logo
Advertisement

ফাইনালের স্বপ্নে টেস্টই এখন বাংলাদেশের অগ্রাধিকার

এশিয়া পোস্ট স্পোর্টস
ফাইনালের স্বপ্নে টেস্টই এখন বাংলাদেশের অগ্রাধিকার
বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। ছবি: বিসিবি

বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে প্রথমবার জায়গা করে নেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বাংলাদেশের সামনে। এই সুযোগ কাজে লাগাতে এখন টেস্ট ক্রিকেটকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। প্রয়োজন হলে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি দলে গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটারদের বিশ্রাম দেওয়ার পরিকল্পনাও আছে বোর্ডের।

Advertisement

চলতি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে ছয় ম্যাচের তিনটিতে জিতেছে বাংলাদেশ। পয়েন্টের শতাংশ ৫৫ দশমিক ৫৬। অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা ও নিউজিল্যান্ডের পর তালিকার চতুর্থ স্থানে আছেন নাজমুল হোসেন শান্তরা।

অস্ট্রেলিয়ার পয়েন্টের শতাংশ ৮০। দ্বিতীয় স্থানে থাকা বর্তমান চ্যাম্পিয়ন দক্ষিণ আফ্রিকার ৭৫ এবং নিউজিল্যান্ডের ৭২ দশমিক ২২। বাংলাদেশের ঠিক পেছনে থাকা ভারতের পয়েন্টের শতাংশ ৫১ দশমিক ৫২।

ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়ে যাওয়ায় লাল বলের ক্রিকেটে বাড়তি মনোযোগ দিতে চায় বিসিবি। টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের চলতি চক্র শেষ না হওয়া পর্যন্ত দল নির্বাচন ও ক্রিকেটারদের কাজের চাপ ব্যবস্থাপনায় টেস্টকে প্রাধান্য দেওয়া হবে বলে দেশের ইংরেজি গণমাধ্যম ডেইলি স্টারকে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার।

বাংলাদেশের সামনে এখনো ছয়টি টেস্ট রয়েছে। ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি করে ম্যাচ খেলবে তারা। দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে রয়েছে আরও দুই টেস্ট।

এই ছয় ম্যাচের পাঁচটিতে জিততে পারলে বাংলাদেশের পয়েন্টের শতাংশ বেড়ে দাঁড়াবে প্রায় ৬৯ দশমিক ৪৪। তাতে ফাইনালে জায়গা করে নেওয়ার শক্তিশালী সম্ভাবনা তৈরি হবে। চার জয়, একটি ড্র ও একটি হার হলে পয়েন্টের শতাংশ হবে প্রায় ৬৩ দশমিক ৮৯। তবে সে ক্ষেত্রে অন্য দলগুলোর ফলের ওপরও নির্ভর করতে হবে।

বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের আগের চার ফাইনালিস্টের তিনটিই অন্তত ৬৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষ দুইয়ে জায়গা করেছিল। সবচেয়ে কম ৫৮ দশমিক ৮ শতাংশ পয়েন্ট নিয়ে ২০২৩ সালের ফাইনালে উঠেছিল ভারত। ফলে বাংলাদেশের জন্য বাকি প্রতিটি ম্যাচই গুরুত্বপূর্ণ।

অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ঐতিহাসিক সাফল্যের পর বাংলাদেশের ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন আরও জোরালো হয়েছে। ডারউইনে সিরিজের প্রথম টেস্ট জিতে পয়েন্টের শতাংশ ৬৬-এর ওপরে নিয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ। ম্যাকেতে দ্বিতীয় ম্যাচে ইনিংস ব্যবধানে হারের পর সেটি নেমে এসেছে ৫৫ দশমিক ৫৬-তে। তারপরও ১-১ সমতায় সিরিজ শেষ করায় ফাইনালের দৌড়ে টিকে আছে দলটি।

প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার মনে করেন, সামনের চার ম্যাচই বাংলাদেশের সম্ভাবনার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তিন বলেন, ‘ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুটি এবং দক্ষিণ আফ্রিকায় দুটি টেস্ট আছে। সেখানে ভালো করতে পারলে সামনে এগিয়ে যাওয়ার বড় সুবিধা পাব।’

এই সুযোগে কোনো ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে চান না নির্বাচকেরা। প্রতিটি ম্যাচেই সম্ভাব্য সেরা টেস্ট দল মাঠে নামানোর পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের।

হাবিবুল জানান বাংলাদেশ সম্ভাব্য সেরা দলই খেলাতে চায়। তিন সংস্করণে খেললে কাজের চাপের বিষয়টি আসে। এখন এ কারণে অন্য দুই সংস্করণের চেয়ে টেস্টকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টিতে ক্রিকেটারদের ঘুরিয়ে খেলানোর সম্ভাবনার কথাও বলেন তিনি।

তবে এই পরিকল্পনার অর্থ সাদা বলের ক্রিকেটকে গুরুত্বহীন করে দেওয়া নয়। যেসব ক্রিকেটার তিন সংস্করণেই নিয়মিত খেলেন, তাদের টেস্টের আগে পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও প্রস্তুতির সুযোগ দেওয়াই মূল লক্ষ্য। বিশেষ করে পেসারদের কাজের চাপ সতর্কতার সঙ্গে সামলাতে চায় দল পরিচালনা বিভাগ।

দক্ষিণ আফ্রিকার কঠিন সফরের দিকে এরই মধ্যে নজর দিয়েছেন পেস বোলিং কোচ তালহা জুবায়েরও। অস্ট্রেলিয়ার মতো দক্ষিণ আফ্রিকার উইকেটেও গতি ও বাউন্স থাকবে। তাই পেসারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।

তালহা জানান প্রতিপক্ষের ২০ উইকেট নিতে পেসারদের ভূমিকা অপরিহার্য। অস্ট্রেলিয়ার মতো দক্ষিণ আফ্রিকাতেও শৃঙ্খলা ধরে রাখতে পারাটা চ্যালেঞ্জ হবে বলেই মনে করেন দেশের এই পেস বোলিং কোচ।

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথম টেস্ট শুরু হবে ১৫ নভেম্বর জোহানেসবার্গের ওয়ান্ডারার্সে। দ্বিতীয় ম্যাচটি ২৩ নভেম্বর থেকে সেঞ্চুরিয়নের সুপারস্পোর্ট পার্কে। দ্রুত ও বাউন্সনির্ভর দুই মাঠেই বাংলাদেশের পেস আক্রমণের বড় পরীক্ষা হবে।

এখন পর্যন্ত শান্ত বাংলাদেশের সর্বোচ্চ ৬৪৭ রান করেছেন। সর্বোচ্চ ২৪ উইকেট বাঁহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলামের। ব্যাটিং ও বোলিং বিভাগের মূল ক্রিকেটারদের সুস্থ রেখে বাকি ছয় টেস্টে নামানোই এখন বিসিবির বড় চ্যালেঞ্জ।

বাংলাদেশ আগে কখনো বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালের এত কাছে পৌঁছাতে পারেনি। তাই সুযোগটি হাতছাড়া করতে চায় না দল পরিচালনা বিভাগ। সাদা বলের ক্রিকেটে ক্রিকেটারদের বিশ্রাম দিয়ে হলেও সেরা দল নিয়ে প্রতিটি টেস্টে নামাই এখন বাংলাদেশের পরিকল্পনা।

ফাইনালের স্বপ্নে টেস্টই এখন বাংলাদেশের অগ্রাধিকার