অস্ট্রেলিয়া জয়ের পুরো কৃতিত্ব দলকে দিলেন তামিম, বোনাস নিয়ে রাখলেন রহস্য

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ঐতিহাসিক টেস্ট জয় বাংলাদেশের ক্রিকেটে এনে দিয়েছে অন্যরকম এক মুহূর্ত। ডারউনে স্বাগতিকদের ৯ উইকেটে হারানোর পর ক্রিকেটার, কোচিং স্টাফ ও নির্বাচকদেরই এই সাফল্যের পুরো কৃতিত্ব দিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি তামিম ইকবাল। তার ভাষায়, এই জয়ের ‘১০০০ শতাংশ’ কৃতিত্ব দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের।
ম্যাচ শেষ হওয়ার পর ক্রিকেটারদের সঙ্গে কথা বলেন তামিম। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভিডিও কলে বাংলাদেশ দলকে অভিনন্দন জানানোর সময়ও সেখানে ছিলেন বিসিবি সভাপতি। পরে ঢাকায় সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট জয় নিয়ে নিজের উচ্ছ্বাসের কথা জানান তিনি।
দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারেও অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট খেলার সুযোগ হয়নি তামিমের। এবার বিসিবি সভাপতি হিসেবে দেখলেন বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়। তবে সাফল্যে বোর্ডের ভূমিকা সামনে আনতে চাননি সাবেক এই অধিনায়ক।
তামিম বলেন, ‘যেকোনো দলের জন্য অস্ট্রেলিয়ায় খেলা অনেক কঠিন। ২৩ বছর পর ওখানে গিয়ে যেভাবে ক্রিকেট খেলে বাংলাদেশ দল জিতেছে, তার কৃতিত্ব ১০০০ শতাংশ তাদের। খেলোয়াড়, টিম ম্যানেজমেন্ট, নির্বাচক, সবাইকে কৃতিত্ব দিতে হয়।’
বোর্ডের দায়িত্ব মূলত দলকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া বলেও মনে করেন তামিম, ‘আমরা বোর্ডে শুধু তাদের সহায়তা করতে, সুযোগ-সুবিধা দিতে ও গাইড করতে আছি। এই অর্জনে অন্য কারও কৃতিত্ব নেই, এটি সম্পূর্ণ টিম ম্যানেজমেন্ট, নির্বাচক এবং খেলোয়াড়দের।’
ডারউনের এই জয় পরিসংখ্যানের দিক থেকেও বিশেষ। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ৯ উইকেটের এই জয় উইকেটের ব্যবধানে কোনো এশিয়ান দলের সবচেয়ে বড় টেস্ট জয়। এমন সাফল্যের পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে ক্রিকেটারদের জন্য বিসিবির পক্ষ থেকে বিশেষ বোনাস থাকবে কি না।
তবে সেই অঙ্ক প্রকাশ করতে চাননি বিসিবি সভাপতি। তামিম বলেন, ‘বোনাসের বিষয়টা আমাদের মধ্যেই থাকুক। আমরা খেলোয়াড়দের সঙ্গে এটা নিয়ে আলোচনা করব।’
দলের অর্জনে বোর্ড গর্বিত জানিয়ে তামিম আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড হিসেবে আমরা খেলোয়াড়দের এই অর্জনে অত্যন্ত গর্বিত। আশা করি বাংলাদেশ ক্রিকেট এখান থেকে আরও এগিয়ে যাবে। এই জয়টি আন্তর্জাতিকভাবে একটি বড় বার্তা দেবে। এটা শুধু একটি জয় নয়, একটা শক্তিশালী বার্তা। আমরা সবাই খুব খুশি।’
অস্ট্রেলিয়ায় এই জয়ের পর বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের বর্তমান চক্রের পয়েন্ট তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থানও শক্ত হয়েছে। সামনে ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি করে টেস্ট খেলবে বাংলাদেশ। দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতেও রয়েছে দুই ম্যাচের সিরিজ।
নিজেদের মাঠের চার টেস্টে ভালো ফল করতে পারলে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালের দৌড়েও থাকার সুযোগ তৈরি হতে পারে বাংলাদেশের। যদিও এখনই এত দূর ভাবতে চান না তামিম।
বিসিবি সভাপতি বলেন, ‘তারা যেভাবে খেলছে তাতে যেকোনো কিছু সম্ভব। আমি খুব বেশি দূরের চিন্তা করতে চাই না। এটা টিম ম্যানেজমেন্ট ও খেলোয়াড়দের কাজ, তারা এটি নিয়ে ভাববে।’
ডারউনের ঐতিহাসিক জয় তাই শুধু একটি টেস্টের ফল হিসেবেই দেখছেন না তামিম। তার চোখে, অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে পাওয়া এই সাফল্য বিশ্ব ক্রিকেটে বাংলাদেশের সামর্থ্যের নতুন বার্তাও দিয়েছে।



