logo
Advertisement
ডায়মন্ড লিগ

জুরিখে এক রাতেই ভাঙল দুই বিশ্ব রেকর্ড

এশিয়া পোস্ট স্পোর্টস
জুরিখে এক রাতেই ভাঙল দুই বিশ্ব রেকর্ড
ছেলেদের ৪০০ মিটার হার্ডলসে ৪৫ দশমিক ৮০ সেকেন্ড নিয়ে বিশ্বরেকর্ড গড়েন দস সান্তোস। ছবি: রয়টার্স

একটি বিশ্বরেকর্ডই কোনো প্রতিযোগিতার রাতকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য যথেষ্ট। সেখানে মাত্র ৪০ মিনিটের ব্যবধানে হলো দুটি। জুরিখ ডায়মন্ড লিগে হার্ডলসের দুই ইভেন্টে নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন ব্রাজিলের অ্যালিসন দস সান্তোস ও যুক্তরাষ্ট্রের মাসাই রাসেল।

Advertisement

প্রথম ইতিহাসটি গড়েন দস সান্তোস। ছেলেদের ৪০০ মিটার হার্ডলসে ৪৫ দশমিক ৮০ সেকেন্ড সময় নিয়ে দৌড় শেষ করেন ২৬ বছর বয়সী এই ব্রাজিলিয়ান। তাতে ভেঙে যায় নরওয়ের কারস্টেন ওয়ারহোমের পাঁচ বছরের পুরোনো বিশ্বরেকর্ড।

২০২১ সালের টোকিও অলিম্পিকে ৪৫ দশমিক ৯৪ সেকেন্ড সময় নিয়ে আগের রেকর্ডটি গড়েছিলেন ওয়ারহোম। সেই ঐতিহাসিক দৌড়ে ৪৬ দশমিক ৭২ সেকেন্ড সময় নিয়েও শুধু ব্রোঞ্জ পেয়েছিলেন দস সান্তোস। পাঁচ বছর পর ওয়ারহোমকে পেছনে ফেলেই তার কাছ থেকে রেকর্ডটি কেড়ে নিলেন তিনি।

জুরিখে শেষ বাঁক পার হওয়ার পরই অন্যদের থেকে পরিষ্কার ব্যবধান তৈরি করেন দস সান্তোস। শেষ পর্যন্ত তার কাছাকাছিও যেতে পারেননি ওয়ারহোম। ৪৬ দশমিক ৬৯ সেকেন্ড সময় নিয়ে দ্বিতীয় হন সাবেক বিশ্বরেকর্ডধারী।

রেকর্ড গড়ার পর দস সান্তোস বলেন, ‘কী ঘটেছে, সেটি বোঝানোর মতো ভাষা আমার নেই। শুধু এটুকুই বলতে পারি, আমি বিশ্বরেকর্ড ভেঙেছি। পুরো মৌসুমেই দেখিয়েছি যে আমি দ্রুত ও শক্তিশালী।’

২০২২ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দস সান্তোস ২০২৫ সালে রুপা জেতেন। টোকিও ও প্যারিস অলিম্পিক থেকে পেয়েছিলেন দুটি ব্রোঞ্জ। চলতি মৌসুমে ওয়ারহোমের বিপক্ষে টানা পাঁচটি দৌড়ে জয় পেলেন তিনি।

দস সান্তোসের কীর্তির রেশ কাটতে না কাটতেই মেয়েদের ১০০ মিটার হার্ডলসে ইতিহাস গড়েন অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন মাসাই রাসেল। শেষ বাধাটি পার হওয়ার পর গতি আরও বাড়িয়ে ১২ দশমিক ০৯ সেকেন্ডে ফিনিশিং লাইন ছোঁয়েন যুক্তরাষ্ট্রের এই অ্যাথলেট।

নাইজেরিয়ার টোবি আমুসানের আগের বিশ্বরেকর্ড ছিল ১২ দশমিক ১২ সেকেন্ড। ২০২২ সালের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপের সেমিফাইনালে ওই রেকর্ড গড়েছিলেন তিনি। তার সেই সময় থেকে তিন শতক সেকেন্ড কমিয়ে নতুন ইতিহাস লিখলেন রাসেল।

দস সান্তোসের রেকর্ড তাকে বাড়তি প্রেরণা দিয়েছিল জানিয়ে রাসেল বলেন, ‘তার বিশ্বরেকর্ডের খবর শোনার পর মনোযোগ ধরে রাখার চেষ্টা করছিলাম। তবে বুঝতে পেরেছিলাম ট্র্যাকটি খুব দ্রুত। তার কাছ থেকে অবশ্যই অনেক অনুপ্রেরণা পেয়েছি।’

এখানেই শেষ নয়, জুরিখের রাতজুড়ে হয়েছে আরও বেশ কয়েকটি অসাধারণ পারফরম্যান্স। মেয়েদের ৮০০ মিটারে সুইজারল্যান্ডের অড্রে ভেরো ১ মিনিট ৫৩ দশমিক ৭০ সেকেন্ড সময় নিয়ে বিশ্বরেকর্ডের খুব কাছাকাছি পৌঁছে যান। ছেলেদের ২০০ মিটারে বছরের সেরা ১৯ দশমিক ৬২ সেকেন্ড সময় করেন যুক্তরাষ্ট্রের কেনি বেডনারেক।

তবে সবকিছুকে ছাড়িয়ে আলোটা ছিল দস সান্তোস ও রাসেলের ওপরই। একই ট্র্যাকে ৪০ মিনিটের মধ্যে দুই বিশ্বরেকর্ড, জুরিখের রাত জায়গা করে নিল অ্যাথলেটিকস ইতিহাসে।