logo

বাংলাদেশি আম্পায়ারের গায়ে ধাক্কা, শাস্তি পেলেন হারিস রউফ

বাংলাদেশি আম্পায়ারের গায়ে ধাক্কা, শাস্তি পেলেন হারিস রউফ
আলোচিত সেই ঘটনার মুহূর্ত। ছবি: পিসিবি

মাঠে প্রতিপক্ষ ক্রিকেটারের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে আবারও শাস্তির মুখে পড়লেন পাকিস্তানের পেসার হারিস রউফ। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে ম্যাচে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের একপর্যায়ে বাংলাদেশি আম্পায়ার শরফুদ্দৌলা ইবনে শহীদ সৈকতের গায়ে ধাক্কা লাগে তার। আম্পায়ারের সতর্কবার্তাও উপেক্ষা করে তর্ক চালিয়ে যান এই পাকিস্তানি ক্রিকেটার। ক্রিকেটীয় আচরণবিধি ভঙ্গের দায়ে তাকে ম্যাচ ফির ২০ শতাংশ জরিমানা করেছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। পাশাপাশি তার নামের পাশে যোগ হয়েছে একটি ডিমেরিট পয়েন্ট।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে রউফের শাস্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছে আইসিসি। গত রোববার (২৫ অক্টোবর) লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে পাকিস্তান ও ইংল্যান্ডের মধ্যকার ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের ম্যাচে ঘটনাটি ঘটে। ওই ম্যাচে শাদাব খানের দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে এক উইকেটের নাটকীয় জয় পায় পাকিস্তান।

আইসিসির বিবৃতি অনুযায়ী, পাকিস্তানের ইনিংসের ৪৬তম ওভার শেষে ঘটনার সূত্রপাত। তখন নন-স্ট্রাইক প্রান্তে ছিলেন রউফ। ইংল্যান্ডের পেসার স্যাম কারানের করা শেষ বলটি ওয়াইড দাবি করেন তিনি। কিন্তু আম্পায়ার ওয়াইড না দেওয়ায় ইংলিশ অলরাউন্ডার উইল জ্যাকসের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন পাকিস্তানি পেসার।

একপর্যায়ে ব্যাট উঁচিয়ে জ্যাকসের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় করতে থাকেন রউফ। পরিস্থিতি সামাল দিতে এগিয়ে আসেন বাংলাদেশের আম্পায়ার শরফুদ্দৌলা। তিনি রউফকে সতর্ক করলেও তর্ক থামাননি পাকিস্তানি ক্রিকেটার। বরং জ্যাকসের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় আম্পায়ারের গা ঘেঁষে সামনে চলে যান তিনি। এতে শরফুদ্দৌলার সঙ্গে তার শারীরিক সংস্পর্শ ঘটে।

আইসিসির পর্যবেক্ষণে রউফের এই আচরণ ক্রিকেটের চেতনাবিরোধী বলে বিবেচিত হয়েছে। আচরণবিধির ২.২০ নম্বর ধারা ভঙ্গের দায়ে লেভেল-১ পর্যায়ের অপরাধে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে তিরস্কার করার পাশাপাশি ম্যাচ ফির ২০ শতাংশ জরিমানা করা হয়েছে।

এ ছাড়া তার শৃঙ্খলাবিষয়ক রেকর্ডে একটি ডিমেরিট পয়েন্ট যোগ হয়েছে। গত ২৪ মাসে এটি রউফের তৃতীয় আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা। নতুন পয়েন্ট যোগ হওয়ায় তার মোট ডিমেরিট পয়েন্ট দাঁড়িয়েছে পাঁচে।

আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী, ২৪ মাসের মধ্যে চার বা তার বেশি ডিমেরিট পয়েন্ট জমা হলে তা দুই সাসপেনশন পয়েন্টে রূপান্তরিত হয়। এর ফলে একজন ক্রিকেটারকে একটি টেস্ট অথবা দুটি ওয়ানডে কিংবা দুটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচে নিষিদ্ধ করা হয়।

তবে রউফ আগেই চার ডিমেরিট পয়েন্টের জন্য দুই ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা ভোগ করেছেন। ফলে এবার পাঁচে পৌঁছালেও নতুন করে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়নি তাকে। একই ২৪ মাসের মধ্যে আট ডিমেরিট পয়েন্টে পৌঁছালে চার সাসপেনশন পয়েন্টের বিধান কার্যকর হবে।

এর আগেও মাঠের আচরণের কারণে শাস্তি পেয়েছেন রউফ। গত বছর এশিয়া কাপে ভারতের বিপক্ষে দুটি ম্যাচে আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে মোট চার ডিমেরিট পয়েন্ট পেয়েছিলেন তিনি। সে কারণে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ২০২৫ সালের ৪ ও ৬ নভেম্বরের দুটি ওয়ানডেতে নিষিদ্ধ ছিলেন পাকিস্তানের এই পেসার।

এবারের ঘটনায় নিজের অপরাধ স্বীকার করেছেন রউফ। ম্যাচ রেফারি জেফ ক্রোর প্রস্তাবিত শাস্তিও মেনে নিয়েছেন তিনি। ফলে আনুষ্ঠানিক শুনানির প্রয়োজন হয়নি। মাঠের দুই আম্পায়ার রশিদ রিয়াজ ও শরফুদ্দৌলা, তৃতীয় আম্পায়ার ওয়েইন নাইটস এবং চতুর্থ আম্পায়ার নাসির হুসেইন অভিযোগটি উত্থাপন করেন।

একই ম্যাচে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ওভার শেষ করতে না পারায় শাস্তি পেয়েছে ইংল্যান্ডও। নির্ধারিত সময়ের তুলনায় তিন ওভার পিছিয়ে থাকায় ইংলিশ ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফির ১৫ শতাংশ জরিমানা করা হয়েছে। আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী, প্রতি ওভার কম করার জন্য ম্যাচ ফির পাঁচ শতাংশ জরিমানা করা হয়। অধিনায়ক হ্যারি ব্রুকও অপরাধ স্বীকার করে শাস্তি মেনে নিয়েছেন।

তবে মাঠের বিতর্কের মধ্যেও ওই ম্যাচে পাকিস্তানের জয়ের অন্যতম নায়ক ছিলেন রউফ। ইংল্যান্ডের দেওয়া ২৪২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে একপর্যায়ে ১৫৪ রানে ৯ উইকেট হারিয়েছিল পাকিস্তান। সেখান থেকে শাদাব খানের সঙ্গে শেষ উইকেটে অবিচ্ছিন্ন ৮৯ রানের জুটি গড়ে দলকে জেতান রউফ।

৯৬ বলে ১৩ চার ও ৫ ছক্কায় অপরাজিত ১১৩ রান করেন শাদাব। অন্যদিকে ১৯ বলে ৭ রান করে অপরাজিত থাকেন রউফ। ইংল্যান্ডের পেসার হেনরি ক্রোকম্বকে চার মেরে জয়সূচক রানটিও এনে দেন তিনি। ১৭ বল হাতে রেখে এক উইকেটের জয় পায় পাকিস্তান।

ওই জয়ে ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করে পাকিস্তান। আগামী ৩১ অক্টোবর লাহোরে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি হবে তারা।