logo

জয়ের পরও টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেল পাকিস্তান

জয়ের পরও টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেল পাকিস্তান

লড়াই ছিল শেষ বল পর্যন্ত। জয়ও এলো। কিন্তু সমীকরণ মেলেনি। শ্রীলঙ্কাকে পাঁচ রানে হারিয়েও আইসিসি পুরুষ টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ২০২৬ থেকে বিদায় নিতে হলো পাকিস্তানকে।

সুপার এইটের শেষ ম্যাচে আগে ব্যাট করে ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ২১২ রান তোলে পাকিস্তান। তবে সেমিফাইনালে উঠতে হলে তাদের শ্রীলঙ্কাকে ১৪৭ রানের নিচে আটকে রাখতে হতো। সেই লক্ষ্য পূরণ হয়নি। স্বাগতিকরা ২০ ওভারে তোলে ২০৭/৬, ফলে সমান তিন পয়েন্ট হলেও উন্নত নেট রানরেটের কারণে নিউজিল্যান্ড জায়গা করে নেয় শেষ চারে, ইংল্যান্ডের সঙ্গে।

নতুন ওপেনিং জুটি শাহিবজাদা ফারহান ও ফখর জামান শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিলেন। দুজন মিলে গড়েন ১৭৬ রানের বিশাল জুটি। ফখর ৪২ বলে ৮৪ রান করেন—নয়টি চার ও চারটি ছক্কায় সাজানো ইনিংস।

অন্য প্রান্তে ফারহান খেলেন দায়িত্বশীল অথচ আগ্রাসী এক শতরানী ইনিংস। ৬০ বলে ১০০ রান করেন তিনি, মারেন নয়টি চার ও পাঁচটি ছক্কা। মাঝের দিকে দ্রুত কিছু উইকেট পড়ায় রান তোলার গতি কিছুটা কমে এলেও ২০০ পেরিয়ে যায় পাকিস্তান।

শ্রীলঙ্কার হয়ে দিলশান মাদুশঙ্কা ৩ উইকেট নেন, অধিনায়ক দাসুন শানাকা পান দুটি।

২১৩ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শ্রীলঙ্কাও দমে যায়নি। পাওয়ান রত্নায়াকে ৩৭ বলে ৫৮ রানের ইনিংস খেলেন, আর শেষ দিকে অধিনায়ক শানাকা ঝড় তোলেন। মাত্র ৩১ বলে অপরাজিত ৭৬ রান করেন তিনি।

রত্নায়াকে ও শানাকার ৬১ রানের জুটি ম্যাচে উত্তেজনা ফেরায়। শেষ ওভারে দরকার ছিল ২৮ রান। তিনটি ছক্কা খেলেও শেষ পর্যন্ত লক্ষ্য ছোঁয়া হয়নি। শাহিন শাহ আফ্রিদি স্নায়ুচাপ সামলে শেষ ওভারটি রক্ষা করেন।

পাকিস্তানের হয়ে আবরার আহমেদ ছিলেন সবচেয়ে সফল বোলার—৪ ওভারে ২৩ রানে ৩ উইকেট। নাসিম শাহ, মোহাম্মদ নেওয়াজ ও শাহিন একটি করে উইকেট নেন।

ম্যাচ জিতলেও মূল সমীকরণ পূরণ হয়নি। সুপার এইটে পাকিস্তানের পয়েন্ট দাঁড়ায় তিন, কিন্তু নেট রানরেট থাকে ঋণাত্মক (–০.১২৩)। অন্যদিকে নিউজিল্যান্ডও তিন পয়েন্ট পেলেও তাদের নেট রানরেট (+১.৩৯০) অনেক এগিয়ে।

ফলে জয় দিয়ে বিশ্বকাপ শেষ করেও সেমিফাইনালের টিকিট কাটা হলো না পাকিস্তানের। আবারও বড় মঞ্চে সম্ভাবনা জাগিয়ে শেষ পর্যন্ত হতাশাই সঙ্গী হলো তাদের।