logo

অজিদের অদ্ভুত বিশ্বকাপ, প্রত্যাশা-ভাঙন এক অসমাপ্ত যাত্রা

অজিদের অদ্ভুত বিশ্বকাপ, প্রত্যাশা-ভাঙন এক অসমাপ্ত যাত্রা

বিশ্বকাপ শুরু হয়েছিল শিরোপা স্বপ্ন নিয়ে, ট্রাভিস হেডদের জন্য সে বিশ্বকাপ শেষ হলো নীরব হতাশায়। ভারত ও শ্রীলঙ্কায় চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার অভিযান যেন ঠিকমতো শুরুই হলো না—বরং ধীরে ধীরে গড়িয়ে গেল এক অদ্ভুত নিস্তেজতায়। মাত্র দুটি জয়, সেটাও ওমান ও আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে; আর জিম্বাবুয়ে ও শ্রীলঙ্কার মতো দলের কাছে স্পষ্টভাবে পরাস্ত হয়ে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হলো সাবেক চ্যাম্পিয়নদের।

তবে অস্ট্রেলিয়ার জন্য এটা কেবল হার নয়—এটি ছিল ছন্দ হারানো এক দলের গল্প।

প্রস্তুতি ভালো, ফল কেন এমন?

বিশ্বকাপের আগে গত দেড় বছরে টি-টোয়েন্টিতে ধারাবাহিক সাফল্য ছিল অস্ট্রেলিয়ার। ২০ ম্যাচে ১৬ জয়—পরিসংখ্যান বলছিল তারা টুর্নামেন্টের অন্যতম দাবিদার। ওপেনিংয়ে ট্রাভিস হেড ও মিচেল মার্শ, তিন নম্বরে ফর্মে থাকা ক্যামেরন গ্রিন, এরপর ম্যাক্সওয়েল, জশ ইংলিস, টিম ডেভিড, মার্কাস স্টয়নিস—কাগজে-কলমে এই ব্যাটিং লাইনআপ ছিল ভয়ংকর।

কিন্তু টুর্নামেন্ট শুরু হতেই সব হিসাব এলোমেলো। ম্যাক্সওয়েল, গ্রিন ও ইংলিস প্রায় একসঙ্গে ফর্ম হারালেন। টিম ডেভিড ফিরলেন ইনজুরি কাটিয়ে—ছন্দহীন অবস্থায়। ব্যাটিংয়ের ‘সিক্রেট সস’ শুরুতেই হারিয়ে ফেলল দলটি।

বোলিং আক্রমণের ভাঙন

এক দশক ধরে বড় টুর্নামেন্টে প্যাট কামিন্স–জশ হ্যাজলউড–মিচেল স্টার্ক—এই ত্রয়ী ছিল অস্ট্রেলিয়ার ভরসা। কিন্তু এবার স্টার্ক অবসর নিয়েছেন আগেই, কামিন্স ও হ্যাজলউড দুজনই ইনজুরিতে ছিটকে যান পুরো টুর্নামেন্ট থেকে।

ফলে দায়িত্ব পড়ে দ্বিতীয় সারির বোলারদের ওপর। নাথান এলিস চেষ্টা করলেও নেতৃত্বের ভার সামলাতে পারেননি পুরোপুরি। জিম্বাবুয়ে ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৩৮ ওভারে মাত্র চার উইকেট—অস্ট্রেলিয়ার বোলিং আক্রমণ খুব কমই এতটা নিরীহ দেখিয়েছে কোনো বিশ্বকাপে।

অ্যাডাম জাম্পাও ইনজুরি নিয়ে খেলতে নেমে আগের ধার দেখাতে পারেননি। প্রতিপক্ষ ব্যাটাররা তার ওপর চাপ তৈরি করেছে নিয়মিত।

নিস্তেজ সমাপ্তি

ওমানের বিপক্ষে শেষ ম্যাচটি ছিল কার্যত আনুষ্ঠানিকতা। সেমিফাইনালের আশা আগেই শেষ হয়ে গেছে। মাঠে অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটারদের শরীরী ভাষাতেই ছিল সেই বাস্তবতার ছাপ—উচ্ছ্বাসহীন উইকেট উদ্‌যাপন, তাড়াহুড়ো করে ম্যাচ শেষ করার প্রবণতা।

যেন দলটি নিজেই বুঝে গেছে, এই বিশ্বকাপ তাদের নয়।

বড় প্রশ্ন সামনে

এই ব্যর্থতা শুধু একটি টুর্নামেন্ট হারার গল্প নয়। এটি অস্ট্রেলিয়ার টি-টোয়েন্টি কাঠামো নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। বিগ ব্যাশ লিগ (বিবিএল) থেকে উঠে আসা খেলোয়াড়দের আন্তর্জাতিক মঞ্চে ধারাবাহিকতা কতটা কার্যকর—সেটি নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে।

ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া ইতোমধ্যে ‘ফরেনসিক রিভিউ’র কথা জানিয়েছে। দল গঠন, বেঞ্চ স্ট্রেংথ, ইনজুরি ব্যবস্থাপনা—সবকিছুই খতিয়ে দেখা হবে।

অস্ট্রেলিয়া ২০২১ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতেছিল। কিন্তু এরপর সেমিফাইনালও নিয়মিত স্পর্শ করতে পারেনি। এই ব্যর্থতা হয়তো বড় কোনো পরিবর্তনের সূচনা করবে।

ফুটবল মৌসুম, অ্যাশেজ জয়ের উচ্ছ্বাস—দেশের ক্রীড়াজগতে অন্য ব্যস্ততা আছে। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ান ড্রেসিংরুমে এই বিশ্বকাপের ক্ষত সহজে শুকাবে না।

কারণ টি-টোয়েন্টি হয়তো তাদের প্রিয় ফরম্যাট নয়, কিন্তু বিশ্বকাপের মঞ্চে এমন নিঃশব্দ বিদায়—এটি যে কোনো চ্যাম্পিয়ন দলের জন্যই গভীর আঘাত।