বিশ্বকাপ বয়কট করার মতো অবস্থান পাকিস্তানের নেই : অজিঙ্কা রাহানে

বাংলাদেশ–আইসিসি বিতর্ক ঘিরে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বয়কটের হুমকি দিলেও শেষ পর্যন্ত পাকিস্তান টুর্নামেন্ট থেকে সরে দাঁড়াবে না—এমনটাই মনে করেন ভারতের সাবেক অভিজ্ঞ ব্যাটার অজিঙ্কা রাহানে। তার মতে, বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চ থেকে সরে যাওয়ার মতো অবস্থান বা সাহস কোনটিই নেই পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি)।
ক্রিকবাজে দেওয়া এক মন্তব্যে রাহানে বলেন, পাকিস্তান বাস্তবে এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন না। তার ভাষায়, ‘আমি মনে করি না তারা এটা করবে। বিশ্বকাপ বয়কট করার মতো অবস্থানে তারা নেই।’
সম্প্রতি বাংলাদেশকে টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনায় আইসিসির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে পাকিস্তানও টুর্নামেন্ট বর্জনের ইঙ্গিত দেয়। পিসিবি জানায়, বাংলাদেশের প্রতি সংহতি জানিয়ে তারা নিজেদের অংশগ্রহণ নিয়েও পুনর্বিবেচনা করতে পারে। এমনকি ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ না খেলার সম্ভাবনাও নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়।
পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নকভি জানান, ফেব্রুয়ারির শুরুতেই পাকিস্তানের অংশগ্রহণ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বিভিন্ন সূত্রের বরাতে জানা গেছে, সরকারের অনুমতি পেলেই পাকিস্তান দল শ্রীলঙ্কায় সফরের সবুজ সংকেত পেতে পারে।
রাহানের মতে, বাস্তবতা বিবেচনায় পাকিস্তানের পক্ষে বয়কট কার্যকর করা কঠিন। কারণ, বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ালে পিসিবিকে বড় আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হতে পারে। পাশাপাশি আইসিসির পক্ষ থেকে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা, এমনকি ভবিষ্যৎ এশিয়া কাপ থেকে বাদ পড়ার ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে। এসব কারণেই পাকিস্তান খুব বেশি কঠোর অবস্থান নিতে পারবে না বলে মনে করেন তিনি।
বাংলাদেশ–আইসিসি ইস্যুর পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে ভারত ও পাকিস্তানের ক্রিকেট সম্পর্কও বেশ উত্তপ্ত। বিভিন্ন টুর্নামেন্টে মুখোমুখি ম্যাচ নিয়ে টানাপোড়েন, রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং পারস্পরিক অভিযোগ–পাল্টা অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
তবে সব নাটকীয়তার মাঝেও রাহানের বক্তব্য স্পষ্ট—টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চ থেকে পাকিস্তানের সরে দাঁড়ানো বাস্তবসম্মত নয়। তার মন্তব্য নতুন করে আলোচনায় এনে দিয়েছে, পিসিবির হুমকি কতটা কৌশলগত এবং কতটা বাস্তব সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত।
টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার কথা আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি, ভারত ও শ্রীলঙ্কায় যৌথভাবে আয়োজিত এই টুর্নামেন্টে পাকিস্তানের অংশগ্রহণ নিয়ে এখন সবার নজর পিসিবি ও দেশটির সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকে।