অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে সিরিজে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ
দীর্ঘ ১৫ বছর পর মাঠে গড়াচ্ছে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচ। এই ম্যাচের লাইভ আপডেট পেতে চোখ রাখুন এখানে

বৃষ্টি ও বজ্রপাতের কারণে আর মাঠে গড়াল না খেলা। ডিএলএস পদ্ধতিতে অস্ট্রেলিয়াকে ৮৬ রানে হারিয়ে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ।
২৮৫ রানের লক্ষ্য তাড়ায় শুরু থেকেই বিপর্যয়ে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। ইনিংসের প্রথম বলেই ম্যাথু শর্টকে ফিরিয়ে বাংলাদেশকে দারুণ শুরু এনে দেন তাসকিন আহমেদ। এরপর মোস্তাফিজুর রহমান, নাহিদ রানা ও মোসাদ্দেক হোসেন নিয়মিত বিরতিতে উইকেট তুলে নিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে ম্যাচ থেকে ছিটকে দেন।
অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিংয়ে একমাত্র উল্লেখযোগ্য প্রতিরোধ গড়েন ক্যামেরন গ্রিন। তবে তাঁর ফিফটি হার এড়ানোর জন্য যথেষ্ট ছিল না। ২৮৫ রান তাড়া করতে নেমে মাত্র তিন ব্যাটার ২০ রানের বেশি করতে পারেন অস্ট্রেলিয়ার হয়ে।
বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন নাহিদ রানা। গতির ঝড়ে অস্ট্রেলিয়ার মিডল অর্ডার ভেঙে দিয়ে ৪ উইকেট নেন তিনি। সব মিলিয়ে ব্যাটিং, পেস বোলিং ও স্পিন—তিন বিভাগেই প্রায় পূর্ণাঙ্গ পারফরম্যান্সে জয় তুলে নিল বাংলাদেশ।
মাঠের আশপাশে বজ্রপাতের কারণে আপাতত খেলা বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ অনেক আগেই নিয়ে নিয়েছে বাংলাদেশ। ২৮৫ রানের লক্ষ্য তাড়ায় অস্ট্রেলিয়া ব্যাটিংয়ে পুরোপুরি বিপর্যস্ত।
ক্যামেরন গ্রিন ফিফটি করলেও অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটিংয়ের বড় প্রাপ্তি বলতে সেটিই। এই এশিয়া সফরে ব্যাট হাতে তাদের ভোগান্তি আজও কাটেনি। ইনিংসের প্রথম বলেই ম্যাথু শর্ট বোল্ড হওয়ার পর আর ম্যাচে ফিরতে পারেনি অস্ট্রেলিয়া।
শুধু তিন ব্যাটার ২০ রানের বেশি করতে পেরেছেন। ২৮৫ রান তাড়া করতে নেমে সেটি যথেষ্ট ছিল না। বাংলাদেশের হয়ে নাহিদ রানা দুর্দান্ত বোলিং করেছেন। গতির ঝড়ে অস্ট্রেলিয়ার মিডল অর্ডার ভেঙে দিয়ে ৪ উইকেট নিয়েছেন তিনি।
কয়েকটি সুযোগ হাতছাড়া হলেও সব মিলিয়ে এটি বাংলাদেশের প্রায় পূর্ণাঙ্গ পারফরম্যান্স। এখন শুধু আনুষ্ঠানিকতার অপেক্ষা।

মোসাদ্দেকের পর আবার আঘাত নাহিদ রানার। ৩১তম ওভারে লিয়াম স্কটকে ফিরিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে ৭ উইকেটে নামিয়ে আনেন তরুণ পেসার। ঘণ্টায় ১৪৬ কিলোমিটার গতির শর্ট অব লেংথ ডেলিভারিতে কাট করতে গিয়ে পয়েন্টে ক্যাচ দেন স্কট।
