বাংলাদেশকে বাদ দেওয়ায় আইসিসির সিদ্ধান্ত ঘিরে প্রশ্ন বাড়ছেই

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের পরিবর্তে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করায় আইসিসির সিদ্ধান্ত ঘিরে লজিস্টিক ও প্রশাসনিক প্রশ্ন বাড়ছেই। বাংলাদেশের দেওয়া তাদের ভেন্যু বদলানোর প্রস্তাব নাকচ করে শেষ মুহূর্তে স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করার ফলে আইসিসির যুক্তি নিয়ে ক্রিকেট মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) নিরাপত্তা উদ্বেগ দেখিয়ে ভারতে খেলতে অনিচ্ছা জানিয়ে প্রথমে আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে অদলবদলের প্রস্তাব করে। এরপর সেটি সম্ভব না হওয়ায় শুধু তাদের ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় নেওয়ার প্রস্তাব দেয়। তবে আইসিসি নানা অজুহাতে প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করে এবং স্কটল্যান্ডকে বাংলাদেশের স্থলাভিষিক্ত করে।
আইসিসি জানিয়েছে, টুর্নামেন্ট শুরুর এত কাছাকাছি সময়ে ভেন্যু পরিবর্তন করা ‘সম্ভব নয়’ এবং এতে সূচি ও পরিচালন কাঠামো জটিল হয়ে পড়ত। সংস্থাটির দাবি, ভারতে বাংলাদেশের জন্য নির্দিষ্ট কোনো নিরাপত্তা হুমকিও তাদের মূল্যায়নে পাওয়া যায়নি। কিন্তু বাস্তবে স্কটল্যান্ডকে নেওয়া নাকি বাংলাদেশের ভেন্যু পরিবর্তন কোনটা বেশি জটিল ছিল?
বাংলাদেশের প্রস্তাব ছিল স্পষ্ট তারা শুধু তাদের ম্যাচগুলোর ভেন্যু পরিবর্তন করতে চেয়েছিল, যাতে বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ খেলতে পারে। এরফলে প্রয়োজন হতো মূলত দলটির আন্তর্জাতিক ভ্রমণ পুনঃনির্ধারণ। গ্রুপের অন্যদলগুলোর ফ্লাইট রিরাউটিং, হোটেল ও অভ্যন্তরীণ ভ্রমণে নাম পরিবর্তন।
ক্রিকেট প্রশাসনে অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের মতে, এ ধরনের পরিবর্তন আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে খুব বেশি জটিল নয় এবং এটি প্রযুক্তিগতভাবে অসম্ভবও নয়।
এর বিপরীতে স্কটল্যান্ডকে শেষ মুহূর্তে অন্তর্ভুক্ত করতে হয়েছে:
- সম্পূর্ণ নতুন স্কোয়াড সক্রিয় করা
- জরুরি ভিসা ও কাগজপত্র
- ইউরোপ থেকে দক্ষিণ এশিয়ায় শেষ মুহূর্তের দীর্ঘ ফ্লাইট
- নতুন লজিস্টিক পরিকল্পনা
- নতুন টিম অপারেশন সেটআপ
বিশ্লেষকদের মতে, বাস্তব অপারেশনাল দৃষ্টিকোণ থেকে এটি আরও বেশি জটিল হওয়ার কথা।
কেন তাহলে বাংলাদেশের প্রস্তাব মানা হলো না?
ক্রিকেট প্রশাসনের একাধিক সূত্র বলছে, সিদ্ধান্তটি মূলত খরচ বা লজিস্টিক নয়, বরং গভর্ন্যান্স ও প্রিসিডেন্ট (নজির)–এর প্রশ্নে নেওয়া হয়েছে।
আইসিসির আশঙ্কা ছিল বাংলাদেশকে বিশেষ ছাড় দিলে ভবিষ্যতে অন্য দেশও নিরাপত্তা বা রাজনৈতিক কারণে একই দাবি তুলতে পারে আর এতে আইসিসির নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হতে পারে।
২০০৩ বিশ্বকাপে বয়কটের নজিরের মতো পরিস্থিতি আবার তৈরি হতে পারে।
অর্থাৎ সমালোচকদের মতে, এটি ছিল একটি প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত, যাকে ‘লজিস্টিক জটিলতা’ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
স্বচ্ছতার অভাব প্রশ্ন বাড়াচ্ছে
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়—আইসিসি এখন পর্যন্ত:
- কোনো বিস্তারিত খরচ বিশ্লেষণ প্রকাশ করেনি
- অদলবদল বনাম স্কটল্যান্ড অন্তর্ভুক্তির তুলনামূলক লজিস্টিক রিপোর্ট দেয়নি
- কোনো স্বতন্ত্র অপারেশনাল ব্যাখ্যা দেয়নি
ফলে ক্রিকেট মহলে বাড়ছে প্রশ্ন যদি স্কটল্যান্ডকে শেষ মুহূর্তে আনা সম্ভব হয়, তাহলে বাংলাদেশের প্রস্তাব কেন ‘অসম্ভব’?
আইসিসি দাবি করছে সিদ্ধান্তটি ছিল লজিস্টিক কারণে। তবে উপলব্ধ তথ্য ও বাস্তব অপারেশনাল চিত্র বলছে, বিষয়টি সম্ভবত খরচ বা জটিলতার চেয়ে নীতি, নিয়ন্ত্রণ ও প্রশাসনিক কৌশলের সঙ্গে বেশি সম্পর্কিত।