৩৬৪ রানের পাহাড় গড়ে টাইগার এইচপির বড় জয়

বগুড়ায় ব্যাটে-বলে কর্তৃত্ব দেখিয়ে জিম্বাবুয়ে ‘এ’ দলের বিপক্ষে সিরিজ শুরু করল বাংলাদেশ এইচপি। অধিনায়ক জাকির হাসানের সেঞ্চুরি, ইফতেখার হোসেন ইফতির ঝোড়ো ইনিংস এবং শেষ দিকে সামিউন বশির রাতুলের অলরাউন্ড অবদানে বড় সংগ্রহ গড়ে স্বাগতিকরা। এরপর বোলারদের নিয়ন্ত্রিত পারফরম্যান্সে ৮৫ রানের জয় পেয়েছে বাংলাদেশ এইচপি।
টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো ছিল না বাংলাদেশের। দলীয় ৬ রানেই ফিরে যান ওপেনার শাহাদাত হোসেন দিপু। তবে সেই ধাক্কা বেশিক্ষণ স্থায়ী হতে দেননি জাকির ও ইফতি। দ্বিতীয় উইকেটে দুজনের আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিংয়ে দ্রুত ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় বাংলাদেশ। শুরুতে সতর্ক থাকলেও পরে জিম্বাবুয়ের বোলারদের ওপর চাপ বাড়াতে থাকেন তারা।
অধিনায়ক জাকির ছিলেন ইনিংসের মূল স্থপতি। ৯৭ বলে ১১৯ রানের ইনিংসে তার ব্যাট থেকে আসে ৯টি চার ও ৫টি ছক্কা। এক পাশে জাকির ছন্দ ধরে রাখলে অন্য পাশে ইফতিও খেলেন কার্যকর ইনিংস। মাত্র ৫৮ বলে ৭০ রান করেন তিনি। তার ইনিংসে ছিল ৬টি চার ও ৩টি ছক্কা।
জাকির-ইফতির বড় জুটির ওপর দাঁড়িয়ে শেষ দিকে আরও গতি পায় বাংলাদেশের ইনিংস। মিডল অর্ডারে ইয়াসির আলী চৌধুরী রাব্বি করেন ৩২ বলে ৩৪ রান। অমিত হাসানের ব্যাট থেকে আসে ৩১ রান। এরপর শেষ ওভারের দিকে দ্রুত রান তোলেন আকবর আলী ও রাতুল। আকবর ২৬ বলে ২৭ রান করেন, ইনিংসে ছিল ৩টি ছক্কা।
তবে শেষের ঝড়টা তোলেন রাতুল। ১৮ বলে অপরাজিত ৩৯ রানের ক্যামিওতে বাংলাদেশকে সাড়ে তিনশর বেশি রানের সংগ্রহে নিয়ে যান তিনি। ৩টি চার ও ৩টি ছক্কায় সাজানো তার ইনিংসে শেষ দিকে বাড়তি গতি পায় স্বাগতিকরা। নির্ধারিত ৫০ ওভারে সব উইকেট হারিয়ে ৩৬৪ রান তোলে বাংলাদেশ এইচপি।
জিম্বাবুয়ে ‘এ’ দলের হয়ে আর্নেস্ট মাসুকু নেন ৩ উইকেট। মাইকেল ফ্রস্ট ও আনতুম নাকভি পান ২টি করে উইকেট।
৩৬৫ রানের বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা খারাপ ছিল না জিম্বাবুয়ের। উদ্বোধনী জুটিতে ৬০ রান যোগ করেন ইনোসেন্ট কাইয়া ও ম্যাথু ক্যাম্পবেল। কাইয়া ৩৪ বলে ২৬ রান করে ফিরলে ভাঙে এই জুটি। এরপর তাদিওনাশে মারুমানি ৭ রান করে আউট হন। দুজনকেই ফেরান আলিস আল ইসলাম।
শুরুর সেই ভিত কাজে লাগাতে পারেনি জিম্বাবুয়ে। আনতুম নাকভি ৮ রান করে রোহান উদ্দৌলা বর্ষণের শিকার হন। এক প্রান্তে ক্যাম্পবেল চেষ্টা করলেও নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে সফরকারীরা। ৫৬ বলে ৫২ রান করে ক্যাম্পবেল ফিরলে জিম্বাবুয়ের চাপ আরও বাড়ে। রয় কাইয়া করেন ৭ রান। ১১১ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে তখন ম্যাচ থেকে অনেকটাই ছিটকে যায় সফরকারীরা।
এরপর কিছুটা লড়াই করেন রায়ান বার্ল ও ওয়েসলি মাধেভেরে। তবে বার্ল ২০ রান করে রাতুলের বলে আউট হন। এক প্রান্তে দাঁড়িয়ে সেঞ্চুরি তুলে নেন মাধেভেরে। তার ১১৬ রানের ইনিংস জিম্বাবুয়েকে বড় হার থেকে কিছুটা বাঁচালেও জয় এনে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট ছিল না। শেষ পর্যন্ত ২৭৯ রানে গুটিয়ে যায় জিম্বাবুয়ে ‘এ’ দলের ইনিংস।
বাংলাদেশের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন বর্ষণ ও রাতুল। দুজনেই নেন ৩টি করে উইকেট। আলিস আল ইসলাম শিকার করেন ২ উইকেট। খালেদ আহমেদ ও আব্দুল গাফফার সাকলাইন নেন একটি করে উইকেট।
