logo

ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ষষ্ঠবারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ভারত

ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ষষ্ঠবারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ভারত

দাপুটে পারফরম্যান্সে আরেকটি বিশ্বজয় ভারতের। আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের ফাইনালে ইংল্যান্ডকে ১০০ রানে হারিয়ে রেকর্ড ষষ্ঠবারের মতো শিরোপা জিতেছে ভারত। জিম্বাবুয়ের হারারে স্পোর্টস ক্লাবে শুক্রবারের ফাইনালে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আধিপত্য দেখিয়েছে ভারতীয় কিশোররা।

৪১২ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ইংল্যান্ড ৪০.২ ওভারে ৩১১ রানে গুটিয়ে যায়। ভারতের নিয়ন্ত্রিত বোলিং আক্রমণের সামনে শেষ পর্যন্ত প্রতিরোধ গড়তে পারেনি ইংলিশরা।

ইংল্যান্ডের হয়ে ওপেনার বেন ডকিন্স ৫৬ বলে ৬৬ রান করে লড়াইয়ের আভাস দেন, তার ইনিংসে ছিল সাতটি চার ও দুটি ছক্কা। বেন মায়েস ২৮ বলে ৪৫ রান করেন সমান সাত চার ও দুই ছক্কায়। অধিনায়ক থমাস রিউ ১৮ বলে ৩১ রানের ঝোড়ো ক্যামিও খেলেন।

মাঝে অষ্টম উইকেটে ক্যালেব ফ্যালকনার ও জেমস মিন্টোর ৯২ রানের জুটি ইংল্যান্ডকে কিছুটা আশা দেখায়। ফ্যালকনার দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে তুলে নেন শতক। তবে আমব্রিশ মিন্টোকে (২৮) ফিরিয়ে সে জুটি ভাঙেন। পরে ম্যানি লামসডেনকেও সাজঘরে পাঠান তিনি। শেষ পর্যন্ত ৬৭ বলে ১১৫ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেও কানিশ্ক চৌহানের বলে আউট হয়ে থামেন ফ্যালকনার, সেখানেই কার্যত শেষ হয়ে যায় ইংল্যান্ডের লড়াই।

এর আগে ব্যাট করতে নেমে ভারতের শুরুটা ভালো ছিল না। ওপেনার অ্যারন জর্জ ১১ বলে ৯ রান করে দ্রুত বিদায় নিলে চাপে পড়ে দল। সেখান থেকে সূর্যবংশী ও অধিনায়ক আয়ুশ মত্রের জুটিতে ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। দুজন মিলে গড়েন ১৪২ রানের জুটি। মত্রে ৫১ বলে ৫৩ রান করেন সাত চার ও দুই ছক্কায়।

তবে দিনের নায়ক ছিলেন সূর্যবংশী। মাত্র ৫৫ বলে শতক ছুঁয়ে পরে ৮০ বলে ১৭৪ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন তিনি। তার ব্যাট থেকে আসে ১৫টি চার ও সমান ১৫টি ছক্কা, স্ট্রাইক রেট ছিল ২১৮-এর বেশি। এই ইনিংসেই ইংল্যান্ডের বোলিং আক্রমণ কার্যত ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়।

মধ্যভাগে বেদান্ত ত্রিবেদী (৩২) ও বিহান মালহোত্রা (৩০) মূল্যবান রান যোগ করেন। অভিজ্ঞান কুন্দু ৩১ বলে ৪০ রানের কার্যকর ক্যামিও খেলেন। শেষদিকে কানিশ্ক চৌহান অপরাজিত ২০ বলে ৩৭ রান করে দলের সংগ্রহ আরও বড় করেন। নির্ধারিত ওভার শেষে ভারতের স্কোর দাঁড়ায় ৪১১ রান।

বিশাল লক্ষ্য, চাপের ফাইনাল— সবকিছু সামলে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে শেষ হাসিটা হেসেছে ভারতই। এই জয়ে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে তাদের শিরোপা সংখ্যা দাঁড়াল ছয়ে, যা টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সর্বাধিক।