logo

মাদুশঙ্কার তোপে ১১০ রানে অলআউট পাকিস্তান, বড় জয়ে ফাইনালে শ্রীলঙ্কা

মাদুশঙ্কার তোপে ১১০ রানে অলআউট পাকিস্তান, বড় জয়ে ফাইনালে শ্রীলঙ্কা
শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট দল। ছবি: গেটি ইমেজ

আগের তিন ম্যাচেই জয়। ইংল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের ফাইনালও নিশ্চিত করেছিল পাকিস্তান। কিন্তু সেই অপরাজিত যাত্রা থেমে গেল নিজেদের মাঠে ব্যাটিং বিপর্যয়ে। দিলশান মাদুশঙ্কার ক্যারিয়ারসেরা বোলিংয়ে মাত্র ১১০ রানে গুটিয়ে গেছে স্বাগতিকরা। ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে কামিন্দু মেন্ডিসের অপরাজিত ফিফটিতে ৮ উইকেটের অনায়াস জয় পেয়েছে শ্রীলঙ্কা। হাতে তখনো বাকি ছিল ১৯১ বল। এই জয়ে পাকিস্তানের সঙ্গে ফাইনাল নিশ্চিত করেছে লঙ্কানরাও। বিদায় নিয়েছে ইংল্যান্ড।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের পঞ্চম ম্যাচে টস জিতে পাকিস্তানকে ব্যাটিংয়ে পাঠায় শ্রীলঙ্কা। শুরু থেকেই লঙ্কান বোলারদের তোপের মুখে পড়ে স্বাগতিকরা। শেষ পর্যন্ত মাত্র ২৫.৩ ওভারে ১১০ রানে অলআউট হয় পাকিস্তান। জবাবে ১৮.১ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে ১১৪ রান তুলে জয় নিশ্চিত করে শ্রীলঙ্কা।

পাকিস্তানের ব্যাটিং বিপর্যয়ের শুরুটা করেন মাদুশঙ্কা। ইনিংসের চতুর্থ ওভারে দলীয় ১১ রানে ফখর জামানকে ফেরান এই বাঁহাতি পেসার। ১৩ বলে মাত্র ৫ রান করেন ফখর। এরপর আসিথা ফার্নান্দোর বলে এলবিডব্লিউ হয়ে ফেরেন মাজ সাদাকাত। তাঁর ব্যাট থেকে আসে ১১ বলে ৮ রান।

দুই ওপেনারকে হারানোর পর বাবর আজম ও সাদ বেগের ব্যাটে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে পাকিস্তান। তবে সেই জুটিও বেশি দূর এগোয়নি। দলীয় ৪৬ রানে সাদকে ফিরিয়ে আবারও আঘাত হানেন মাদুশঙ্কা। ৮ বলে ৫ রান করে আউট হন পাকিস্তানের উইকেটরক্ষক ব্যাটার।

এরপর আরও বড় বিপর্যয়ে পড়ে স্বাগতিকরা। দলীয় ৬১ রানে পরপর দুই উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে কার্যত ছিটকে যায় পাকিস্তান। প্রথমে সালমান আলী আগাকে ফেরান সাহান আরাচ্চিগে। আগের ম্যাচগুলোতে ব্যাট হাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা সালমান এবার করেন মাত্র ৯ রান।

এরপরের ওভারের প্রথম বলেই বাবর আজমকে এলবিডব্লিউ করেন এশান মালিঙ্গা। ৩৩ বলে ৫টি চারে ২৯ রান করেন বাবর। এটিই পাকিস্তানের ইনিংসে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ সংগ্রহ।

বাবরের বিদায়ের পরও থামেনি উইকেট পতন। দলীয় ৬৪ রানে আরাচ্চিগের দ্বিতীয় শিকার হন শাদাব খান। মাত্র ৫ বলে ২ রান করে ফেরেন তিনি। আগের ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে পাকিস্তানকে নাটকীয় জয় এনে দেওয়া শাদাব এবার ব্যাট হাতে ব্যর্থ।

