এক ম্যাচের অভিজ্ঞতাতেই অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বকাপ দলে হ্যামিল্টন

আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে অভিজ্ঞতা মাত্র এক ম্যাচের। তবু বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে জায়গা পেয়ে গেলেন লুসি হ্যামিল্টন। ২০২৬ আইসিসি নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য ঘোষিত অস্ট্রেলিয়ার ১৫ সদস্যের দলে প্রথমবার ডাক পেয়েছেন ২০ বছর বয়সি এই বাঁহাতি পেসার।
সোফি মলিনিউক্সের নেতৃত্বে দল ঘোষণা করেছে অস্ট্রেলিয়া। দলে ফিরেছেন গ্রেস হ্যারিস ও অ্যানাবেল সাদারল্যান্ড। তবে জায়গা হয়নি ডারসি ব্রাউনের। তার জায়গাতেই কার্যত সুযোগ পেয়েছেন হ্যামিল্টন, যিনি এখন পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার হয়ে মাত্র একটি টি-টোয়েন্টি খেলেছেন।
হ্যামিল্টনের আন্তর্জাতিক পথচলা খুব বেশি দিনের নয়। মার্চে ভারতের বিপক্ষে টেস্ট ও ওয়ানডে অভিষেক হয় তার। টি-টোয়েন্টিতে একমাত্র ম্যাচটি খেলেছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে। এত কম অভিজ্ঞতা নিয়েও বিশ্বকাপ দলে জায়গা পাওয়া তাই অস্ট্রেলিয়ার নির্বাচকদের বড় আস্থার ইঙ্গিত।
অস্ট্রেলিয়ার পেস আক্রমণে অভিজ্ঞতার অভাব নেই। এলিস পেরি খেলতে যাচ্ছেন নিজের দশম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। আছেন মেগান শাট, কিম গার্থ, নিকোলা ক্যারির মতো পরীক্ষিত নাম। সেই ভিড়েই হ্যামিল্টনকে নেওয়া হয়েছে তার ভিন্নতার কারণে। বাঁহাতি পেসার হিসেবে তিনি আক্রমণে আলাদা মাত্রা যোগ করতে পারেন, এমনটাই মনে করছে অস্ট্রেলিয়ার নির্বাচক কমিটি।
জাতীয় নির্বাচক শন ফ্লেগলার ডারসি ব্রাউনকে বাদ দিয়ে হ্যামিল্টনকে নেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করেছেন। তার মতে, সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়েছে সম্ভাব্য কন্ডিশন ও দলের ভারসাম্য বিবেচনায়।
ফ্লেগলার বলেন, 'ডারসি ব্রাউন দুর্ভাগ্যজনকভাবে বাদ পড়েছে। তবে আমরা যে কন্ডিশন আশা করছি এবং দলের গঠন যেভাবে করতে চেয়েছি, সিদ্ধান্তটি সেখান থেকেই নেওয়া। দলে অন্তত ছয়জন ডানহাতি পেস অপশন আছে এবং কাঁচা গতি খুব কার্যকর হবে বলে মনে হচ্ছে না। তাই আমরা লুসি হ্যামিল্টনকে নিয়েছি, যে বাঁহাতি পেসার হিসেবে ভিন্ন কিছু দিতে পারে।'
ব্রাউন এ বছর চারটি টি-টোয়েন্টিতে বল করেও উইকেট পাননি। সেই পরিসংখ্যানও তার বিপক্ষে গেছে। অন্যদিকে হ্যামিল্টনের অভিজ্ঞতা কম হলেও তার বোলিং অ্যাঙ্গেল ও বাঁহাতি বৈচিত্র্য অস্ট্রেলিয়ার পরিকল্পনায় জায়গা করে নিয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার স্পিন বিভাগও বেশ শক্তিশালী। অধিনায়ক মলিনিউক্সের সঙ্গে আছেন আলানা কিং, অ্যাশলি গার্ডনার ও জর্জিয়া ওয়্যারহ্যাম। গার্ডনার ও তাহলিয়া ম্যাকগ্রাকে করা হয়েছে সহ-অধিনায়ক। ব্যাটিংয়ে বেথ মুনি, ফিবি লিচফিল্ড, জর্জিয়া ভল, এলিস পেরি ও গ্রেস হ্যারিস দলকে অভিজ্ঞতা ও গভীরতা দেবে।
ফ্লেগলার দল নিয়ে বলেছেন, ‘এ ধরনের দল নির্বাচন কখনও সহজ নয়। তবে এই গ্রুপের ভারসাম্য ও স্থিতিশীলতা নিয়ে আমরা আত্মবিশ্বাসী। এটি অভিজ্ঞ দল এবং আমরা বিশ্বাস করি, তারা বিশ্বকাপ জেতার সামর্থ্য রাখে।’
অস্ট্রেলিয়ার নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দল
সোফি মলিনিউক্স, অ্যাশলি গার্ডনার, তাহলিয়া ম্যাকগ্রা, এলিস পেরি, নিকোলা ক্যারি, কিম গার্থ, লুসি হ্যামিল্টন, আলানা কিং, গ্রেস হ্যারিস, ফিবি লিচফিল্ড, জর্জিয়া ভল, বেথ মুনি, মেগান শাট, অ্যানাবেল সাদারল্যান্ড ও জর্জিয়া ওয়্যারহ্যাম।
রিজার্ভ: তাহলিয়া উইলসন।