তাওহীদ হৃদয় সামনে ঝাঁপিয়ে মাটি থেকে ইঞ্চি কয়েক ওপরে দারুণ ক্যাচ নেন। ৪ বলে ২ রান করে ফেরেন স্কট। ৩১ ওভার শেষে অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ ৭ উইকেটে ১৩৮।
ড্রিংকস বিরতিতে অস্ট্রেলিয়ার দরকার আরও ১৪৭ রান, হাতে ১১৬ বল ও মাত্র ৩ উইকেট। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ এখন বাংলাদেশের হাতে।
ক্যারির বিদায়ের পর অস্ট্রেলিয়াকে আরও চাপে ফেলেন মোসাদ্দেক হোসেন। ৩০তম ওভারে ম্যাট রেনশকে এলবিডব্লিউ করে নিজের দ্বিতীয় উইকেট তুলে নেন তিনি।
রাউন্ড দ্য উইকেট থেকে করা মোসাদ্দেকের বল লেগ স্টাম্পের লাইনে পিচ করে। রেনশ ডিফেন্স করতে গিয়ে মিস করেন, বল লাগে পেছনের প্যাডে। আম্পায়ার আউট দেন, রেনশ রিভিউও নেননি। পরে রিপ্লেতে দেখা যায় সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল।
৪ বলে ২ রান করে ফেরেন রেনশ। ৩০ ওভার শেষে অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ ৬ উইকেটে ১৩৬।
অস্ট্রেলিয়ার রান তাড়ায় সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছিলেন অ্যালেক্স ক্যারি। শেষ পর্যন্ত তাঁকেই ফিরিয়ে বাংলাদেশকে বড় স্বস্তি এনে দেন নাহিদ রানা। ২৯তম ওভারে তাঁর দুর্দান্ত ডেলিভারিতে উইকেটকিপার লিটন দাসের হাতে ক্যাচ দেন ক্যারি।
রাউন্ড দ্য উইকেট থেকে করা নাহিদের বলটি অ্যাঙ্গেলে ঢুকে পিচ করার পর সামান্য সোজা হয়। ব্যাকফুটে খেলে বল অফ সাইডে নামাতে চেয়েছিলেন ক্যারি, কিন্তু বাইরের কানায় লেগে বল যায় লিটনের গ্লাভসে।
৬২ বলে ৪৭ রান করে ফিরেছেন ক্যারি। তাঁর ইনিংসে ছিল ৫টি চার। অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ তখন ৫ উইকেটে ১৩০।
কনোলির বিদায়ের পর অ্যালেক্স ক্যারি ও ক্যামেরন গ্রিন অস্ট্রেলিয়ার ইনিংস সামলানোর চেষ্টা করছেন। ২৪ ওভার শেষে সফরকারীদের সংগ্রহ ৪ উইকেটে ১০৫ রান।
বাংলাদেশ এ সময় স্পিন দিয়ে চাপ ধরে রাখে। মোসাদ্দেকের পর আক্রমণে আসেন তানভীর ইসলাম। নিজের প্রথম ওভারে কিছু রান দিলেও পরে লাইন ধরে রাখেন তিনি। অন্যদিকে মিরাজও রান আটকাতে ভূমিকা রাখেন।
ক্যারি তুলনামূলক স্বচ্ছন্দে খেলছেন। সুইপ, কাট ও সিঙ্গেল নিয়ে তিনি ইনিংস এগিয়ে নিচ্ছেন। গ্রিন শুরুতে সময় নিচ্ছেন, তবে উইকেট ধরে রাখাই এখন অস্ট্রেলিয়ার মূল লক্ষ্য।
বাংলাদেশের স্পিন আক্রমণে আবার ধাক্কা খেল অস্ট্রেলিয়া। মেহেদী হাসান মিরাজের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের পর সাফল্য এনে দেন মোসাদ্দেক হোসেন। ২০তম ওভারে তাঁর স্কিড করা ডেলিভারিতে বোল্ড হয়ে ফেরেন কুপার কনোলি।
কাট করতে জায়গা করে নিতে চেয়েছিলেন কনোলি। কিন্তু বল দ্রুত ঢুকে লেগ স্টাম্প ভেঙে দেয়। ৫০ বলে ৩৫ রান করে ফিরেছেন তিনি। তাঁর ইনিংসে ছিল ৫টি চার ও ১টি ছক্কা।
২৮৫ রানের লক্ষ্য তাড়ায় ২০ ওভার শেষে অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ ৪ উইকেটে ৯১। ক্রিজে আছেন অ্যালেক্স ক্যারি ও ক্যামেরন গ্রিন।
