সৌম্যকে সিরিজের একটি ম্যাচেও না খেলানোর ব্যাখ্যা দিলেন মিরাজ

পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে বাংলাদেশ একই একাদশ নিয়ে মাঠে নামায় অনেকেরই বিস্ময় হয়েছিল। বিশেষ করে গত বছর ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের শেষ ম্যাচে সেরা খেলোয়াড় হওয়া সৌম্য সরকার পুরো সিরিজেই সুযোগ না পাওয়ায় প্রশ্ন উঠেছিল। তবে সিরিজ জয়ের পর বিষয়টি নিয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ।
মিরাজ জানান, দলের পরিকল্পনাই ছিল যাকে সুযোগ দেওয়া হবে তাকে ধারাবাহিকভাবে কয়েকটি ম্যাচ খেলানোর। তার মতে, সৌম্য আগের সিরিজে ভালো খেললেও সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাট হাতে খুব একটা ছন্দে ছিলেন না। তাই ওপেনিংয়ে পরিবর্তন আনার ঝুঁকি নিতে চায়নি টিম ম্যানেজমেন্ট।
সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সও সৌম্যের পক্ষে ছিল না। বিসিএলের ওয়ানডে সংস্করণের তিন ম্যাচের কোনোটিতেই তিনি দুই অঙ্কের রান করতে পারেননি। সিরিজ শুরুর আগে বিসিএল অল স্টারসের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচেও তিনি ২২ বলে মাত্র ১১ রান করেন। ফলে ভালো ছন্দে থাকা তানজিদ হাসান তামিমের সঙ্গে ওপেনিংয়ে সাইফ হাসানকেই রাখা হয়।
পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের তিনটি ম্যাচেই বাংলাদেশ এই তানজিদ-সাইফ জুটিকেই ওপেনিংয়ে পাঠায়। তানজিদ পরে দারুণ পারফরম্যান্স করে সিরিজ সেরার পুরস্কার জিতেছেন। যদিও সাইফ প্রথম দুই ম্যাচে বড় রান পাননি, তবু তাকে একাদশে রাখা হয়েছিল ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে।
এ বিষয়ে মিরাজ বলেন, ‘সাইফকে বসিয়ে যদি সৌম্যকে খেলাতাম তাহলে দুইটা জিনিস হতো। ওরও আত্মবিশ্বাসটা নেমে যেত। সৌম্য যদি এই ইনিংসটা আল্লাহ না করুক খারাপ খেলত তাহলে ওর জন্যও কঠিন হতো।’
বাংলাদেশ দলের ব্যাটিং পরিকল্পনা নিয়েও কথা বলেন অধিনায়ক। তিনি জানান, এখন দল চেষ্টা করছে একজন ব্যাটসম্যানকে পর্যাপ্ত সময় ও সুযোগ দিতে, যাতে সে নিজেকে প্রমাণ করার সুযোগ পায়। যদি কেউ ধারাবাহিকভাবে ভালো করতে না পারে, তখন স্বাভাবিকভাবেই জায়গা ছাড়ার বিষয়টি সামনে আসে।
এদিকে বাংলাদেশের সামনে ওয়ানডেতে গুরুত্বপূর্ণ সময় অপেক্ষা করছে। চলতি বছরে দলটির সূচিতে রয়েছে আরও প্রায় ১৯টি ওয়ানডে ম্যাচ। ২০২৭ বিশ্বকাপে সরাসরি খেলতে হলে র্যাংকিংয়ের শীর্ষ আটে থাকতে হবে, তাই প্রতিটি ম্যাচ ও সিরিজকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবেই দেখছে দল।
পাকিস্তানের বিপক্ষে ২–১ ব্যবধানে সিরিজ জয়ের পর সর্বশেষ আইসিসি ওয়ানডে র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের এক ধাপ উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বর্তমানে দশে থাকা বাংলাদেশ নবম স্থানে উঠে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।