logo
Advertisement

ভারত দলে ফেরার আশা ছাড়ছেন না শামি

ভারত দলে ফেরার আশা ছাড়ছেন না শামি
সর্বশেষ ২০২৩ সালে টেস্ট খেলেছেন মোহাম্মদ শামি। ছবি: গেটি ইমেজ

বয়স ৩৬ পেরিয়েছে, জাতীয় দলের বাইরে প্রায় দেড় বছর। ভারতের হয়ে শেষ টেস্ট খেলেছেন আরও তিন বছর আগে। তবু মোহাম্মদ শামির ক্রিকেটীয় ক্ষুধায় এতটুকু ভাটা পড়েনি। সুযোগ যে পর্যায়েই আসুক, সেটি কাজে লাগিয়ে আবারও পরের ধাপে পৌঁছাতে চান ভারতীয় পেসার।

দুলীপ ট্রফির ফাইনালে দক্ষিণাঞ্চলকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছে শামির দল পূর্বাঞ্চল। চেন্নাইয়ের ব্যাটিংবান্ধব উইকেটেও বল হাতে কার্যকর ছিলেন শামি। ১৬ ওভারে ৪২ রান দিয়ে নেন ২ উইকেট। পুরো টুর্নামেন্টে তার শিকার ৭ উইকেট।

ফাইনালটি আবার ছিল শামির ক্যারিয়ারের ১০০তম প্রথম শ্রেণির ম্যাচ। এমন মাইলফলকের পরও তার ভাবনা অবশ্য অতীতের অর্জন নিয়ে নয়, সামনে কী করা যায় তা নিয়ে।

শামি বলেন, ‘আমি সব সময় একটা কথাই বলি, আপনি জার্সির জন্য খেলেন। বুকে যখন সেই প্রতীক থাকে, তখন কোন পর্যায়ের ক্রিকেট খেলছেন, সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। সেই গর্ব নিয়ে খেললে লড়াইয়ের ক্ষুধাটা এমনিতেই আসে।’

জাতীয় দলে ফেরার রাস্তা যে সহজ নয়, সেটাও জানেন শামি। ভারতের হয়ে সর্বশেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন ২০২৫ সালের মার্চে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ফাইনালে। টেস্টে তার শেষ ম্যাচ আরও আগে, ২০২৩ সালের বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ ফাইনালে।

তবে দীর্ঘ অপেক্ষাও তার প্রেরণা কমাতে পারেনি।

শামির ভাষায়, ‘প্রেরণা ধরে রাখার অনেক কারণ আছে, যদি আপনি সেগুলো খুঁজে নিতে পারেন। এই পর্যায়ে এসে যদি নিজেকে নিজে অনুপ্রাণিত করতে না পারেন, তাহলে আপনার মানসিকতায় সমস্যা আছে। আপনি যে পর্যায়েই খেলুন, চোখ সব সময় পরের ধাপে থাকতে হবে।’

চেন্নাইয়ের উইকেটে পেসারদের জন্য খুব বেশি সহায়তা ছিল না। বেঙ্গালুরুতে কোয়ার্টার ফাইনাল ও সেমিফাইনালে যে সুবিধা পেয়েছিলেন, ফাইনালে তা ছিল না। তাই লাইন-লেংথ ও রিভার্স সুইংয়ের ওপরই ভরসা রাখেন অভিজ্ঞ এই পেসার।

শামি বলেন, ‘আমি এখনো শিখছি। এমন উইকেটে খুব বেশি সুইং আশা করা যায় না, বাউন্সও কম ছিল। তাই নিজের বেসিক ঠিক রাখাই ছিল মূল বিষয়। আমি আমার লাইন-লেংথের ওপর পুরোপুরি বিশ্বাস করি।’

অভিজ্ঞতার ছাপ শুধু নিজের বোলিংয়েই নয়, সতীর্থদের সাহায্য করতেও ব্যবহার করছেন শামি। ফাইনালে প্রতিপক্ষ দক্ষিণাঞ্চলের হয়ে খেলা মোহাম্মদ সিরাজের সঙ্গেও কথা বলেছেন তিনি। নিজের স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে সিরাজকে বেসিকের ওপর ভরসা রাখার পরামর্শ দেন।

১০০তম প্রথম শ্রেণির ম্যাচে শিরোপা জেতাটাও আলাদা আনন্দ দিয়েছে শামিকে। তবে নিজের প্রথম ম্যাচ কিংবা শততম, তার কাছে দায়িত্বের জায়গাটা একই।

‘প্রথম ম্যাচ হোক বা শততম, চেষ্টা আর মানসিকতা একই থাকে,’ বলেছেন শামি।

জাতীয় দলের দরজা আপাতত বন্ধ থাকলেও তাই থামতে রাজি নন তিনি। ঘরোয়া ক্রিকেটে সুযোগ পেলেই নিজেকে প্রস্তুত রাখছেন, কারণ শামির চোখ এখনো পরের সুযোগটার দিকেই।