logo

দুর্দান্ত শুরুর পরও ৮ উইকেট হারিয়ে দিন শেষ বাংলাদেশের

দুর্দান্ত শুরুর পরও ৮ উইকেট হারিয়ে দিন শেষ বাংলাদেশের
আউট হয়ে ফিরছেন মুশফিক। ছবি: বিসিবি

দিনের শুরুতে আফগান বোলারদের ওপর রীতিমতো ঝড় তুলেছিলেন তানজিদ হাসান তামিম। তার সঙ্গে শাদমান ইসলামের ১২৪ রানের উদ্বোধনী জুটিতে বড় সংগ্রহের ভিতও পেয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু মাঝের সেশনে একের পর এক উইকেট হারিয়ে সেই সুবিধা অনেকটাই নষ্ট হয়। শেষ বিকেলে লিটন দাসের ফিফটিতে আবার ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলেও ৮ উইকেট হারিয়ে প্রথম দিন শেষ করেছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) আবুধাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টের প্রথম দিনে ৮৪ ওভারে ৮ উইকেটে ৩১৭ রান করেছে বাংলাদেশ। নাঈম হাসান ১১ ও তাইজুল ইসলাম ৪ রানে অপরাজিত আছেন।

টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামার পর প্রথম সেশনটা ছিল বাংলাদেশের। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেন তানজিদ। মাত্র ৪১ বলে ফিফটি পূর্ণ করার পর এগোচ্ছিলেন সেঞ্চুরির দিকে। তবে ২৩তম ওভারে ইসমত আলমের বলে উইকেটরক্ষক ইকরাম আলীখিলের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। ৭১ বলে আটটি চার ও চারটি ছক্কায় করেন ৮৩ রান।

তানজিদ ফিরলেও অন্য প্রান্তে ছিলেন শাদমান। মধ্যাহ্নবিরতির পর ফিফটি তুলে নেন তিনিও। কিন্তু ৩৮তম ওভারে মোহাম্মদ সেলিম সফির শর্ট বলে পুল করতে গিয়ে স্কয়ার লেগে জিয়াউর রহমানের দুর্দান্ত ক্যাচে পরিণত হন। ১১১ বলে সাতটি চারে ৬৭ রান করেন এই ওপেনার।

তখনো বাংলাদেশের অবস্থান ভালোই ছিল। ২ উইকেটে ১৮৪ রান থেকে মুমিনুল হক ও অধিনায়ক শান্ত দলকে এগিয়ে নিচ্ছিলেন। কিন্তু ৪৮তম ওভারে মুমিনুল ফিরতেই শুরু হয় বিপর্যয়।

ইয়ামিন আহমদজাইয়ের বলে রহমত শাহর হাতে ক্যাচ দেওয়ার আগে ৭০ বলে ৩৯ রান করেন মুমিনুল। এরপর একই বোলারের দুর্দান্ত ইয়র্কারে বোল্ড হন মুশফিকুর রহিম। সাত বল খেলেও রানের খাতা খুলতে পারেননি অভিজ্ঞ এই ব্যাটসম্যান।

পরের ওভারেই কাইস আহমেদের গুগলিতে প্রথম স্লিপে ক্যাচ দেন শান্ত। ৪২ বলে একটি চার ও দুটি ছক্কায় ২৯ রান করেন বাংলাদেশ অধিনায়ক।

৪৭ ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ২ উইকেটে ২২০ রান। সেখান থেকে মাত্র ৫ রান যোগ করতেই মুমিনুল, মুশফিক ও শান্তকে হারায় দলটি। ২২৫ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ।

চা-বিরতিতে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৫ উইকেটে ২২৬ রান। সেখান থেকে দলের হাল ধরেন লিটন দাস ও মেহেদী হাসান মিরাজ। ষষ্ঠ উইকেটে দুজন যোগ করেন ৬২ রান। মিরাজ ৬৭ বলে ২৪ রান করে ইসমতের বলে বোল্ড হলে ভাঙে সেই জুটি।

এরপর নাঈম হাসানকে নিয়ে ইনিংস এগিয়ে নেন লিটন। কঠিন পরিস্থিতিতে ধৈর্য ধরে ব্যাটিং করে ফিফটিও তুলে নেন তিনি। তবে সেটিকে বড় ইনিংসে রূপ দিতে পারেননি।

৮০তম ওভারের প্রথম বলে সেলিম সফির বলে ইয়ামিন আহমদজাইয়ের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন লিটন। ৮৯ বলে চারটি চারে করেন ৫৩ রান।

একই ওভারের শেষ বলে হাসান মাহমুদকে বোল্ড করে আফগানিস্তানকে আরও একটি সাফল্য এনে দেন সেলিম। ৩০৫ রানে অষ্টম উইকেট হারায় বাংলাদেশ।

দিনের বাকি সময় আর কোনো উইকেট পড়তে দেননি নাঈম ও তাইজুল। অবিচ্ছিন্ন নবম উইকেট জুটিতে ১২ রান যোগ করে দিনের খেলা শেষ করেন তাঁরা।

আফগানিস্তানের হয়ে সবচেয়ে সফল মোহাম্মদ সেলিম সফি। ১৯ ওভারে ৭০ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়েছেন তিনি। ইয়ামিন আহমদজাই ৬২ রানে এবং ইসমত আলম ২০ রানে নিয়েছেন দুটি করে উইকেট। কাইস আহমেদ পেয়েছেন একটি।

প্রথম সেশনে ১ উইকেটে ১৩৪ রান তোলা বাংলাদেশ দ্বিতীয় সেশনে যোগ করে ৯২ রান, হারায় ৪ উইকেট। শেষ সেশনে আরও ৯১ রান তুলতে পড়ে ৩ উইকেট। তানজিদ, শাদমান ও লিটন ফিফটি পেলেও কেউ পৌঁছাতে পারেননি তিন অঙ্কে।