ধসের পর লিটন-তাইজুলের জুটিতে দ্বিতীয় সেশন শেষ বাংলাদেশের

সিলেট টেস্টের দ্বিতীয় সেশনের শুরুতে হঠাৎ ধসে পড়েছিল বাংলাদেশের ইনিংস। ৩ উইকেটে ১০১ থেকে দ্রুত ৬ উইকেটে ১১৬—সিলেট টেস্টে তখন বড় বিপদের মুখে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। তবে সেই চাপের মধ্যেই সপ্তম উইকেটে লিটন দাস ও তাইজুল ইসলাম কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে বাংলাদেশকে চা বিরতি পর্যন্ত আর কোনো ক্ষতি হতে দেননি।
চা বিরতিতে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৫৪ ওভারে ৬ উইকেটে ১৬৮ রান। লিটন দাস ৪২ রানে অপরাজিত, তাইজুল ইসলাম অপরাজিত ১১ রানে। সপ্তম উইকেটে দুজনের অবিচ্ছিন্ন ৫২ রানের জুটিই বাংলাদেশকে অন্তত দুই শ রানের দিকে তাকানোর মতো অবস্থায় রেখেছে।
লাঞ্চে বাংলাদেশ ছিল ৩ উইকেটে ১০১ রানে। ক্রিজে ছিলেন শান্ত ও মুশফিকুর রহিম। চতুর্থ উইকেটে ৩৮ রানের জুটিতে তারা প্রথম সেশনের ধাক্কা সামলে দিয়েছিলেন। কিন্তু বিরতির পর পাকিস্তানের বোলাররা চাপ বাড়াতে শুরু করেন। মোহাম্মদ আব্বাস ও সাজিদ খান রান আটকে দেন, আর সেই চাপের সুযোগ নেন খুররম শাহজাদ।
প্রথমে শান্তর ইনিংস থামে ২৯ রানে। এরপর মুশফিকুর রহিমকে এলবিডব্লু করেন খুররম। রিভিউ নিয়েও বাঁচতে পারেননি মুশফিক; বল লেগ স্টাম্প ছুঁয়ে যাওয়ায় আম্পায়ারের সিদ্ধান্তই বহাল থাকে। ৬৪ বলে ২৩ রান করেন অভিজ্ঞ এই ব্যাটসম্যান।
মুশফিকের পর দ্রুত ফেরেন মেহেদী হাসান মিরাজও। খুররমের শর্ট বল হুক করতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারান তিনি। ডিপ ফাইন লেগে সামনে ঝাঁপিয়ে দারুণ ক্যাচ নেন হাসান আলী। ৬ বলে ৪ রান করে ফেরেন মিরাজ। তখন বাংলাদেশের স্কোর ৬ উইকেটে ১১৬।
সেই জায়গা থেকে লিটন দায়িত্ব নেন। শুরুর দিকে সতর্ক থাকলেও পরে সুযোগ পেলে রান তুলেছেন। হাসান আলীকে স্কয়ার কাটে চার, লেগ সাইডে পুল—চাপের মধ্যেও কয়েকটি আত্মবিশ্বাসী শট খেলেছেন তিনি। ৪৯তম ওভারে অবশ্য ব্যক্তিগত ৩৩ রানে জীবন পান লিটন। সাজিদ খানের বলে এগিয়ে এসে সোজা বোলারের দিকেই শট খেলেছিলেন, কিন্তু কঠিন ক্যাচটি ধরতে পারেননি সাজিদ।
তাইজুলও লিটনকে গুরুত্বপূর্ণ সঙ্গ দিয়েছেন। পাকিস্তান শর্ট বলের পরীক্ষা নিয়েছে, একবার হাসান আলীর বাউন্সার তার হেলমেট গ্রিলে লাগে। বাধ্যতামূলক কনকাশন পরীক্ষা হলেও তাইজুল ব্যাটিং চালিয়ে যান। তার ৩০ বলের ১১ রানের ইনিংসটি সংখ্যায় ছোট, কিন্তু ম্যাচের পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ।
পাকিস্তানের হয়ে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে সফল খুররম শাহজাদ। ১১ ওভারে ৪৭ রান দিয়ে নিয়েছেন ৩ উইকেট। মোহাম্মদ আব্বাস নিয়েছেন ২ উইকেট। সাজিদ খান উইকেট না পেলেও ২০ ওভারে ৫০ রান দিয়ে এক প্রান্ত থেকে চাপ ধরে রেখেছেন।
এর আগে টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই মাহমুদুল হাসান জয়কে হারায় বাংলাদেশ। অভিষিক্ত তানজিদ হাসান ২৬ ও মুমিনুল হক ২২ রান করলেও কেউ বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। লাঞ্চের পর ধসে পড়া ইনিংসকে আপাতত বাঁচিয়ে রেখেছেন লিটন ও তাইজুল।
মিরপুরে প্রথম টেস্ট জিতে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে বাংলাদেশ। সিলেটে সিরিজ জিততে হলে প্রথম ইনিংসে যত বেশি সম্ভব রান দরকার। চা বিরতির আগে লিটন-তাইজুলের প্রতিরোধ সেই আশাটুকু অন্তত বাঁচিয়ে রেখেছে।