২৮৫ রানের লক্ষ্য তাড়ায় ড্রিংকস বিরতিতে অস্ট্রেলিয়া বেশ চাপে। ১৫ ওভার শেষে তাদের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ৭৬ রান। কুপার কনোলি ৪১ বলে ২৮ ও অ্যালেক্স ক্যারি ১৭ বলে ১৯ রানে ব্যাট করছেন।
শুরুর ধাক্কার পর কনোলি ও ক্যারি জুটি গড়ার চেষ্টা করছেন। তবে বাংলাদেশি পেসাররা এখন পর্যন্ত ভালো শৃঙ্খলা ধরে রেখেছেন। তাসকিন, মোস্তাফিজ ও নাহিদ তিনজনই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে চাপ তৈরি করেছেন।
ক্যারি কিছুটা ইতিবাচক ব্যাটিং করছেন। তাসকিনের এক ওভারে টানা দুই চার মেরে রান বাড়ানোর চেষ্টা করেন তিনি। তবে ২৮৫ তাড়া করতে হলে এই জুটিকে আরও অনেকটা পথ যেতে হবে অস্ট্রেলিয়ার।
শুরুর ধাক্কা সামলে জশ ইংলিস ও কুপার কনোলি জুটি গড়ার চেষ্টা করছিলেন। তবে ১১তম ওভারের প্রথম বলেই সেই জুটি ভাঙেন নাহিদ রানা। বাড়তি গতি ও বাউন্সে ইংলিসের ব্যাটের কানায় লেগে বল যায় উইকেটকিপার লিটন দাসের গ্লাভসে।
২৫ বলে ১৯ রান করে ফেরেন ইংলিস। তাঁর ইনিংসে ছিল ৩টি চার। উইকেট পাওয়ার পর বেশ উচ্ছ্বসিত ছিলেন নাহিদ, ইংলিসের সঙ্গে কিছু কথাও হয়। পরে বাংলাদেশ অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ এগিয়ে এসে পরিস্থিতি শান্ত করেন।
১১ ওভার শেষে অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ দাঁড়ায় ৩ উইকেটে ৫২ রান। বাংলাদেশি পেসারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে তখন পরিষ্কারভাবেই চাপে সফরকারীরা।
২৮৫ রানের লক্ষ্য তাড়ায় শুরুতেই বিপদে অস্ট্রেলিয়া। ইনিংসের প্রথম ওভারেই তাসকিন আহমেদ এনে দেন প্রথম সাফল্য। এরপর নিজের প্রথম ওভারেই মার্নাস লাবুশেনকে এলবিডব্লিউ করে অস্ট্রেলিয়াকে দ্বিতীয় ধাক্কা দেন মোস্তাফিজুর রহমান।
লাবুশেনের বিপক্ষে শুরুতে আম্পায়ার আউট দেননি। রিভিউ নেয় বাংলাদেশ। রিপ্লেতে দেখা যায়, বলটি বৈধ ডেলিভারি, আলট্রাএজে ব্যাটের ছোঁয়া নেই। পরে সিদ্ধান্ত বদলে আউট দেন আম্পায়ার।
৬ বলে ১ রান করে ফিরেছেন লাবুশেন। অস্ট্রেলিয়া ইনিংসের শুরুতেই চাপে।
বাংলাদেশের দেওয়া ২৮৫ রানের টার্গেটে ব্যাট করছে সফরকারী অস্ট্রেলিয়া। বাংলাদেশের ইনিংসের পর বৃষ্টির কারণে কিছুক্ষণ ম্যাচ বন্ধ ছিল।
শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের ইনিংসের নায়ক মোসাদ্দেক হোসেন। নাজমুল হোসেন শান্ত, তানজিদ হাসান তামিমদের ফিফটির পর মাঝের ওভারে চাপ তৈরি হয়েছিল। সেই চাপ সরিয়ে বাংলাদেশকে লড়াইয়ের পুঁজি এনে দেন মোসাদ্দেক।
শেষ দুই ওভারে আরও আক্রমণাত্মক হন তিনি। ৪৯তম ওভারে জেভিয়ার বার্টলেটকে সোজা বোলারের মাথার ওপর দিয়ে চার মারেন। সেই ওভারেই অ্যাডাম জাম্পা তাঁর ক্যাচ ছাড়েন শর্ট থার্ড অঞ্চলে। শেষ ওভারে লিয়াম স্কটকে রিভার্স স্কুপে চার মেরে বাংলাদেশকে ২৮০ পার করান মোসাদ্দেক।
