মেসি-স্কালোনির প্রতি ডি মারিয়ার বার্তা

এবারের বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা গিয়েছিল শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্য নিয়ে। শেষ পর্যন্ত ফাইনালে উঠলেও যাত্রাপথটা সহজ ছিল না। শেষে ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরেছেন মেসিরা। তবে আর্জেন্টিনার সাবেক তারকা উইঙ্গার আনহেল ডি মারিয়ার চোখে ২০২৬ বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় মুহূর্ত ফাইনাল নয়, ইংল্যান্ডকে হারানো।
তার মতে, সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২-১ গোলের জয়ই ছিল আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় আনন্দের উপলক্ষ। তাই তার কাছে বিশ্বকাপও শেষ হয়ে গেছে সেদিনই।
টিএনটি স্পোর্টসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ডি মারিয়া বলেন, ‘ইংল্যান্ডকে হারানো পুরো দেশের জন্যই ছিল অসাধারণ আনন্দের। সেটি খুব স্পষ্টভাবেই অনুভূত হয়েছে, আর সেটি আমাকে ভীষণ আনন্দ দিয়েছে। সবার প্রতি আমি চিরকৃতজ্ঞ।’
টুর্নামেন্টে নকআউট পর্বে কেপ ভার্দে, মিসর ও সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে জিততে সংগ্রাম করতে হয়েছে আর্জেন্টিনাকে। ১৯ জুলাইয়ের ফাইনালে লিওনেল মেসিদের পারফরম্যান্স সমর্থকদের হতাশই করেছে।
তবে টুর্নামেন্টজুড়ে আর্জেন্টিনার খেলা নিয়ে মোটামুটি খুশি ডি মারিয়া। অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রতিটি ম্যাচেই আমাদের কষ্ট করতে হয়েছে। কিন্তু দলটা ভেতর থেকে সেই শক্তিটা খুঁজে বের করেছিল, যেটি শেষ পর্যন্ত তাদের জয় এনে দিয়েছে। ফাইনাল কখনো জেতা যায়, কখনো যায় না। এবার হয়নি, কিন্তু তারা নীল-সাদা পতাকাকে উঁচুতেই তুলে ধরেছে।’
২০২২ বিশ্বকাপজয়ী ডি মারিয়া অবশ্য আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় অর্জন দেখছেন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয়টাকেই। ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে ইংল্যান্ডের সঙ্গে আর্জেন্টিনার বিরোধ অনেক দিনের। সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারানোর পর আর্জেন্টিনার কয়েকজন খেলোয়াড় ফকল্যান্ড নিয়ে ব্যানারও প্রদর্শন করেন, যা এখন ফিফার তদন্তাধীন।
মারিয়ার মতে, আর্জেন্টাইনরা সেদিনই সবচেয়ে বেশি খুশি ছিল, ‘এই দল শুধু করতালির নয়, এর চেয়েও অনেক বেশি কিছুর দাবিদার। তারা যা অর্জন করেছে, আর ইংল্যান্ডকে হারানো, সেটিই ছিল সবকিছুর মুকুট। আমার কাছে বিশ্বকাপ সেখানেই শেষ। তারা দেশকে সবচেয়ে বড় আনন্দটা দিয়েছে সেদিন।’
সাক্ষাৎকারে ডি মারিয়াকে লিওনেল মেসি ও কোচ লিওনেল স্কালোনির ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। তিনি তাদের প্রতি আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন।
সাবেক এই উইঙ্গার মেসিকে নিয়ে বলেন, ‘সে যত দিন নিজে চাইবে, তত দিন জাতীয় দলে থাকুক। আমার মনে হয়, তার সামনে আরও অনেক বছর আছে। ৩৯ বছর বয়সেও সে প্রমাণ করেছে, ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় সে। তার কোনো সীমা নেই।’
কোচ স্কালোনির প্রতিও তার একই প্রত্যাশা, ‘তিনি আজকের “স্কালোনি”। সবার ভালোর জন্যই আমি চাই, তিনি থাকুন। সামনে দারুণ এক প্রজন্মের তরুণ ফুটবলার আছে। শেষ পর্যন্ত তিনি কী চান, সেটি তিনিই জানেন। তবে আমি আশা করি, তিনি চালিয়ে যাবেন।’
.png)



-451d52.webp)


