পাকিস্তানকে ২৩২ রানে গুটিয়ে বাংলাদেশের ৪৬ রানের লিড

সিলেট টেস্টে প্রথম ইনিংসে ৪৬ রানের লিড পেয়েছে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় দিনের বোলিংয়ে দাপট দেখিয়ে পাকিস্তানকে ২৩২ রানে অলআউট করেছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল।
বাংলাদেশের লিড আরও বড় হতে পারত। একসময় পাকিস্তান ১৭৪ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে ফেলেছিল। তখন মনে হচ্ছিল, ২০০ রানের আগেই হয়তো থামবে সফরকারীরা। কিন্তু শেষ দিকে সাজিদ খানের পাল্টা আক্রমণে ব্যবধান কিছুটা কমে যায়। ২৮ বলে ২ চার ও ৪ ছক্কায় ৩৮ রান করেন সাজিদ। তার শেষ দিকের ঝড়ে পাকিস্তান ২৩২ পর্যন্ত যেতে পারে।
দিনের শুরুটা বাংলাদেশের জন্য ছিল দারুণ। মেঘলা আবহাওয়া, নতুন বলের মুভমেন্ট এবং তাসকিন আহমেদের নিখুঁত লাইন সব মিলিয়ে পাকিস্তানের ওপেনাররা শুরু থেকেই অস্বস্তিতে ছিলেন। প্রথম সাফল্য আসে অষ্টম ওভারে। তাসকিনের ব্যাক অব আ লেংথ ডেলিভারিতে ব্যাট ঝুলিয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন আব্দুল্লাহ ফজল। ডাইভ দিয়ে ভালো ক্যাচ নেন লিটন দাস।
নিজের পরের স্পেলেই আরেক ওপেনার আজান আওয়াইসকে ফেরান তাসকিন। অফ স্টাম্পের লাইনে গুড লেংথ ডেলিভারিতে ব্যাট চালাতে গিয়ে ভেতরের কানায় প্যাডে লাগে বল। লেগ সাইডে উঠে যাওয়া সহজ ক্যাচ নেন মুমিনুল হক। ২৩ রানের মধ্যে দুই ওপেনারকে হারিয়ে তখন চাপে পাকিস্তান।
এরপর বাবর আজম ও শান মাসুদ কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন। দুজনই আলগা বল কাজে লাগিয়ে রান তুলছিলেন। শান আত্মবিশ্বাসী দেখালেও বড় ইনিংসে যেতে পারেননি। মেহেদী হাসান মিরাজ নিজের দ্বিতীয় স্পেলের প্রথম ওভারেই তাঁকে ফেরান। কাট করতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারান শান, শর্ট কভারে বদলি ফিল্ডার নাঈম হাসান দারুণ ক্যাচ নেন।
সৌদ শাকিলও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। মিরাজের ফ্লাইটেড বলে সুইপ করতে গিয়ে ব্যাটের নিচের দিকে লাগে বল, সহজ ক্যাচ নেন লিটন। ঢাকা টেস্টেও একই ধরনের শটে আউট হয়েছিলেন শাকিল। লাঞ্চে পাকিস্তানের স্কোর ছিল ৪ উইকেটে ৯৬। প্রথম সেশন পুরোপুরি বাংলাদেশেরই ছিল।
লাঞ্চের পর পাকিস্তানকে ম্যাচে ফেরানোর চেষ্টা করেন বাবর ও সালমান আগা। বাবর সিলেটে ফেরার ম্যাচে আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিং করেন। শরীফুল ইসলামকে বাউন্ডারি মেরে ফিফটি পূর্ণ করেন তিনি। সালমানও অন্য প্রান্তে ধৈর্য ধরে খেলছিলেন। পঞ্চম উইকেটে তাঁদের জুটি পাকিস্তানকে ধীরে ধীরে স্থিরতা দিচ্ছিল।
কিন্তু সেই জুটিই ভাঙেন নাহিদ রানা। ৬৮ রানে থাকা বাবরকে ফুল লেংথ বলে ফ্লিক করতে প্রলুব্ধ করেন তিনি। মিড অনে দাঁড়ানো মুশফিকুর রহিমের হাতে সহজ ক্যাচ দেন পাকিস্তানের সবচেয়ে সেট ব্যাটসম্যান। বাবরের বিদায়েই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ আবার বাংলাদেশের দিকে ঘুরে আসে।
বাবরের পর পাকিস্তানের মিডল অর্ডারে চাপ বাড়িয়ে দেন তাইজুল ইসলাম। প্রথমে সালমান আগাকে ফেরান তিনি। সুইপ করতে গিয়ে টপ এজ দেন সালমান, ডিপ ব্যাকওয়ার্ড স্কয়ার লেগে মুমিনুল হক দারুণভাবে ক্যাচ নেন। এরপর মোহাম্মদ রিজওয়ানকে (১৩) বোল্ড করেন তাইজুল।
হাসান আলীকেও ফেরান তাইজুল। বড় শট খেলতে গিয়ে লং অনে নাহিদ রানার হাতে ধরা পড়েন তিনি। প্রথমবার বল হাত ফসকালেও রিবাউন্ডে ক্যাচটি ধরে ফেলেন নাহিদ। তখন পাকিস্তানের স্কোর ১৯৪/৮। বাংলাদেশ বড় লিডের স্বপ্ন দেখছিল।
এরপর খুররম শাহজাদ ও সাজিদ খান কিছুটা পাল্টা আক্রমণ করেন। খুররম ১০ বলে ১০ রান করে নাহিদের শর্ট বলে মাহমুদুল হাসান জয়ের হাতে ক্যাচ দেন। কিন্তু সাজিদ খান বাংলাদেশের সম্ভাব্য বড় লিড অনেকটাই কমিয়ে দেন।
শেষ পর্যন্ত সাজিদের ঝড় থামান নাহিদ। নাহিদের বলে থার্ড ম্যান অঞ্চলে সামনে ঝাঁপিয়ে দারুণ ক্যাচ নেন তানজিদ হাসান তামিম।
বাংলাদেশের হয়ে নাহিদ রানা ১২.৪ ওভারে ৬০ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়েছেন। তাইজুল ইসলামও ১৪ ওভারে ৬৭ রান দিয়ে পেয়েছেন ৩ উইকেট। মিরাজ ও তাসকিন নিয়েছেন ২টি করে উইকেট। শেষ ১০ ওভারে পাকিস্তান ৫৮ রান তুললেও ৪ উইকেট হারায়।