৭০ বলে অপরাজিত ৮৬ রানের ইনিংসে মোসাদ্দেক শেষ ভাগে বাংলাদেশের রানকে সম্মানজনক জায়গায় নিয়ে গেছেন।
মোসাদ্দেক হোসেনের দারুণ ইনিংস ও শেষ দিকে তাসকিন আহমেদের কার্যকর ক্যামিওতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২৮৪ রান তুলেছে বাংলাদেশ। নির্ধারিত ৫০ ওভারে স্বাগতিকদের সংগ্রহ ৮ উইকেটে ২৮৪।
একসময় ৭ উইকেটে ২৫০ রানে থাকা বাংলাদেশ শেষ ৪ ওভারে তোলে ৩৪ রান। শেষ দিকে তাসকিন ১৬ বলে ২০ রান করে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। তাঁর ইনিংসে ছিল ২টি চার ও ১টি ছক্কা। শেষ বলে লিয়াম স্কটের ফুলটসে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন তিনি।
অন্য প্রান্তে অপরাজিত ছিলেন মোসাদ্দেক। ৭০ বলে ৮৬ রানের ঝলমলে ইনিংস খেলেছেন ডানহাতি এই ব্যাটার।
শেষ ভাগে মোসাদ্দেক হোসেনকে সঙ্গ দিচ্ছেন তাসকিন আহমেদ। তানভীর ইসলাম ৫ রানে নাথান এলিসের বলে ফিরলেও তাসকিন এসে দ্রুত রান তুলেছেন। লিয়াম স্কটের ৪৬তম ওভারে মিড উইকেটের ওপর দিয়ে দারুণ ছক্কা মারেন তিনি।
ওভার থেকে আসে ১১ রান। শেষ বলে সিঙ্গেল নিয়ে বাংলাদেশকে ২৫০ রানে পৌঁছে দেন মোসাদ্দেক। ৪৬ ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৭ উইকেটে ২৫০ রান। মোসাদ্দেক ৫৬ বলে ৬৮ ও টাসকিন ৬ বলে ৮ রানে ব্যাট করছেন।
অ্যাডাম জাম্পার ৪৪তম ওভারে ম্যাচের গতি পাল্টে দিলেন মোসাদ্দেক হোসেন। ওভার থেকে আসে ১৬ রান। প্রথম বলেই রিভার্স সুইপে চার মেরে ওয়ানডেতে নিজের সর্বোচ্চ ইনিংসের রেকর্ড গড়েন মোসাদ্দেক।
পরের বলেই ছক্কা। লং অফে ম্যাথু শর্ট দুর্দান্ত চেষ্টা করলেও বাউন্ডারি দড়ির বাইরে পা লেগে যায় তাঁর, ছক্কাই দেন আম্পায়ার। এরপর আরেকটি রিভার্স সুইপে চার মারেন মোসাদ্দেক। ৪৪ ওভার শেষে বাংলাদেশের রান দাঁড়ায় ৬ উইকেটে ২৩৫।
শেষ দশ ওভারের আবার ধাক্কা খেল বাংলাদেশ। লিয়াম স্কটের বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফিরেছেন অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। রিভিউ নিয়েও বাঁচতে পারেননি তিনি। বল ট্র্যাকিংয়ে তিন লাল দেখানোর পর ১২ বলে ৩ রান করেই ফিরতে হয় বাংলাদেশ অধিনায়ককে।

এটি স্কটের ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম উইকেট। মিরাজের বিদায়ের পর ক্রিজে এসেছেন তানভীর ইসলাম। অন্য প্রান্তে ফিফটি পূর্ণ করে ৫০ রানে অপরাজিত আছেন মোসাদ্দেক হোসেন। ৪৩ ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৬ উইকেটে ২১৯ রান।
মাঝের ওভারে চাপ সামলে বাংলাদেশকে আবার লড়াইয়ে রেখেছেন মোসাদ্দেক হোসেন। ৪১ ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৫ উইকেটে ২১৬ রান। মোসাদ্দেক ৪৯ রানে ব্যাট করছেন। নতুন ব্যাটার মেহেদী হাসান মিরাজ ১ রানে অপরাজিত।
