সেমিফাইনালে প্রোটিয়াদের সামনে কিউই চ্যালেঞ্জ

আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের শিরোপা লড়াই এখন শেষ চার দলের গণ্ডিতে। আর প্রথম সেমিফাইনালেই জমে উঠছে বড় এক দ্বৈরথ—দক্ষিণ আফ্রিকা বনাম নিউজিল্যান্ড। কলকাতার ঐতিহাসিক ইডেন গার্ডেন্সে বুধবার (৪ মার্চ) মুখোমুখি হবে দুই দল, যারা এখনও টি-টোয়েন্টি কিংবা ওয়ানডে কোনো ফরম্যাটেই ক্রিকেট বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পায়নি।
তবে এই ম্যাচে আত্মবিশ্বাস একটু বেশি দক্ষিণ আফ্রিকার। পুরো টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত একমাত্র অপরাজিত দল তারা। গ্রুপ পর্বেও সাত উইকেটে হারিয়েছিল নিউজিল্যান্ডকে। তবু অধিনায়ক আইডেন মার্করাম মনে করছেন, সেই জয় সেমিফাইনালে কোনো বাড়তি সুবিধা দেবে না।
ম্যাচের আগের দিন সংবাদমাধ্যমকে মার্করাম বলেন, ‘গ্রুপ পর্বে আমরা ভালো খেলেছিলাম ঠিকই, কিন্তু এরপর দুই দলই অনেক ম্যাচ খেলেছে। সেমিফাইনাল সম্পূর্ণ নতুন শুরু। এখানে আগের ফলাফল খুব বেশি গুরুত্ব পায় না।’
২০২৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ফাইনালে ভারতের কাছে হৃদয়ভাঙা হারের স্মৃতি এখনও ভুলতে পারেনি দক্ষিণ আফ্রিকা। সেই ম্যাচে জয়ের জন্য ৩০ বলে ৩০ রান দরকার ছিল, হাতে ছিল ছয় উইকেট। তবু শেষ পর্যন্ত সাত রানে হেরে শিরোপা হাতছাড়া হয় প্রোটিয়াদের। এবারের আসরে তাই সেই হতাশা কাটিয়ে ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন দেখছে তারা।
দলের পারফরম্যান্সেও তার ছাপ স্পষ্ট। ব্যাট হাতে দারুণ ছন্দে আছেন মার্করাম নিজেই। সাত ম্যাচে ২৬৮ রান করেছেন তিনি, যার মধ্যে রয়েছে তিনটি অর্ধশতক এবং সর্বোচ্চ অপরাজিত ৮৬ রানের ইনিংস। অধিনায়ক হিসেবেও তার রেকর্ড ঈর্ষণীয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নেতৃত্ব দিয়ে ১৬ ম্যাচে ১৫ জয়।
মার্করামের মতে, দলের অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের উপস্থিতিই তাদের বড় শক্তি। ‘আমাদের দলে অনেক সিনিয়র ক্রিকেটার আছে, যারা কঠিন সময়ে দিকনির্দেশনা দেয়। এই দলগত ঐক্যই আমাদের আত্মবিশ্বাস বাড়ায়,’ বলেন তিনি।
অন্যদিকে নিউজিল্যান্ড নিজেদের ‘আন্ডারডগ’ হিসেবেই দেখছে। কিন্তু অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার মনে করেন, নকআউট ম্যাচে যে কোনো দলই বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।
স্যান্টনার বলেন, ‘আমরা এখন সেমিফাইনালে। এই পর্যায়ে এসে সবাই সমান সুযোগ নিয়ে মাঠে নামে। এক ম্যাচেই ভাগ্য নির্ধারিত হবে, আর এমন ম্যাচে আমরা নিজেদের ওপর ভরসা রাখি।’
টুর্নামেন্টে দুবার হেরে নেট রান রেটে সেমিফাইনালে উঠেছে নিউজিল্যান্ড। তবু বড় মঞ্চে তাদের অভিজ্ঞতা কম নয়। শেষ পাঁচ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মধ্যে এটি তাদের চতুর্থ সেমিফাইনাল। ২০২১ সালে ফাইনালেও উঠেছিল তারা, যদিও শেষ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার কাছে হেরে যায়।
সব মিলিয়ে কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে বুধবারের এই লড়াই কেবল একটি সেমিফাইনাল নয়, দুই দলের বহুদিনের আক্ষেপ ঘোচানোরও সুযোগ। শেষ পর্যন্ত কে পা রাখবে ফাইনালে, অপরাজিত দক্ষিণ আফ্রিকা নাকি অভিজ্ঞ নিউজিল্যান্ড তার উত্তর মিলবে এই এক ম্যাচেই। ক্রিকেট বিশ্ব এখন সেই লড়াইয়ের অপেক্ষায়।