logo

দায়িত্বের প্রথম দিনেই ৯ উদ্যোগ ঘোষণা ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর

দায়িত্বের প্রথম দিনেই ৯ উদ্যোগ ঘোষণা ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর

নতুন মন্ত্রিসভার শপথের পর আজ ছিল সচিবালয়ে দায়িত্ব পালনের প্রথম দিন। সাধারণত এমন দিনে শুভেচ্ছা বিনিময় ও দাপ্তরিক পরিচিতির মধ্যেই সময় কাটে। তবে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক প্রথম কার্যদিবসেই মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ৯টি কর্মপরিকল্পনা আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেছেন এবং কোন সংস্থা কোন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করবে তার তালিকাও প্রকাশ করা হয়েছে।

সাবেক জাতীয় ফুটবলার আমিনুল হক দীর্ঘদিন ধরেই দেশের ক্রীড়াঙ্গন নিয়ে বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা বলে আসছিলেন। নির্বাচনি ইশতেহারেও তার দলের ক্রীড়া সংক্রান্ত অঙ্গীকার ছিল। দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই সেই প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের পথে এগোনোর ইঙ্গিত মিলেছে আজকের ঘোষণায়।

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীনে বর্তমানে চারটি প্রধান সংস্থা কাজ করছে—জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ, ক্রীড়া পরিদপ্তর, বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি) এবং ক্রীড়া কল্যাণসেবী ফাউন্ডেশন। নতুন ঘোষিত কর্মসূচিগুলো এই চার প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে বাস্তবায়ন হবে বলে জানানো হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুব আলম সংশ্লিষ্ট দায়িত্ব বণ্টনের চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন।

ফুটবল ও ক্রিকেটের বাইরে অন্যান্য খেলায় যুক্ত খেলোয়াড়দের সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে জাতীয় দলের সব খেলোয়াড়কে বেতনের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনায় আছে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে মন্ত্রণালয়ের ক্রীড়া অনুবিভাগ, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ও বিকেএসপি যৌথভাবে কাজ করবে। প্রাথমিক পর্যায় থেকেই খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করার বিষয়টিও এই তিন সংস্থার তত্ত্বাবধানে থাকবে।

খেলার সরঞ্জামের ক্ষেত্রে আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে দেশে উৎপাদন বাড়ানো এবং ভবিষ্যতে রপ্তানির সুযোগ তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে। এ ক্ষেত্রে ক্রীড়া মন্ত্রণালয় ও ক্রীড়া পরিদপ্তর যৌথভাবে কাজ করবে। পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যাংক ও করপোরেট প্রতিষ্ঠানকে নির্দিষ্ট খেলা বা ফেডারেশনের সঙ্গে যুক্ত করে পৃষ্ঠপোষকতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার দায়িত্ব পড়েছে মন্ত্রণালয় ও জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের ওপর।

তৃণমূল পর্যায়ে ক্রীড়া কার্যক্রম জোরদারে উপজেলা পর্যায়ে ক্রীড়া অফিস স্থাপন এবং ক্রীড়া কর্মকর্তা নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে, যা বাস্তবায়ন করবে ক্রীড়া পরিদপ্তর। অন্যদিকে দেশের ৬৪ জেলায় ইনডোর ভিলেজ গড়ে তোলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বিকেএসপিকে।

দায়িত্ব নেওয়ার পরদিনই ক্রীড়া সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের উদ্যোগও নিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। আগামী রোববার জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ভবনে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এ সংক্রান্ত চিঠি ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক সংগঠনগুলোকে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।