logo

সার্জনের লড়াইয়ে বাঁচল কিংবদন্তি লিন্ডসে ভনের পা

সার্জনের লড়াইয়ে বাঁচল কিংবদন্তি লিন্ডসে ভনের পা

পাহাড়ি ঢালে নেমে আসা গতি, তীক্ষ্ণ বাঁক, বরফের ওপর নিয়ন্ত্রণ—এসবই ছিল তার রাজত্ব। কিন্তু ৮ ফেব্রুয়ারি, অলিম্পিয়া দেলে তোফানের সেই ঢালে নেমে আসে এক অস্বস্তিকর নীরবতা। বরফের ওপর ছিটকে পড়েন কিংবদন্তি স্কিয়ার লিন্ডসে ভন। আর তার আর্তনাদ যেন থামিয়ে দেয় পুরো বিশ্বকে।

মাত্র এক সপ্তাহ আগে বাম হাঁটুর অ্যান্টেরিয়র ক্রুশিয়েট লিগামেন্ট (এসিএল) ছিঁড়ে যাওয়ার পরও অবিশ্বাস্য প্রত্যয়ে ২০২৬ শীতকালীন অলিম্পিকে জায়গা করে নিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু ভাগ্য যেন আরও কঠিন পরীক্ষা বেছে রেখেছিল। একই হাঁটু আবার ছিঁড়ে যায়, হাড় চূর্ণবিচূর্ণ, গোড়ালি ভাঙা—পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে ওঠে।

পরে জানা যায়, অবস্থা এতটাই সঙ্কটজনক ছিল যে চিকিৎসকদের সামনে বাস্তব আশঙ্কা ছিল—পা কেটে ফেলতে হতে পারে।

হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর ভনের কণ্ঠে ক্লান্তি, কৃতজ্ঞতা আর অবিশ্বাস মিশে ছিল। ‘সার্জন আমার পা বাঁচিয়েছেন। আমি এখন হুইলচেয়ারে। সামনে দীর্ঘ পথ। কিন্তু আমি সবসময় লড়াই করি। আফসোস নেই—আমি লড়াই করেই শেষ করতে চেয়েছিলাম।’

তার কথায় আরেকটি গভীর উপলব্ধিও ধরা পড়ে—‘যদি আগেই আমার এসিএল না ছিঁড়ত, তাহলে হয়তো সেই চিকিৎসক সেখানে থাকতেন না। তিনি আমাকে অঙ্গচ্ছেদ থেকে বাঁচিয়েছেন। সবকিছুরই হয়তো কোনো কারণ থাকে।’

চিকিৎসকদের মতে, হাড় সম্পূর্ণ জোড়া লাগতে সময় লাগবে প্রায় এক বছর। শরীরে বসানো ধাতব প্লেট ও স্ক্রু অপসারণ করা হবে কি না, তা পরবর্তীতে নির্ধারণ করা হবে। এরপর আবার অস্ত্রোপচার করে লিগামেন্ট পুনর্গঠন। দীর্ঘ, কষ্টকর, অনিশ্চিত পুনর্বাসনের পথ।

দুর্ঘটনায় শুধু হাঁটু নয়, গোড়ালিও ভেঙেছে তার। একাধিক অস্ত্রোপচারের পর প্রয়োজন হয়েছে রক্তসঞ্চালনের।

তবু এই গল্প শুধু আঘাতের নয়। এটি ফিরে আসার ইতিহাস লেখা এক নারীর গল্প।

বিশ্বকাপে ৮৪টি জয়, তিনটি অলিম্পিক পদক, আটটি বিশ্ব শিরোপা—সংখ্যাগুলো তার কৃতিত্বের মাপকাঠি। কিন্তু লিন্ডসে ভনকে আলাদা করে তার অদম্য মানসিক শক্তি। ক্যারিয়ারের বহুবার চোটে থেমে গিয়ে আবার ফিরেছেন তিনি। এবার লড়াইটা বরফের ঢালে নয়—হাসপাতালের বিছানায়, পুনর্বাসন কক্ষে, হুইলচেয়ারের ওপর।

তিনি নিজেই বলছেন, ‘জীবনে আঘাত আসবেই। সেগুলো মেনে নিয়েই এগোতে হয়।’

অলিম্পিক স্বপ্ন হয়তো আপাতত থমকে গেছে। কিন্তু লিন্ডসে ভনের গল্প শেষ হয়নি। কারণ কিংবদন্তিরা শুধু জয় নয় লড়াই করেও ইতিহাস লেখেন। 

সূত্র : এএস.কম