logo

আবারও ফিফা সভাপতি হওয়ার পথে জিয়ান্নি ইনফান্তিনো

আবারও ফিফা সভাপতি হওয়ার পথে জিয়ান্নি ইনফান্তিনো
ফিফার বর্তমান সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। ছবি: সংগৃহীত

ইউরোপীয় ফুটবল মহলে তীব্র অসন্তোষ আর একের পর এক কেলেঙ্কারির গুঞ্জন চললেও, বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার মসনদে আরও এক মেয়াদের জন্য জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর আরোহণ এখন কেবলই সময়ের ব্যাপার।

আসন্ন নির্বাচনে চতুর্থ মেয়াদের জন্য তিনি এতটাই সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন যে, তাকে চ্যালেঞ্জ জানানোর মতো কোনো প্রতিদ্বন্দ্বীই আপাতত ফুটবল মাঠে নেই।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) ব্রিটিশ গণমাধ্যম ‘দ্য গার্ডিয়ান’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফিফার ২১১টি সদস্য দেশের মধ্যে ২০০টিরও বেশি জাতীয় ফুটবল ফেডারেশন ইতোমধ্যে ইনফান্তিনোর পুনর্নির্বাচনের পক্ষে আনুষ্ঠানিক সমর্থনপত্র পাঠিয়েছে। ফলে আগামী মার্চে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ফিফা কংগ্রেসে তিনি বিপুল ব্যবধানে (ল্যান্ডস্লাইড) জয়ী হতে যাচ্ছেন।

এখনো যে অল্প কয়েকটি দেশ সমর্থনপত্র পাঠায়নি, তার মধ্যে ইউরোপের কয়েকটি দেশ রয়েছে, যার মধ্যে সবচেয়ে হাই-প্রোফাইল দেশ হলো জার্মানি। তবে বিশ্বকাপ শুরুর অনেক আগেই ইনফান্তিনোর প্রতি নিজেদের প্রকাশ্য সমর্থন জানিয়ে চিঠি দিয়েছে ইংল্যান্ডের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এফএ)।

সম্প্রতি বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে ম্যাচে মার্কিন স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগুনের লাল কার্ডের নিষেধাজ্ঞা মওকুফ করতে ফিফার ওপর ডোনাল্ড ট্রাম্পের লবিংয়ের বিষয়টি জানাজানি হয়। এ নিয়ে ফিফার ভেতর চরম অস্বস্তি ও বিতর্ক তৈরি হলেও, তার বেশিরভাগই সীমাবদ্ধ কেবল ইউরোপীয় ফুটবল ফেডারেশনগুলোর মধ্যে। কিন্তু ফিফার ক্ষমতার সমীকরণে কেবল ইউরোপের সমর্থন ছাড়াই বিশাল ম্যান্ডেট নিয়ে জিতে আসার ক্ষমতা রাখেন ইনফান্তিনো।

তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১৮ নভেম্বরের মধ্যে সভাপতি পদের জন্য প্রার্থীতা জমা দিতে হবে। এই সময়ের আগে যেকোনো দেশ চাইলে তাদের সমর্থনপত্র প্রত্যাহার বা অন্য কোনো প্রার্থীর নামে স্থানান্তর করতে পারবে। তবে এখন পর্যন্ত ইনফান্তিনোই একমাত্র প্রার্থী

তবে কিছু ফুটবল ফেডারেশনের অভিযোগ, ইনফান্তিনোর প্রতি আনুগত্য নিশ্চিত করতে ফিফার ভেতর থেকেই তাদের ওপর এক ধরনের রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগ করা হয়েছে, যা ফিফার নিজস্ব নৈতিকতা বিধিমালার পরিপন্থী।

এদিকে, শনিবার নিউইয়র্কে ফিফার সদস্য দেশগুলোর একটি জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। তবে ইনফান্তিনো নিজেই এই সভায় সভাপতিত্ব করায় সাম্প্রতিক কেলেঙ্কারিগুলো এজেন্ডায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।

ধারণা করা হচ্ছে, বিশ্বকাপের আর্থিক পারফরম্যান্স এবং ফেডারেশনগুলোর পরবর্তী তহবিল প্রাপ্তির মতো লাভজনক বিষয়গুলোই এই আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু হবে।