Advertisement

‘বাংলাদেশ, ওয়াও’: ঐতিহাসিক জয়ে মুগ্ধ ক্রিকেটবিশ্ব

এশিয়া পোস্ট স্পোর্টস
‘বাংলাদেশ, ওয়াও’: ঐতিহাসিক জয়ে মুগ্ধ ক্রিকেটবিশ্ব
বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। ছবি: সংগৃহীত

অস্ট্রেলিয়াকে তাদের মাটিতে প্রথমবার টেস্টে হারিয়ে শুধু ইতিহাসই গড়েনি বাংলাদেশ, আলোড়ন তুলেছে ক্রিকেটবিশ্বেও। ডারউনে নাজমুল হোসেন শান্তদের ৯ উইকেটের জয়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিনন্দনের ঢল নামে। উসমান খাজা, ইয়ান বিশপ, কেভিন পিটারসেন, রবিচন্দ্রন অশ্বিন থেকে ডেমিয়েন ফ্লেমিং, সবার প্রতিক্রিয়ায় ঘুরেফিরে এসেছে বাংলাদেশের শৃঙ্খলা, সাহস ও সামর্থ্যের কথা।

Advertisement

অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অভিজ্ঞ ওপেনার উসমান খাজার মন্তব্যেই মিলেছে বড় স্বীকৃতি। ফেসবুকে তিনি লিখেছেন, ‘বাংলাদেশকে অভিনন্দন। কী অসাধারণ জয়! টেস্ট ক্রিকেট ঠিক এ কারণেই বিশেষ। বাংলাদেশ কেন একটি টেস্ট জাতি, সেটিও এই জয় দেখিয়ে দিল। অনেক সম্মান।’

ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংবদন্তি পেসার ও জনপ্রিয় ধারাভাষ্যকার ইয়ান বিশপ এটিকে বাংলাদেশ ক্রিকেট এবং দেশের মানুষের জন্য ‘বিশাল অর্জন’ হিসেবে দেখছেন। তার মতে, আগে যাঁদের কাছ থেকে বাংলাদেশ যথেষ্ট স্বীকৃতি পায়নি, তাঁদেরও এখন প্রাপ্য সম্মান দিতে হবে।

জয়ের পেছনে একাধিক ক্রিকেটারের অবদানের কথা বললেও বিশপ আলাদাভাবে তুলে ধরেছেন হাসান মাহমুদকে। তিনি লিখেছেন, সুস্থ থাকলে হাসান কয়েক বছর ধরেই খুব ভালো লাইন বোলার। তার বোলিং অ্যাকশন কার্যকর ও সুন্দর। কোচ ফিল সিমন্স এবং পুরো দলের জন্যও নিজের আনন্দের কথা জানিয়েছেন বিশপ।

বাংলাদেশের সাবেক ব্যাটিং পরামর্শক ও ভারতের সাবেক ওপেনার ওয়াসিম জাফরের চোখে এই জয় বিশ্ব ক্রিকেটে বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়ার ঘোষণা। তিনি লিখেছেন, ‘কী অসাধারণ জয়! অস্ট্রেলিয়াকে তাদের মাটিতে প্রথমবার হারানো বাংলাদেশের ক্রিকেটে ঐতিহাসিক অর্জন এবং বিশাল মুহূর্ত।’

তানজিদ হাসান, হাসান মাহমুদ, মেহেদী হাসান মিরাজ ও অধিনায়ক শান্তকে বিশেষ কৃতিত্ব দিয়ে জাফর যোগ করেন, ‘এটি শুধু একটি জয় নয়, বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের বেড়ে ওঠার ঘোষণা। অবিশ্বাস্য এক অঘটন!’

ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক কেভিন পিটারসেনের বিস্ময় প্রকাশ পেয়েছে মাত্র দুই শব্দে। বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত হওয়ার পর এক্সে তিনি লিখেছেন, ‘বাংলাদেশ, ওয়াও!’

ভারতের কিংবদন্তি অফ স্পিনার রবিচন্দ্রন অশ্বিনও বাংলাদেশের পারফরম্যান্সে মুগ্ধ। তার প্রতিক্রিয়া, ‘বাংলাদেশের কাছ থেকে দুর্দান্ত ক্রিকেট। নির্দিষ্ট টেস্ট কেন্দ্রের গুরুত্বও আবার বোঝা গেল। ডারউনের কন্ডিশন অস্ট্রেলিয়ানদের চমকে দিয়েছে।’

অস্ট্রেলিয়ার সাবেক পেসার ডেমিয়েন ফ্লেমিংয়ের মূল্যায়ন আরও তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি লিখেছেন, ‘ডারউন এখন বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের একটি অধ্যায়। দারুণ করেছে বাংলাদেশ। কঠিন টেস্ট ক্রিকেট, দৃঢ়তা, শৃঙ্খলা ও দক্ষতা।’

স্বাগতিকদের পরাজয়ের ব্যাপ্তি বোঝাতে ফ্লেমিং যোগ করেন, ‘দীর্ঘদিনে ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়াকে এত বড় ধাক্কা খেতে দেখিনি। দ্বিতীয় টেস্টে তাদের জবাব দেখার অপেক্ষায় থাকলাম।’

অস্ট্রেলিয়ার নারী ক্রিকেটের কিংবদন্তি ও আইসিসি হল অব ফেমার লিসা স্থালেকারও বাংলাদেশকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের খেলা দেখে সিরিজটি ধারণার চেয়ে বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হবে বলে আগেই মনে হয়েছিল তার। অস্ট্রেলিয়ার ওপর এভাবে চাপ তৈরি করার জন্য শান্তদের প্রশংসা করেছেন তিনি।

দেশের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল লিখেছেন, ‘এই মুহূর্তটি অনেক দিন মনে রাখা হবে। অভিনন্দন বাংলাদেশ।’

ডারউন টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার প্রথম ইনিংস ১৯৮ রানে গুটিয়ে দেওয়ার পর বাংলাদেশ করে ৪২৬ রান। দ্বিতীয় ইনিংসে স্বাগতিকেরা ২৮৪ রান করলে বাংলাদেশের লক্ষ্য দাঁড়ায় ৫৭। মাত্র এক উইকেট হারিয়েই সেই লক্ষ্য পেরিয়ে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথম টেস্ট জয় নিশ্চিত করে শান্তর দল।

ম্যাচে ৯ উইকেট নিয়ে সেরা খেলোয়াড় হন হাসান মাহমুদ। তানজিদের শতক, শান্তর ৮৪ রান এবং মিরাজের অলরাউন্ড নৈপুণ্যও ঐতিহাসিক জয়ে রাখে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। দুই ম্যাচের সিরিজে বাংলাদেশ এখন ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে।

‘বাংলাদেশ, ওয়াও’: ঐতিহাসিক জয়ে মুগ্ধ ক্রিকেটবিশ্ব