logo
Advertisement

শাখা প্রধানদের দায়িত্ব পালনে অসহযোগিতা, মনিপুর স্কুলের কমিটি বাতিলে সচিবকে চিঠি

শাখা প্রধানদের দায়িত্ব পালনে অসহযোগিতা, মনিপুর স্কুলের কমিটি বাতিলে সচিবকে চিঠি
মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ। ছবি: এশিয়া পোস্ট গ্রাফিক্স

রাজধানীর মিরপুরের মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে শাখা প্রধানদের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর না করে উল্টো তাদের সঙ্গে অসহযোগিতা করছেন কমিটির সদস্যরা। এমন অভিযোগে বিদ্যমান কমিটি বাতিল করে নতুন কমিটি গঠনের অনুরোধ জানিয়ে শিক্ষা সচিব বরাবর চিঠি পাঠানো হয়েছে। গত ১ সেপ্টেম্বর প্রতিষ্ঠানের সব শাখা প্রধানের পক্ষে মূল বালক ক্যাম্পাসের শাখা প্রধান মো. আব্দুল হালিম এ চিঠি পাঠান।

Advertisement

২০১০ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটিতে ৬০২ কোটি টাকারও বেশি আর্থিক অনিয়ম হয়েছে। এ ছাড়া ৬৭৬ শিক্ষকের মধ্যে ৬৬২ জনের নিয়োগে কোনো নিয়মনীতি মানা হয়নি। চলতি বছরের ১৭ মে পরিদর্শন ও নিরীক্ষা অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে এমন তথ্য সামনে এলে গত ২১ জুন গঠিত হয় ‘বিশেষ পরিস্থিতি কমিটি’।

প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অনিয়ম ও প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনা নিরসন করার দায়িত্ব দেওয়া হয় তাদের। তবে এবার অসহযোগিতার অভিযোগ তুলে সেই কমিটি বাতিলের দাবি জানালেন শাখা প্রধানরা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দায়িত্ব নেওয়ার পর অনিয়ম-অব্যবস্থাপনা নিরসনের বদলে উল্টো শাখা প্রধানদের দায়িত্ব পালনে অসহযোগিতা করে বিশেষ পরিস্থিতি কমিটি। ফলে সরকারের নানা আদেশ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রেও প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়। এমনকি শাখা প্রধানদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শনেরও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

চিঠিতে যা বলা হয়েছে

চিঠিতে আব্দুল হালিম বলেন, মনিপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের অব্যবস্থাপনা দূর করতে শাখা প্রধানদের পদায়ন করা হয়েছিল। গত ২৫ জুন পাঁচজন শাখা প্রধান যোগদান করেন। এরপর দুই মাসের বেশি সময় পার হয়ে গেলেও প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী শাখার আয়-ব্যয়ের দায়িত্বসহ আর্থিক-অনার্থিক কোনো দায়িত্বই তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি।

তার অভিযোগ, শাখা প্রধানরা এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক এবং বিশেষ পরিস্থিতি কমিটির সভাপতি ও সদস্য সচিব বরাবর লিখিত চিঠি দিলেও তারা কোনো উদ্যোগ নেননি।

চিঠিতে বলা হয়, বিশেষ পরিস্থিতি কমিটির সভাপতি ও সদস্য সচিবের অসহযোগিতার কারণে সরকারের আদেশ বাস্তবায়ন করা যাচ্ছে না, যা সরকারি আদেশ অমান্য করার নামান্তর।

যা বলছেন সভাপতি ও শাখা প্রধান

মনিপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিশেষ পরিস্থিতি কমিটির সভাপতি হামিদুল হক মানিক। শাখা প্রধানদের সঙ্গে অসহযোগিতার বিষয়ে তিনি এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘এই অভিযোগ সত্য নয়। তাদের ভয়-ভীতি দেখানো হয়নি। শাখা প্রধানদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ হচ্ছে।’

আর্থিক দায়িত্ব হস্তান্তর না করার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘প্রথমে বলা হয়েছিল প্রতিটি শাখা আলাদা প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করবে। কিন্তু এটি আর বাস্তবায়ন হয়নি। তাই শাখা প্রধানদের জারি করা প্রজ্ঞাপন থেকে ‘আয়-ব্যয় কর্মকর্তা’ টার্মটি অপসারণ করতে সচিবকে মৌখিক অনুরোধ জানিয়েছিলাম।’

মনিপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের মূল বালক ক্যাম্পাসের শাখা প্রধান মো. আব্দুল হালিম এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘মনিপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজ দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত হয়েছে। সরকারের আদেশ বিশেষ পরিস্থিতি কমিটি বাস্তবায়ন করতে দিচ্ছে না। তারা প্রতিষ্ঠানটি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনায় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন। শাখা প্রধানদের কোনো কাজ করতে দিচ্ছে না। আয়-ব্যয় ক্ষমতাও শাখা প্রধানদের না দেওয়ায় প্রতিষ্ঠানে ফের আর্থিক অনিয়ম চলছে। এই প্রতিষ্ঠান এখনও দুষ্টচক্রের রাহুগ্রাসের কবলে রয়েছে। সরকার এখানে তাদের কাছে অসহায় হয়ে পড়েছে।’