তাওহীদ হৃদয়ের সঙ্গে পঞ্চম উইকেটে গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েছিলেন মোসাদ্দেক। অ্যাডাম জাম্পার এক ওভারে ইনসাইড আউট ড্রাইভে চার মেরে গতি বাড়ান তিনি। তবে হৃদয় ৩১ রানে ফিরলে শেষ ভাগের দায়িত্ব এখন মোসাদ্দেক-মিরাজের ওপর।
মাঠে কিছুক্ষণ গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিও ছিল। তবে খেলা বন্ধ হয়নি।
জুটি ভাঙলেন জেভিয়ার বার্টলেট। ধীরগতির বলে তাওহীদ হৃদয়কে ফিরিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে স্বস্তি এনে দিয়েছেন এই পেসার। ৪১ ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৫ উইকেটে ২১৬ রান।
বার্টলেটের ব্যাক অব দ্য হ্যান্ড স্লোয়ারে মিড অফের ওপর দিয়ে খেলতে চেয়েছিলেন হৃদয়। কিন্তু বল ঠিকমতো তুলতে পারেননি। সহজ ক্যাচ নেন নাথান এলিস। ৫১ বলে ৩১ রান করে ফিরেছেন হৃদয়।
ক্রিজে এখন মোসাদ্দেক হোসেন ও মেহেদী হাসান মিরাজ। ফিফটির অপেক্ষায় থাকা মোসাদ্দেক ৪৯ রানে অপরাজিত।
মাঝের ওভারে দ্রুত কয়েকটি উইকেট হারানোর পর তাওহীদ হৃদয় ও মোসাদ্দেক হোসেনের জুটিতে আবার গতি পেয়েছে বাংলাদেশ। ৩৪ ওভার শেষে স্বাগতিকদের সংগ্রহ ৪ উইকেটে ১৯১ রান।
নাজমুল হোসেন শান্ত ৬৭ রানে ফেরার পর ক্রিজে এসে ইতিবাচক ব্যাটিং করছেন মোসাদ্দেক। ৩১ বলে ৩৭ রানে অপরাজিত তিনি। ম্যাট রেনশর ৩৪তম ওভারে উইকেট ছেড়ে বেরিয়ে সোজা ছক্কা মেরে চাপ সরিয়েছেন এই ডানহাতি ব্যাটার। এর আগের ওভারেও জেভিয়ার বার্টলেটকে মিড অফের পাশ দিয়ে চার মেরেছিলেন তিনি।
অন্য প্রান্তে তাওহীদ হৃদয় খেলছেন ২৯ বলে ১৯ রানে। ইনিংসের প্রথম ভাগে তানজিদ হাসান তামিম ও শান্তর ফিফটির পর মাঝপথে কিছুটা চাপে পড়েছিল বাংলাদেশ। তবে হৃদয়-মোসাদ্দেক জুটি এখন শেষ ১৫ ওভারের আগে দলকে আবার ভালো অবস্থানে নিয়ে যাচ্ছে।
তানজিদ হাসান তামিমের পর এবার ফিরলেন নাজমুল হোসেন শান্তও। ম্যাট রেনশর বলে কভারের ওপর দিয়ে খেলতে গিয়ে লং অফে ক্যাচ দেন শান্ত। ভালো ক্যাচ নেন কুপার কনোলি।
৮৬ বলে ৬৭ রান করে ফিরেছেন শান্ত। তাঁর ইনিংসে ছিল ৯টি চার ও ১টি ছক্কা। শুরুতে মার্নাস লাবুশেনের হাতে জীবন পেয়েছিলেন তিনি। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ফিফটি করলেও ইনিংস বড় করতে পারলেন না বাঁহাতি ব্যাটার। বাংলাদেশের সংগ্রহ ১৪৪/৪
তানজিদ হাসান তামিমের পর দ্রুত ফিরলেন লিটন দাসও। ম্যাট রেনশর বলে নিজের বলেই ক্যাচ দিয়ে ৯ বলে ৭ রান করে আউট হয়েছেন লিটন। ২২ ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ১২৭ রান।
রেনশর ফ্লাইটেড ডেলিভারিতে উইকেট ছেড়ে বেরিয়ে সোজা খেলতে চেয়েছিলেন লিটন। কিন্তু বল ঠিকমতো তুলতে পারেননি। রেনশর ডান দিকে জোরে আসা বলটি দারুণ রিফ্লেক্সে তালুবন্দী করেন অস্ট্রেলিয়ান অফ স্পিনার।
