জাহানারার করা দুটি অভিযোগের প্রমাণ পেয়েছে বিসিবি

বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক জাহানারা আলমের আনা অভিযোগের তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। সেখানে সাবেক এই ক্রিকেটারের আনা ৪টি অভিযোগের দুটির পক্ষে প্রমাণ পেয়েছে বিসিবি। স্বাধীন তদন্ত কমিটির সুপারিশ পর্যালোচনা করে পরবর্তী আইনি ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতির কথাও জানিয়েছে বোর্ড।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিসিবি জানায়, জাহানারার উত্থাপিত অভিযোগগুলো পর্যালোচনার জন্য ২০২৫ সালের নভেম্বরে পাঁচ সদস্যের একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি তারিক উল হাকিমের নেতৃত্বে গঠিত এই কমিটিতে সদস্য হিসেবে ছিলেন আইন কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ডা. নাঈমা হক, ব্যারিস্টার মুহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান খান, ব্যারিস্টার সারওয়াত সিরাজ শুক্লা এবং বিসিবি পরিচালক রুবাবা দৌলা। কমিটি ৩১ জানুয়ারি তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করে এবং ২ ফেব্রুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবেদন বিসিবি সভাপতির কাছে জমা দেয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, তদন্তে জাহানারা আলমের করা চারটি নির্দিষ্ট অভিযোগ খতিয়ে দেখা হয়েছে। এর মধ্যে দুটি অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে বাকি দুটি অভিযোগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ নারী দলের তৎকালীন নির্বাচক ও ম্যানেজার মো. মঞ্জুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ‘অপ্রাসঙ্গিক ও পেশাগত মানদণ্ডবিরোধী আচরণ’-এর প্রাথমিক প্রমাণ মিলেছে বলে উল্লেখ করেছে কমিটি। এসব আচরণ সুপ্রিম কোর্টের প্রযোজ্য নির্দেশিকার আলোকে ‘অসদাচরণ’ ও ‘হয়রানি’র সংজ্ঞার মধ্যে পড়ে বলেও প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
মঞ্জুরুল ইসলামের সঙ্গে বিসিবির চুক্তির মেয়াদ শেষ হয় ৩০ জুন ২০২৫ সালে।
তদন্ত প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিসিবি তাদের আইনি দলকে বিষয়টি পর্যালোচনার দায়িত্ব দিয়েছে। বোর্ড জানিয়েছে, হয়রানি ও অসদাচরণের ক্ষেত্রে ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি অনুসরণ করে বিধি-বিধান ও প্রযোজ্য আইনের আলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একই সঙ্গে বিসিবি জানিয়েছে, প্রাতিষ্ঠানিক সুরক্ষা জোরদারে হাইকোর্ট বিভাগের ২০০৯ সালের রায়ের আলোকে একটি অভিযোগ কমিটি (Complaint Committee) গঠন করা হয়েছে। বিসিবির নারী উইং কমিটির চেয়ারম্যান ও পরিচালক রুবাবা দৌলার নেতৃত্বে এই কমিটিকে ভবিষ্যতে একটি স্বাধীন অভিযোগ গ্রহণ ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা এবং বাধ্যতামূলক সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণ চালুর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, যাতে দেশের ক্রিকেট অঙ্গনে নিরাপদ ও সম্মানজনক পরিবেশ নিশ্চিত করা যায়।
বিসিবি জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী পরবর্তী সময়ে আরও আপডেট জানানো হবে।