এবারও হাত মেলালেন না সূর্যকুমার-সালমান

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বহুল আলোচিত ভারত-পাকিস্তান ম্যাচেও টসে করমর্দন এড়িয়ে গেলেন দুই অধিনায়ক। রোববার কলম্বোর আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে গ্রুপ ‘এ’–এর ম্যাচের টসে ভারতের সূর্যকুমার যাদব ও পাকিস্তানের সালমান আলি আগা একে অপরের সঙ্গে হাত মেলাননি—আগের নীতিই বজায় থাকল।
ম্যাচের আগে থেকেই করমর্দন হবে কি না, তা নিয়ে ছিল ব্যাপক কৌতূহল। তবে টসের সময় দুই অধিনায়ক শুধু হাত মেলানোই নয়, চোখাচোখিও এড়িয়ে দূরত্ব বজায় রাখেন। টসে জিতে প্রথমে বোলিং নেওয়ার সিদ্ধান্ত জানান পাকিস্তান অধিনায়ক আগা, এরপর সম্প্রচারমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলে তিনি নিজ পথে চলে যান; সূর্যকুমারের সঙ্গেও কোনো আনুষ্ঠানিক শুভেচ্ছা বিনিময় হয়নি।
এর আগে ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে করমর্দন প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে সূর্যকুমার স্পষ্ট অবস্থান জানাননি। অন্যদিকে পাকিস্তান অধিনায়ক আগা বলেছিলেন, খেলাটি ক্রীড়াসুলভ মনোভাবেই হওয়া উচিত, তবে সিদ্ধান্ত ভারতের খেলোয়াড়দের ওপরই নির্ভর করবে।
ভারতের সাবেক ব্যাটার সঞ্জয় মাঞ্জরেকারও ম্যাচের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা করেন। তার ভাষ্য, খেলাটি যদি ক্রীড়াসুলভ মানসিকতায় না খেলা যায়, তবে না খেলাই ভালো।
গত বছরের এশিয়া কাপ থেকেই দুই দলের মধ্যে করমর্দন না করার প্রবণতা দেখা যায়। সেই সময় একাধিক ম্যাচে খেলোয়াড়দের আচরণ ও মাঠের বাইরের উত্তেজনা বিতর্ক তৈরি করেছিল। বিষয়টি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) অসন্তোষও ডেকে আনে এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) সঙ্গে টানাপোড়েনের সৃষ্টি হয়।
পরবর্তীতে নারী বিশ্বকাপ, অনূর্ধ্ব–১৯ এশিয়া কাপসহ আরও কয়েকটি আন্তর্জাতিক আসরেও দুই দলের মধ্যে ‘নো–হ্যান্ডশেক’ নীতি অনুসরণ করা হয়। সাম্প্রতিক কূটনৈতিক টানাপোড়েনের প্রেক্ষাপটে এবারের বিশ্বকাপেও সেই ধারাই অব্যাহত থাকল। মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর এই আনুষ্ঠানিক দূরত্বও তাই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে।