৮০০ কোটি টাকা থাকলে এখন সবচেয়ে বেশি উপকার হতো: সাকিব

বাংলাদেশ ক্রিকেটে তার নামটাই একসময় ছিল সবচেয়ে বড় ব্র্যান্ড। সেই সাকিব আল হাসানই এখন নিজের সম্পদের অঙ্ক নিয়ে ছড়ানো খবরকে উড়িয়ে দিয়ে বলছেন, ৮০০ কোটি টাকার সম্পদের খবর সত্যি হলে এই মুহূর্তে সেটাই তার সবচেয়ে বেশি কাজে লাগত। দেশের ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই ক্রিকেটারের দাবি, গত দেড়-দুই বছর ধরে তার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ হয়ে আছে, ব্যবসায়িক জটিলতায় তিনিও ভুক্তভোগী।
সাঈদ জামানের ইউটিউব চ্যানেল ‘সিম্পলি সাঈদ’-এর পডকাস্ট অফস্ক্রিন উইথ সাইদ জামানে নিজের সম্পদ, ব্যবসা, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ এবং বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে কথা বলেছেন বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক। আলোচনার একপর্যায়ে সাঈদ জামান জানান, গুগলে খুজলে একটি ওয়েবসাইটে সাকিবের সম্পদের পরিমাণ ৮০০ কোটি টাকা দেখা যায়।
জবাবে সাকিব বলেন, ‘এটা আমি দেখতে চাই আসলে যে কই আছে এই সম্পদটা। এই সম্পদটা যদি আমি পেতাম, আমার এখন সবচেয়ে বেশি উপকার হতো। কারণ আমার তো অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ হয়ে আছে লাস্ট দেড়-দুই বছর অলমোস্ট।”
সাকিব আরও বলেন, ‘এই অ্যাকাউন্টগুলো আমার আসলে দেখার দরকার ছিল যে আসলে কই আছে এই টাকাগুলো।’
তার দাবি, যিনি বা যে ওয়েবসাইট এমন তথ্য প্রকাশ করেছে, সেটি সত্য নয়। সাকিবের ভাষায়, ‘যেই করুক, আমার মনে একটা আশা সঞ্চালন করে। কিন্তু নিউজটা সম্পূর্ণ মিথ্যা।’
ব্যবসা নিয়ে ওঠা অভিযোগের প্রসঙ্গেও কথা বলেছেন সাকিব। তার দাবি, যেসব বিষয়ে তার নাম এসেছে, সেখানে অনেক ক্ষেত্রে তিনি নিজেই ক্ষতিগ্রস্ত। তদন্তে সহযোগিতা করতেও তিনি প্রস্তুত বলে জানান।
সাকিব বলেন, ‘আমি সবসময় বলে আসছি যে আমি তাদের তদন্তে সহায়তা করতে রাজি, যেখানে আমি ভুক্তভোগী। সেখানে আমি আবার ভুক্তভোগী হচ্ছি, কারণ কেস আমার এগেনস্টে।’
নিজের নাম বড় হওয়ায় অভিযোগের ভারও বেশি তার ওপর পড়ছে বলে মনে করেন সাকিব। তার ভাষায়, ‘যেহেতু আমার নামটাই বড়, সেহেতু সবসময় মনে হচ্ছে যেন এই কেসগুলোতে আমি শুধু আছি, আর কেউ নাই।’
এই পরিস্থিতিকে তিনি দুই দিকের ভোগান্তি হিসেবে দেখছেন। একদিকে আর্থিক চাপ, অন্যদিকে সামাজিক চাপ। সাকিব বলেন, ‘আমার জন্য ডাবল সাফারিং। একটা হচ্ছে নিজের ফাইন্যান্সিয়াল সাফারিং, আর দ্বিতীয় হচ্ছে সামাজিকভাবে একটা সাফারিং।’
তদন্তকারী সংস্থাকে প্রয়োজনীয় তথ্য দিতে প্রস্তুত বলেও জানান তিনি। সাকিবের বক্তব্য, ‘আমি হেল্প করব তাদের, তদন্তকারী যারা আছেন, তাদেরকে আমি হেল্প করব। আপনাদের যে ধরনের ইনফরমেশন লাগে, আমি দিতে রাজি আছি।’
ব্যবসায়িক অংশীদার বাছাইয়ের ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে আরও সতর্ক হওয়ার কথাও বলেছেন সাকিব। তার স্বীকারোক্তি, ক্রিকেট নিয়ে ব্যস্ততার কারণে ব্যবসার খুঁটিনাটি বিষয়ে সব সময় মনোযোগ দেওয়া হয়নি।
সাকিব বলেন, ‘যেহেতু ওই সময় ক্রিকেট খেলা নিয়ে এত বেশি ব্যস্ত ছিলাম, স্বাভাবিকভাবে এগুলো নিয়ে আসলে খুব বেশি একটা ফোকাস করিনি। কখনো চিন্তাও করতে পারিনি।’
অনেক ব্যবসায় যুক্ত থাকার ধারণাও পুরোপুরি ঠিক নয় বলে দাবি করেন সাকিব। তার মতে, মানুষের ধারণার তুলনায় বাস্তবে তার ব্যবসায়িক সংশ্লিষ্টতা সীমিত।
সাকিব বলেন, ‘মানুষ ভাবে অনেক ব্যবসা, অনেক ব্যবসা। আসলে অনেক ব্যবসা না। খুবই দুই একটা সীমিত, যেখানে আমার ইনভলভমেন্ট নামের দিক থেকে, কাজের দিক থেকে না।’
নিজের ব্যবসাগুলোর মধ্যে রেস্টুরেন্ট, স্টক এক্সচেঞ্জ-সংক্রান্ত উদ্যোগ এবং কাঁকড়ার খামারের কথা উল্লেখ করেন সাকিব। রেস্টুরেন্ট ব্যবসাটি অনেক আগেই বন্ধ হয়ে গেছে বলে জানান তিনি। কাঁকড়ার খামার নিয়ে তার বক্তব্য, অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ থাকার কারণে সেটি চালানো এবং ঋণ পরিশোধের প্রক্রিয়ায় সমস্যা তৈরি হয়েছে।
সাকিবের দাবি, কাঁকড়ার ব্যবসাটি চালু রাখা গেলে ঋণ পরিশোধ কঠিন হতো না। তিনি বলেন, ‘এই বিজনেসটা রান করতে পারলেই এটা খুবই প্রফিটেবল একটা বিজনেস। যারা ওই এলাকাতে করছে, তারা অনেক ভালো করছে। স্বাভাবিকভাবেই তারা এটা করতে পারলে এই লোনটা পরিশোধ করার কোনো বিষয় না। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজের কারণেই এটা একটা বড় সমস্যা হচ্ছে।’