একসময় ১ উইকেটে ১০২ রানে ছিল বাংলাদেশ। সেখান থেকে ২৫ রানের মধ্যে দুই উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়েছে স্বাগতিকরা। নাজমুল হোসেন শান্ত ৭৩ বলে ৫৯ রানে ব্যাট করছেন। নতুন ব্যাটার তাওহীদ হৃদয় ১ রানে অপরাজিত।
তানজিদ হাসান তামিমের পর এবার ফিফটি পেলেন নাজমুল হোসেন শান্তও। জেভিয়ার বার্টলেটের বলে প্যাডের ওপর থেকে স্কয়ার লেগের পেছনে ঠেলে ২ রান নিয়ে ওয়ানডেতে নিজের ১২তম ফিফটি পূর্ণ করেন শান্ত।
ফিফটি পাওয়ার পর আরও আক্রমণাত্মক হয়েছেন বাঁহাতি এই ব্যাটার। একই ওভারে জায়গা করে নিয়ে মিড অফের পাশ দিয়ে চারও মারেন তিনি। বলটি ঠিকমতো টাইমিং না হলেও ডাইভ দেওয়া ফিল্ডারকে ফাঁকি দিয়ে বাউন্ডারিতে চলে যায়।
ফিফটি পূর্ণ করার কিছুক্ষণ পরই ফিরলেন তানজিদ হাসান তামিম। নাথান এলিসের ব্যাক অব দ্য হ্যান্ড স্লোয়ার বুঝতে না পেরে মিড অনে ক্যাচ দেন বাঁহাতি ওপেনার। সহজ ক্যাচ নেন জেভিয়ার বার্টলেট।
৪৪ বলে ৫৪ রান করে ফিরেছেন তামিম। তাঁর ইনিংসে ছিল ৭টি চার ও ১টি ছক্কা। সাইফ হাসানের দ্রুত বিদায়ের পর নাজমুল হোসেন শান্তকে সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশকে শক্ত অবস্থানে নিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। বাংলাদেশের সংগ্রহ ১০৬/২
পানীয় বিরতির পরও রানের গতি ধরে রেখেছে বাংলাদেশ। ১৪.২ ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ১ উইকেটে ৯১ রান। ক্যামেরন গ্রিনকে ডিপ মিড উইকেটে চার মেরে নিজের ইনিংস এগিয়ে নিয়েছেন নাজমুল হোসেন শান্ত।
তানজিদ হাসান তামিম এখনো ফিফটির অপেক্ষায়। ৩৮ বলে ৪৮ রানে ব্যাট করছেন তিনি। শান্ত পৌঁছে গেছেন ৪৩ বলে ৩৭ রানে। সাইফ হাসানের দ্রুত বিদায়ের পর দ্বিতীয় উইকেটে তামিম-শান্তর জুটি এখন অস্ট্রেলিয়ার জন্য বড় চিন্তার কারণ হয়ে উঠেছে।
প্রথম ১০ ওভার ভালোভাবেই শেষ করল বাংলাদেশ। সাইফ হাসানের দ্রুত বিদায়ের পর তানজিদ হাসান তামিম ও নাজমুল হোসেন শান্তর জুটিতে পাওয়ার প্লে শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ১ উইকেটে ৬২ রান।
দ্বিতীয় উইকেটে এরই মধ্যে ৫০ রানের জুটি গড়েছেন তামিম ও শান্ত। ২৫ বলে ৩১ রানে ব্যাট করছেন তামিম। শান্ত অপরাজিত ৩০ বলে ২৫ রানে। শুরুতে কিছুটা সতর্ক থাকলেও দশম ওভারের প্রথম বলে লিয়াম স্কটকে সোজা বোলারের মাথার ওপর দিয়ে ছক্কা মেরে আত্মবিশ্বাসের জানান দেন শান্ত।
অস্ট্রেলিয়ার হয়ে এখন পর্যন্ত একমাত্র উইকেটটি নিয়েছেন নাথান এলিস। তাঁর বলে দ্বিতীয় ওভারে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে ৫ রানে ফিরেছিলেন সাইফ।
শুরুর ধাক্কা সামলে ভালোভাবেই এগোচ্ছে বাংলাদেশ। ৯ ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ১ উইকেটে ৫৪ রান। তানজিদ হাসান তামিম ২৪ বলে ৩০ ও নাজমুল হোসেন শান্ত ২৫ বলে ১৮ রানে ব্যাট করছেন।
