Advertisement

অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট খেলা গর্বের, বললেন তাসকিন

এশিয়া পোস্ট স্পোর্টস
অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট খেলা গর্বের, বললেন তাসকিন
তাসকিন আহমেদ। ছবি: এএফপি

২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। দীর্ঘ অপেক্ষার এই সিরিজে স্বাগতিকদের বিপক্ষে সাদা পোশাকে মাঠে নামার সুযোগকে দলের প্রত্যেক ক্রিকেটারের জন্য গর্বের মুহূর্ত বলে মনে করছেন টাইগারদের তারকা পেসার তাসকিন আহমেদ।

Advertisement

অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে তাসকিনের সম্পর্কটাও পুরোনো। ২০১২ সালে দেশটিতে নিজের প্রথম সফরে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে ট্রাভিস হেডকে আউট করেছিলেন তিনি। ১৪ বছর পর এবার সেই হেডের বিপক্ষেই টেস্টে বাংলাদেশের নতুন বল হাতে নেওয়ার অপেক্ষায় এই পেসার।

সিরিজ শুরুর আগে তাসকিন বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ খেলতে এখানে আসতে পারাটা আমাদের জন্য সত্যিই সম্মানের। নিঃসন্দেহে তারা বিশ্বের অন্যতম বড় দল। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে তাদের বিপক্ষে টেস্ট খেলা আমাদের প্রত্যেক ক্রিকেটারের জন্য গর্বের মুহূর্ত।’

কাজটা যে সহজ হবে না, সেটিও জানেন বাংলাদেশের পেস আক্রমণের অন্যতম ভরসা। তাসকিন বলেন, ‘সিরিজটি মোটেও সহজ হবে না। তারপরও আমরা ভালো করার আশা রাখছি।’

২০১২ সালের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের পর ২০১৫ ওয়ানডে বিশ্বকাপ ও ২০২২ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে অস্ট্রেলিয়ায় গিয়েছিলেন তাসকিন। তবে দেশটির মাটিতে স্বাগতিকদের বিপক্ষে কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলা হয়নি তার।

২০১৪ সালে মিরপুরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয়েছিল তাসকিনের। এবার প্রথমবার তাদের বিপক্ষে টেস্ট খেলতে নামবেন তিনি।

বাংলাদেশ এর আগে অস্ট্রেলিয়ায় একমাত্র টেস্ট সিরিজ খেলেছিল ২০০৩ সালে। আট বছর বয়সী তাসকিন সেই সিরিজ দেখেছিলেন ঘরে বসে। দুই দশকের বেশি সময় পর এবার সেই দেশেই বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণের দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন তিনি।

ছোটবেলা থেকে অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটার, বিশেষ করে দেশটির ফাস্ট বোলারদের অনুসরণ করেছেন তাসকিন। মিচেল স্টার্ক, জশ হ্যাজলউড, প্যাট কামিন্স ও স্কট বোল্যান্ডদের বোলিং তার বিশেষ পছন্দ। সিরিজ চলাকালে সুযোগ পেলে তাদের সঙ্গে পেস বোলিং নিয়েও কথা বলতে চান তিনি।

তাসকিন বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তি ক্রিকেটার ও ফাস্ট বোলারদের দেখে আসছি। এখন তাদের বিপক্ষে খেলার সুযোগ পাচ্ছি বলে খুবই রোমাঞ্চিত। অস্ট্রেলিয়া বোলিংয়ের জন্য আমার প্রিয় জায়গা। সুযোগ পেলে তাদের সঙ্গে অবশ্যই কথা বলব।’

দুই মাস আগে মিরপুরে অস্ট্রেলিয়াকে ২-১ ব্যবধানে ওয়ানডে সিরিজ হারিয়েছিল বাংলাদেশ। স্পোর্টিং উইকেটে পেস ও বাউন্স কাজে লাগিয়ে পাওয়া সেই সাফল্য অস্ট্রেলিয়া সফরের আগে আত্মবিশ্বাস দিচ্ছে তাসকিনকে। তবে ঘরের মাঠ ও অস্ট্রেলিয়ার কন্ডিশনের মধ্যে বড় পার্থক্য রয়েছে বলেও মনে করিয়ে দিয়েছেন তিনি।

‘মিরপুরে সাধারণত ধীরগতির ও স্পিনসহায়ক উইকেট দেখা যায়। তবে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সর্বশেষ সিরিজের উইকেট বেশ স্পোর্টিং ছিল। আমরা সবাই ভালো খেলেছিলাম এবং সিরিজ জিতেছিলাম। সেই সাফল্য আমাদের আত্মবিশ্বাস দিচ্ছে। তবে ঘরের মাঠ ও বিদেশের কন্ডিশনের মধ্যে বড় পার্থক্য রয়েছে’, বলেন তাসকিন।

ডারউইনে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচেই কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ৫৪ রানে অলআউট হয়ে ইনিংস ব্যবধানে হেরেছে সফরকারীরা। দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার ২২ বছর বয়সী পেসার ক্যাম্পবেল থম্পসন ২৫ রানে নিয়েছেন ৮ উইকেট।

হারের হতাশা লুকাননি তাসকিন। তবে মূল সিরিজে ঘুরে দাঁড়ানোর ব্যাপারে আশাবাদী তিনি।

তাসকিন বলেন, ‘প্রস্তুতি ম্যাচে হারের পর অনুভূতিটা ভালো ছিল না। ক্রিকেটে এমন ঘটনা ঘটে। আমরা এখনো এখানকার কন্ডিশন ও উইকেটের সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছি। হারলেও ম্যাচটি আমাদের ভালো প্রস্তুতি দিয়েছে। মূল ম্যাচে ভালো করার আশা রাখছি।’

বাংলাদেশের প্রস্তুতি ম্যাচের ফলকে অবশ্য খুব বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন না ট্রাভিস হেড। তার মতে, এমন ম্যাচে ক্রিকেটারদের মনোযোগ অনেক সময় আসন্ন টেস্টের দিকেই থাকে। বাংলাদেশের ক্রিকেটাররাও এখন প্রস্তুতি ম্যাচের ফল ভুলে বৃহস্পতিবারের লড়াই নিয়েই ভাবছেন বলে মনে করেন তিনি।

১৩ আগস্ট ডারউইনে শুরু হবে দুই দলের প্রথম টেস্ট। শৈশবে অস্ট্রেলিয়ার পেসারদের দেখে বড় হওয়া তাসকিন এবার তাদেরই মাঠে বাংলাদেশের পেস আক্রমণের নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুত।