logo

বড় দলগুলোর বিপক্ষে বেশি টেস্ট খেলতে চাই: শান্ত

বড় দলগুলোর বিপক্ষে বেশি টেস্ট খেলতে চাই: শান্ত
নাজমুল হোসেন শান্ত। ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তানকে ২-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ করার পরও নাজমুল হোসেন শান্তর ভাবনা শুধু এই সাফল্যে আটকে নেই। বাংলাদেশ অধিনায়ক এখন তাকিয়ে আছেন আরও বড় পরীক্ষার দিকে। তার চাওয়া, অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড ও ভারতের মতো দলের বিপক্ষে নিয়মিত টেস্ট খেলুক বাংলাদেশ, দেশে এবং দেশের বাইরে।

সিলেটে পাকিস্তানকে ৭৮ রানে হারিয়ে সিরিজ নিশ্চিত করার পর সংবাদ সম্মেলনে শান্ত বলেন, ‘আমরা টেস্ট ম্যাচ খেলতে চাই আসলে। আমরা প্রত্যেকটা দলের সঙ্গে খেলতে চাই। আমার মনে হয়, এখন অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, ইন্ডিয়া, এই টিমগুলোর সঙ্গে আমরা বেশি বেশি টেস্ট খেলতে চাই। হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে বোথ।’

শান্তর মতে, বড় দলগুলোর বিপক্ষে নিয়মিত খেলার অভিজ্ঞতাই বাংলাদেশকে টেস্টে আরও পরিণত করবে। একই দল ও একই কন্ডিশনে বারবার খেললে দল গড়ে ওঠা কঠিন বলেও মনে করেন তিনি। বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেন, ‘আমরা যখন ম্যাচ খেলার সুযোগ পাব, ওই নতুন এক্সপেরিয়েন্সগুলো আমাদের যখন হবে, তখনই টিম আস্তে আস্তে বিল্ড করবে। আদারওয়াইজ একই দলের সঙ্গে বারবার খেলা, একই কন্ডিশনে খেলা, এটাতে আসলে টিম বিল্ড করাটা কঠিন।’

পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ জয় বাংলাদেশের জন্য বড় অর্জন হলেও শান্ত এটিকে শেষ গন্তব্য ভাবছেন না। তার চোখে, এই সিরিজ বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের চলমান উন্নতির একটি ধাপ মাত্র। তিনি বলেন, ‘আগাচ্ছে আস্তে আস্তে। লাস্ট দুই-তিন বছর ধরে আমি বলবো, ইমপ্রুভ হচ্ছে। বাট স্টিল আরও উন্নতির জায়গা আছে।’

সামনের চ্যালেঞ্জ হিসেবেও শান্ত বড় দলগুলোর কথাই টেনেছেন। বিশেষ করে দক্ষিণ আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজে বাংলাদেশ কতটা প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ক্রিকেট খেলতে পারে, সেটিকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন তিনি। শান্তর ভাষায়, ‘আমরা যখন আরও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ব, স্পেশালি সাউথ আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়ার সাথে আমাদের খেলা আছে, ওই জায়গায় আমরা কত কম্পিটিটিভ ক্রিকেট খেলতে পারতেছি, এই জায়গাগুলো ইম্পর্ট্যান্ট।’

তবে পাকিস্তান সিরিজে বাংলাদেশের উন্নতির কিছু স্পষ্ট দিকও দেখেছেন অধিনায়ক। দুই টেস্ট মিলিয়ে পুরো দশ দিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা তার কাছে বড় ব্যাপার। অতীতে বাংলাদেশ নিয়মিতভাবে পাঁচ দিন পাঁচ দিন করে টেস্ট খেলতে পারেনি বলেও মনে করিয়ে দেন তিনি। শান্ত বলেন, ‘১০ দিনের একটা টেস্ট ম্যাচ খেলতে পেরেছি, দুইটা। এটা অবশ্যই প্রাউডের ব্যাপার। নরমালি আমরা এভাবে পাঁচ দিন পাঁচ দিন করে ক্রিকেট খুব একটা খেলিনি অতীতে।’

চাপের মুহূর্ত সামলানোর জায়গাতেও উন্নতি দেখছেন শান্ত। শেষ দিনে পাকিস্তান যখন মোহাম্মদ রিজওয়ান ও সাজিদ খানের ব্যাটে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করছিল, তখন বাংলাদেশ কিছুটা চাপে পড়েছিল। তবে আগের তুলনায় দল এখন আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে বলে মনে করেন তিনি। শান্ত বলেন, ‘আগের টেস্ট ম্যাচগুলোর থেকে আস্তে আস্তে এখন ইমোশনটা কন্ট্রোল করা, প্যানিক না করা, এই জিনিসটা একটু বেটার হয়েছে।’

উন্নতির জায়গাও পরিষ্কার করে দিয়েছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। পেসারদের প্রশংসা করলেও নতুন বলে আরও নিয়ন্ত্রিত বোলিং চান তিনি। একই সঙ্গে টপ অর্ডারের কাছ থেকে বড় ইনিংস ও বড় জুটি প্রত্যাশা করছেন শান্ত। তার কথায়, ‘নতুন বলে আরেকটু বেটার বোলিং করতে পারি। আমরা অনেক রান লিক করে ফেলি...টপ অর্ডারদের মধ্যে যদি বড় রান কেউ করতে পারে, তাহলে টিমটা আরও বেটার অবস্থানে থাকবে।’

পাকিস্তান সিরিজে বাংলাদেশের পাঁচ বোলার নিয়ে খেলার সাহসকেও বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন শান্ত। তার মতে, টেস্ট জিততে হলে ২০ উইকেট নেওয়ার মতো বোলিং অপশন দরকার। শান্ত বলেন, ‘টেস্ট ম্যাচ জিততে হলে আপনার পাঁচটা বোলার লাগবে। ২০ উইকেট নিতে হলে আপনার বোলিং অপশন থাকতেই হবে।’

এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কৃতিত্ব ব্যাটসম্যানদেরও দিচ্ছেন অধিনায়ক। ব্যাটসম্যানরা বড় রান করলে বোলাররা আক্রমণ করার স্বাধীনতা পান বলে মনে করেন তিনি। শান্ত বলেন, ‘ব্যাটসম্যানরা লম্বা রান করছে, বড় রান করছে বলেই বোলারদের ওই কুশনটা দিতে পারতেছি।’

পাকিস্তানের বিপক্ষে জয়ের পর তাই অতিরিক্ত উচ্ছ্বাসে ভেসে যেতে চান না শান্ত। বরং সামনে আরও কঠিন পরীক্ষা মাথায় রেখে ভুলগুলো ঠিক করার কথাই বলছেন তিনি। বাংলাদেশ অধিনায়কের বার্তা পরিষ্কার, ‘আশা করব অনেক বেশি এক্সাইটেড আমরা না হয়ে যাই। সামনের টেস্ট আসার আগে সুন্দরভাবে প্রস্তুতি নিয়ে ভুলগুলো ঠিক করতে হবে, আর এই হেলদি কম্পিটিশনটা যেন চলতেই থাকে।’ দরকার।