১০২০৩৩। মডেল ওয়ালথার কোল্ট এমফোর।

ডিএমপির ওয়ারি জোনের ডিসি মল্লিক আহসান উদ্দিন সামী এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘সাবেক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের মাদকবিরোধী অভিযানে ছাত্রদল নেতা পাভেলের হাতে যে অস্ত্রটি দেখা গেছে সেটি একটি পয়েন্ট টুটু বোরের রাইফেল। এটির মালিক ইশরাক হোসেন বলে আমরা নিশ্চিত হয়েছি।’

ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, ইশরাক হোসেন অস্ত্র হাতে গাড়ি থেকে নামছেন। এরপর তার সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা রেললাইনের পাশে অবস্থান করা কয়েকজনকে ধরতে এগিয়ে যান।

ইশরাকের সঙ্গে ছিলেন দুজন ব্যক্তিগত দেহরক্ষী, তোফাজ্জল হোসেন ও লাভলু। তাদের নিয়োগ দিয়েছিলেন ইশরাক নিজেই। এ ছাড়া একজন সরকারি দেহরক্ষী উপস্থিত ছিলেন। দুই ব্যক্তিগত দেহরক্ষীর হাতেও অস্ত্র ছিল। সরকারি দেহরক্ষীকে ভিডিওতে অস্ত্র তাক করা অবস্থায় দেখা যায়।

একই ভিডিওতে দেয়ালের ওপর রাইফেল হাতে দেখা যায় ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক পাভেল শিকদারকে। এই রাইফেলের বিষয়ে তদন্ত করেছেন কি না, জানতে চাইলে ডিসি ওয়ারি বলেন, ‘এ বিষয়ে কোনো তদন্ত করিনি।’

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আগ্নেয়াস্ত্র নীতিমালার নির্দেশিকা অনুযায়ী, লাইসেন্সপ্রাপ্ত ব্যক্তি কেবল আত্মরক্ষার জন্য অস্ত্র বহন করতে পারেন। তবে সর্বসাধারণের মধ্যে ভয় বা আতঙ্ক সৃষ্টি করে, এমনভাবে অস্ত্র প্রদর্শন বেআইনি। একজনের লাইসেন্স করা অস্ত্র অন্যের হাতে তুলে দেওয়া বা সেটি নিয়ে প্রকাশ্যে মহড়া দেওয়াও বেআইনি।

ব্যক্তিগত বা নিরাপত্তার কাজে শটগান বা রাইফেল ব্যবহারের সুনির্দিষ্ট বিধিমালা রয়েছে। একজনের লাইসেন্স করা অস্ত্র অন্যজন নিয়ে মহড়া দিতে পারেন কি না, এ বিষয়ে সাবেক ছাত্রদল নেতার কাছে জানতে চেয়েছেন? এমন প্রশ্নে ডিএমপির ওয়ারি জোনের ডিসি মল্লিক আহসান উদ্দিন সামী বলেন, ‘আমরা এমন কিছু জানতে চাইনি।’

এ বিষয়ে কথা বলতে একাধিকবার পাভেল শিকদারের মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। পরে হোয়াটসঅ্যাপে প্রশ্ন পাঠিয়েও সাড়া মেলেনি।