সাইফ হাসান দ্রুত ফিরলেও দ্বিতীয় উইকেটে তামিম-শান্ত জুটি বাংলাদেশকে স্থিরতা এনে দিয়েছে। এর মধ্যে বেশি আক্রমণাত্মক তামিম। লিয়াম স্কটের অভিষেক ওভারে কভার দিয়ে দারুণ চার মারার পর ক্যামেরন গ্রিনের প্রথম ওভারেই ইনিংসের প্রথম ছক্কা মেরেছেন বাঁহাতি ওপেনার। গ্রিনের শর্ট বল পেয়ে দারুণ পুলে বল পাঠিয়েছেন ব্যাকওয়ার্ড স্কয়ার লেগের ওপর দিয়ে সীমানার বাইরে।
শুরুতে কিছুটা নড়বড়ে ছিলেন নাজমুল হোসেন শান্ত। নাথান এলিসের বলে বারবার পরীক্ষা দিতে হয়েছে তাঁকে। চতুর্থ ওভারে তাঁর ক্যাচও ছাড়েন মার্নাস লাবুশেন। দ্বিতীয় স্লিপে সহজ সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি অস্ট্রেলিয়ান ফিল্ডার।

সেই সুযোগের পরই কিছুটা আক্রমণাত্মক হয়েছেন শান্ত। জেভিয়ার বার্টলেটের সপ্তম ওভারে দুটি চার মেরে বাংলাদেশকে এগিয়ে নেন তিনি। প্রথমটি প্যাডের ওপর পাওয়া ফুল লেংথ বলে মিড উইকেট দিয়ে, পরেরটি উইকেট ছেড়ে বেরিয়ে লং অনের ওপর দিয়ে।
অন্য প্রান্তে তানজিদ হাসান তামিমও ইতিবাচক ব্যাটিং করছেন। তাঁর ১৯ রানের ইনিংসে আছে তিনটি চার। সাইফের দ্রুত বিদায়ের পর এই জুটিই বাংলাদেশকে প্রাথমিক ধাক্কা সামলে দিয়েছে।
শুরুতেই উইকেট হারাল বাংলাদেশ। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে নাথান এলিসের বলে দ্বিতীয় স্লিপে মার্নাস লাবুশেনের দারুণ ক্যাচে ফিরেছেন সাইফ হাসান।
ওভারের প্রথম বৈধ বলেই চার মেরেছিলেন সাইফ। তবে পরের বলেই অফ স্টাম্পের বাইরে ফুল লেংথ ডেলিভারিতে শরীর থেকে দূরে ড্রাইভ করতে গিয়ে বাইরের কানায় ক্যাচ দেন তিনি। ডান দিকে ঝাঁপিয়ে মাটি থেকে ইঞ্চি কয়েক ওপরে এক হাতে বল তালুবন্দী করেন লাবুশেন।
সাইফ ফিরেছেন ৫ বলে ৫ রান করে।
বাংলাদেশ একাদশ: তানজিদ হাসান তামিম, সাইফ হাসান, নাজমুল হোসেন শান্ত, লিটন দাস, তাওহীদ হৃদয়, মোসাদ্দেক হোসেন, মেহেদী হাসান মিরাজ, তাসকিন আহমেদ, মোস্তাফিজুর রহমান, নাহিদ রানা, তানভীর ইসলাম।
ম্যাথু শর্ট, কুপার কনোলি, জশ ইংলিস, মার্নাস লাবুশেন, অ্যালেক্স ক্যারি, ক্যামেরন গ্রিন, ম্যাট রেনশ, লিয়াম স্কট, জেভিয়ার বার্টলেট, নাথান এলিস, অ্যাডাম জাম্পা।
বাংলাদেশ অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ বলেছেন, দল খুব রোমাঞ্চিত। গত দুই-তিন সিরিজে বাংলাদেশ ভালো করেছে, এই দল নিয়েও তিনি আত্মবিশ্বাসী। উইকেট ভালো মনে হলেও প্রথম ১০ ওভার গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে বলে মনে করছেন মিরাজ। বাংলাদেশ খেলছে তিন পেসার, তিন স্পিনার, পাঁচ ব্যাটার ও দুই অলরাউন্ডার নিয়ে।

টসের সময় দু’দলের অধিনায়ক
বাংলাদেশের বিপক্ষে টস জিতে আগে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। অধিনায়ক জশ ইংলিস জানিয়েছেন, উইকেট কিছুটা অজানা হওয়ায় শুরুতে পেসারদের জন্য সহায়তা থাকতে পারে।