ভারত-পাকিস্তানের খেলোয়াড়দের সম্পর্ক নিয়ে শঙ্কা সাকলাইনের

ভারত ও পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের মধ্যে একসময় মাঠের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার পাশাপাশি মাঠের বাইরে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক ছিল—এমন স্মৃতিই এখন ইতিহাস হয়ে যাচ্ছে বলে মনে করছেন পাকিস্তানের সাবেক স্পিনার সাকলাইন মুশতাক। সাম্প্রতিক সময়ের ঘটনাপ্রবাহে দুই দেশের ক্রিকেটারদের মধ্যে দূরত্ব বাড়তে থাকায় তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, আগের সেই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক হয়তো আর কখনোই ফিরে আসবে না।
একটি ক্রীড়া অনুষ্ঠানে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সাকলাইন বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে দুই দেশের খেলোয়াড়দের মধ্যে যে শীতলতা তৈরি হয়েছে, সেটিই হয়তো ভবিষ্যতের স্বাভাবিক চিত্র হয়ে দাঁড়াবে। তার ভাষায়, ‘পুরোনো সেই খেলাধুলার স্পিরিট আর ফিরে আসবে বলে মনে হয় না। বিষয়গুলো অনেক দূর গড়িয়েছে। কেউ কেউ ইচ্ছাকৃতভাবেই এই দূরত্ব ধরে রাখতে চায় নিজেদের রাজনীতির স্বার্থে।’
১৯৯০ ও ২০০০-এর দশকে ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেট দ্বৈরথের স্বর্ণযুগের অন্যতম অংশ ছিলেন সাকলাইন। সে সময় পাকিস্তানের ওয়াসিম আকরাম, ইনজামাম-উল-হক, সাঈদ আনোয়ারদের সঙ্গে ভারতের শচীন টেন্ডুলকার, সৌরভ গাঙ্গুলি বা রাহুল দ্রাবিড়দের পারস্পরিক সম্মান ও সৌহার্দ্য ক্রিকেটবিশ্বে আলোচিত ছিল। বিশেষ করে ২০০৪ সালে ভারতের পাকিস্তান সফরে দুই দেশের খেলোয়াড়দের আন্তরিকতা ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছিল।
তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে করমর্দন এড়িয়ে যাওয়া, ট্রফি গ্রহণে অনীহা কিংবা মাঠের বাইরে ন্যূনতম সৌজন্য বিনিময়ের অভাব—এসব ঘটনাকে তিনি দুঃখজনক হিসেবে উল্লেখ করেন। তার মতে, ক্রিকেটের মূল বার্তাই হলো শান্তি ও ঐক্য, অথচ এখন সেটি রাজনীতির চাপে ম্লান হয়ে যাচ্ছে।
সাকলাইন আরও বলেন, সাবেক ক্রিকেটারদেরও দায়িত্বশীল আচরণ করা উচিত। ঘৃণা বা বিভাজন ছড়ানোর বদলে খেলাটির ইতিবাচক দিক তুলে ধরা প্রয়োজন। তার মন্তব্য, ‘ক্রিকেটাররা সবার জন্য নায়ক। তারা সীমান্তের এপাশ-ওপাশ নয়, সবার হৃদয়ে জায়গা করে নেয়। তাই তাদের কথাবার্তায়ও সেই উদারতা থাকা জরুরি।’
দুই দেশের রাজনৈতিক টানাপোড়েনের প্রভাব যে ক্রিকেট সম্পর্কেও স্পষ্ট হয়ে উঠছে—সাকলাইনের বক্তব্যে সেই উদ্বেগই ফুটে উঠেছে। তার আশঙ্কা, যদি পরিস্থিতির পরিবর্তন না ঘটে, তবে ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেটারদের ঐতিহ্যবাহী বন্ধুত্ব হয়তো কেবল স্মৃতিতেই সীমাবদ্ধ থাকবে।
সূত্র : হিন্দুস্তান টাইমস