৬৪ রানে ৬ উইকেট হারানোর পর হাসান নওয়াজ ও আরাফাত মিনহাস কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন। দুজনের সপ্তম উইকেট জুটিতে আসে ২৭ রান। তবে সেই জুটি ভেঙে আবারও পাকিস্তানের ইনিংসে ধস নামান মাদুশঙ্কা। ১৮ বলে ১০ রান করে ফেরেন আরাফাত।

এরপর ৩১ বলে ১৭ রান করা হাসান নওয়াজকে ফেরান দুনিথ ওয়েলালাগে। মাদুশঙ্কার বলে হারিস রউফ আউট হলে ৯২ রানে ৯ উইকেট হারিয়ে ফেলে স্বাগতিকরা।

শেষ দিকে অধিনায়ক শাহিন শাহ আফ্রিদি ১৩ বলে দুটি ছক্কায় ১৫ রান করে দলকে কোনোমতে এক শ পার করান। তবে তাকেও ফিরিয়ে পাকিস্তানের ইনিংসের সমাপ্তি টানেন মাদুশঙ্কা। ৮.৩ ওভারে একটি মেডেনসহ ৩৪ রান দিয়ে ৫ উইকেট নেন এই পেসার। সাহান আরাচ্চিগে নেন ২ উইকেট। একটি করে উইকেট পান আসিথা ফার্নান্দো, এশান মালিঙ্গা ও দুনিথ ওয়েলালাগে।

ওয়ানডে ক্যারিয়ারে এটিই মাদুশঙ্কার সেরা বোলিং। এর আগে ২০২৩ বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে ৮০ রানে ৫ উইকেট নিয়েছিলেন তিনি। এবার পাকিস্তানের বিপক্ষে আরও কম রান দিয়ে পাঁচ উইকেট তুলে নিলেন লঙ্কান পেসার।

১১১ রানের সহজ লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে শ্রীলঙ্কা। কামিন্দু মেন্ডিস ও আভিশকা ফার্নান্দোর উদ্বোধনী জুটিতে আসে ৫০ রান। সপ্তম ওভারে আভিশকাকে ফিরিয়ে পাকিস্তানকে প্রথম সাফল্য এনে দেন শাহিন আফ্রিদি। ১৭ বলে ১৬ রান করেন লঙ্কান ওপেনার।

তিন নম্বরে নেমে কুশল মেন্ডিসও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। ৬ বলে ৮ রান করে আরাফাত মিনহাসের বলে বোল্ড হন শ্রীলঙ্কার অধিনায়ক। তখন লঙ্কানদের সংগ্রহ ২ উইকেটে ৬২ রান।

তবে এরপর আর কোনো সুযোগ দেয়নি শ্রীলঙ্কা। কামিন্দু মেন্ডিসের সঙ্গে তৃতীয় উইকেটে অবিচ্ছিন্ন ৫২ রানের জুটি গড়ে দলের জয় নিশ্চিত করেন পবন রত্নায়েকে।

কামিন্দু ৬০ বলে ৮টি চার ও ২টি ছক্কায় ৬২ রানে অপরাজিত থাকেন। অন্যদিকে রত্নায়েকে ২৬ বলে ২টি চারে করেন অপরাজিত ২৩ রান। ১৯তম ওভারের প্রথম বলেই জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় রান তুলে নেয় শ্রীলঙ্কা।

এই জয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজে নিজেদের দ্বিতীয় জয় তুলে নিল শ্রীলঙ্কা। আগের ম্যাচে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৪৩০ রান তাড়া করে রোমাঞ্চকর জয় পেয়েছিল তারা। এবার পাকিস্তানকে মাত্র ১১০ রানে গুটিয়ে দিয়ে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ জয় পেল লঙ্কানরা।

অন্যদিকে টানা তিন জয়ের পর প্রথমবার হারের স্বাদ পেল পাকিস্তান। যদিও আগেই ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করেছে স্বাগতিকরা। চার ম্যাচে তিন জয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রয়েছে শাহিন আফ্রিদির দল।

আগামী বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) লাহোরেই সিরিজের শেষ লিগ ম্যাচে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে শ্রীলঙ্কা। এরপর শনিবার (৩১ অক্টোবর) একই মাঠে শিরোপার লড়াইয়ে আবারও মুখোমুখি হবে পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা।