বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশের সরে দাঁড়ানোয় আক্ষেপ নেই ক্রীড়া উপদেষ্টার

চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের অনুপস্থিতি নিয়ে ক্রীড়াঙ্গনে নানা আলোচনা থাকলেও এ সিদ্ধান্তকে সঠিক বলেই মনে করছেন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। দায়িত্বের শেষ দিনে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে এসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন।
সাধারণত সরকারি অফিস বিকেল পাঁচটার পর ফাঁকা হয়ে যায়, তবে ওই দিন সন্ধ্যা পর্যন্ত কর্মচাঞ্চল্য ছিল জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে। দায়িত্ব ছাড়ার আগে শেষবারের মতো সেখানে গিয়ে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেন ক্রীড়া উপদেষ্টা।
অন্তর্বর্তী সরকারের শুরুতে আইন ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা ড. নজরুল পরে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও পান। দুই মাসের কম সময়ে তার মেয়াদের সবচেয়ে আলোচিত সিদ্ধান্ত ছিল ভারতের মাটিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অংশ না নেওয়া।
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘কোনো রিগ্রেটের প্রশ্নই আসে না। সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ও খেলোয়াড়রা। দেশের ক্রিকেটের নিরাপত্তা, মানুষের নিরাপত্তা ও মর্যাদার কথা ভেবেই তারা স্যাক্রিফাইস করেছে।’
বিশ্বকাপে না যাওয়ার কারণে সম্ভাব্য আর্থিক ও প্রশাসনিক ক্ষতির বিষয়টি সামনে এলেও পরবর্তীতে পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হয়েছে বলে জানান তিনি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থার পক্ষ থেকে শাস্তির আশঙ্কা না থাকায় বিসিবির ভূয়সী প্রশংসা করেন ক্রীড়া উপদেষ্টা। তার ভাষায়, ‘এটি একটি নতুন দৃষ্টান্ত। এমন সিদ্ধান্ত প্রয়োজন হলে ভবিষ্যতেও নেওয়া উচিত।’
দায়িত্ব নেওয়ার পর বিকেএসপিকে শক্তিশালী করার পরিকল্পনার কথাও স্মরণ করেন তিনি। জানান, একটি পূর্ণাঙ্গ জাতীয় ক্রীড়া ইনস্টিটিউট গড়ে তুলতে দীর্ঘ সময় ও বড় অঙ্কের অর্থ দরকার। তাই আপাতত সীমিত পরিসরে আর্চারি, ফুটবল ও টেবিল টেনিসে উন্নয়নমূলক কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। বৈশ্বিক ক্রিকেট পরিস্থিতির কারণে বৃহৎ পরিকল্পনা এগোয়নি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
খেলাধুলার প্রতি নিজের অনুরাগের কথা তুলে ধরে ড. নজরুল বলেন, ‘খেলা মানুষকে অনেক খারাপ কাজ থেকে দূরে রাখে। তরুণদের জন্য খেলাধুলা খুব গুরুত্বপূর্ণ।’
দায়িত্বকালে বড় কোনো অর্জন দাবি না করলেও অবকাঠামোগত কিছু জটিলতা নিরসন ও কয়েকটি ফেডারেশনের জাতীয় প্রতিযোগিতার সুযোগ তৈরি করতে পেরেছেন বলে জানান তিনি।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এরপর নতুন সরকার গঠিত হলে পূর্ণ মেয়াদের ক্রীড়া মন্ত্রী দায়িত্ব নেবেন। ভবিষ্যৎ ক্রীড়া মন্ত্রীর প্রতি পরামর্শ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘একটি খেলাকে প্রাধান্য না দিয়ে সব খেলাকেই গুরুত্ব দেওয়া উচিত। ক্রিকেট সাফল্য দিয়েছে, তবে কাবাডি, দাবা, ফুটবলসহ অন্য খেলাগুলোকেও এগিয়ে নিতে হবে।’