logo
Advertisement

‘বাংলার স্টার্ক’ ডাকটি পছন্দ নয় শরিফুলের

এশিয়া পোস্ট স্পোর্টস
‘বাংলার স্টার্ক’ ডাকটি পছন্দ নয় শরিফুলের
শরিফুল ইসলাম ও মিচেল স্টার্ক। ছবি কোলাজ: এশিয়া পোস্ট

কেউ তাকে বলেন ‘বাংলার স্টার্ক’। প্রশংসা হিসেবে দেওয়া নামটি এখন আর বিশেষ পছন্দ নয় শরিফুল ইসলামের। কারণ তার চোখে প্রতিটি বোলারের পরিচয় আলাদা। মিচেল স্টার্কের গতি ও সুইং অবশ্য মুগ্ধ করে তাকে, তবে আদর্শের প্রশ্নে অস্ট্রেলিয়ান কিংবদন্তি নন, শরিফুল বললেন মোস্তাফিজুর রহমানের নাম।

Advertisement

ম্যাকেতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম দিনে দুই দলের প্রধান চরিত্র ছিলেন দুই বাঁহাতি পেসার। স্টার্ক ১২ রানে ৬ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশকে ৬৪ রানে গুটিয়ে দেন। জবাবে শরিফুলের ৩৫ রানে ৬ উইকেটের সৌজন্যে অস্ট্রেলিয়াকে ৮ উইকেটে ১৬৫ রানে আটকে রাখে বাংলাদেশ।

একই দিনে দুজনের ছয় উইকেট আবারও ফিরিয়ে এনেছে শরিফুলের পুরোনো ডাকনামটি। বয়সভিত্তিক ক্রিকেট খেলার সময় থেকেই স্টার্কের সঙ্গে তুলনা করে অনেকে তাকে ‘বাংলার স্টার্ক’ বলতেন। দিনের খেলা শেষে সংবাদ সম্মেলনে সেই প্রসঙ্গ উঠতেই নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন শরিফুল।

বাংলাদেশি পেসার বলেন, ‘এখন ওই নামে ডাকলে খুব একটা ভালো লাগে না। আসলে একেকজন খেলোয়াড়ের বোলিং, রানআপ, সবকিছুই আলাদা।’

তুলনাটি অপছন্দ করলেও স্টার্কের প্রতি মুগ্ধতা লুকাননি শরিফুল। ছোটবেলা থেকেই অস্ট্রেলিয়ান পেসারকে অনুসরণ করেন তিনি। বিশেষ করে স্টার্কের গতি ও ভেতরে ঢোকা সুইং তার ভালো লাগে।

শরিফুল বলেন, ‘বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে খেলার সময় থেকেই তাকে দেখি। তার ইনসুইং আমার ভালো লাগে। পেস ও সুইংয়ের জন্য তাকে অনেক পছন্দ করি।’

তবে নিজের আদর্শ হিসেবে দেশের একজনকেই বেছে নিয়েছেন শরিফুল, ‘আমার আদর্শ দেশের মোস্তাফিজ ভাই। তবে পেস আর সুইংয়ের জন্য স্টার্ককেও অনেক পছন্দ করি।’

ম্যাকের দিনটিও তাই তার কাছে বিশেষ। একই ম্যাচে যাকে দেখে বড় হয়েছেন, তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ছয় উইকেট নিয়েছেন। শরিফুল বলেন, ‘তার সঙ্গে একই ম্যাচে খেলছি। তিনি ছয়টি পেয়েছেন, আমিও ছয়টি পেয়েছি। এদিক থেকে খুব ভালো লাগছে।’

মজার বিষয়, বাংলাদেশের ইনিংসে স্টার্কের ষষ্ঠ শিকার ছিলেন শরিফুল। পরে অস্ট্রেলিয়ার ইনিংসে স্টার্ককে বোল্ড করেই নিজের ষষ্ঠ উইকেট পূর্ণ করেন তিনি। তবে সেটিকে পাল্টা জবাব বলতে রাজি নন শরিফুল, ‘তিনি আমাকে আউট করেছেন বলে কিছু নয়। আমি নিজের সেরা বলটি করার চেষ্টা করেছি, হয়ে গেছে।’

একই দিনে দুই বাঁহাতি পেসারের ছয় উইকেট, দুজন আবার পরস্পরেরও শিকার। এরপরও পুরোনো তুলনায় ফিরতে চান না শরিফুল। স্টার্ককে পছন্দ করেন, তার কাছ থেকে শেখেনও, তবে পরিচয়টা রাখতে চান নিজের নামেই।

‘বাংলার স্টার্ক’ ডাকটি পছন্দ নয় শরিফুলের