বিতর্কিত সেই ওয়াইডে ভুল ছিল না, বললেন ভারতীয় আম্পায়ার

জাপানের বিপক্ষে ভারতের দুই রানের জয়ের পর সবচেয়ে বেশি আলোচনা হয়েছে শেষ ওভারের একটি ওয়াইড নিয়ে। ভারতীয় ক্রিকেটারদের আপত্তির পর আম্পায়ার সিদ্ধান্ত বদলে নেওয়ায় ওঠে ‘চাপ সৃষ্টি’র অভিযোগও। তবে ক্রিকেটের নিয়ম বলছে, বলটিকে ওয়াইড না দেওয়ার সিদ্ধান্তটি বৈধই ছিল। সাবেক আন্তর্জাতিক আম্পায়ার অনিল চৌধুরীরও মত, শেষ পর্যন্ত সঠিক সিদ্ধান্তই নিয়েছেন মাঠের আম্পায়াররা।
বৃষ্টিতে পাঁচ ওভারে নেমে আসা ম্যাচে ভারতের ৩২ রানের জবাবে শেষ ওভারে জাপানের প্রয়োজন ছিল ৮ রান। অক্ষর প্যাটেলের তৃতীয় বলটি প্রথমে ওয়াইড দেন জাপানের আম্পায়ার ক্রিস থারগেট। তবে ভারত অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ার ও অক্ষর আপত্তি জানানোর পর অপর আম্পায়ার ক্রিস ব্রাউনের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করেন থারগেট।
সেই সিদ্ধান্ত নিয়েই শুরু হয় বিতর্ক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই অভিযোগ করেন, ভারতীয় ক্রিকেটারদের চাপেই সিদ্ধান্ত বদলেছেন আম্পায়ার। তবে ক্রিকবাজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ব্যাটার আলেকজান্ডার শিরাই-প্যাটমোর রিভার্স সুইপ খেলতে যাওয়ায় সাধারণ ‘লেগ-সাইড ওয়াইড’ নিয়ম সেখানে প্রযোজ্য ছিল না।
আম্পায়ারদের জন্য নির্ধারিত নির্দেশনায় বলা আছে, কোনো ব্যাটার রিভার্স সুইপ বা সুইচ হিট খেলতে গেলে অফ সাইড ও লেগ সাইড দুদিকেই একই ওয়াইড নির্দেশিকা প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ রিভার্স সুইপের চেষ্টা করলে লেগ স্টাম্পের বাইরে গেলেই বল স্বয়ংক্রিয়ভাবে ওয়াইড হবে না।
সাবেক আইসিসি আন্তর্জাতিক প্যানেলের আম্পায়ার অনিল চৌধুরী বলেন, “একবার আপনি রিভার্স বা সুইচ হিট খেললে দুদিকই অফ সাইডের মতো হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”
তার মতে, মাঠে সিদ্ধান্ত বদলানোর সুযোগও আম্পায়ারের রয়েছে। পরের বল খেলা শুরু হওয়ার আগে কিংবা ‘টাইম’ ডাকা না হলে নিজের আগের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে পারেন আম্পায়ার।
তবে ভারতীয় ক্রিকেটারদের প্রতিবাদের কারণে আম্পায়ার চাপে পড়েছিলেন কি না, সেটি আলাদা প্রশ্ন বলে মনে করেন চৌধুরী। তার ভাষায়, সেই বিষয়টি নিশ্চিতভাবে জানা সম্ভব নয়। কিন্তু নিয়মের দিক থেকে শেষ সিদ্ধান্তটিতে কোনো সমস্যা ছিল না।
ওই ওভারে শেষ পর্যন্ত সাত রান রক্ষা করে দুই রানের জয় পায় ভারত। ৪১তম স্থানে থাকা জাপানের বিপক্ষে অল্পের জন্য বড় অঘটন এড়ায় তারা।
