Advertisement

‘সব বিভাগেই আমাদের হারিয়েছে বাংলাদেশ’: কামিন্স

এশিয়া পোস্ট স্পোর্টস
‘সব বিভাগেই আমাদের হারিয়েছে বাংলাদেশ’: কামিন্স
প্যাট কামিন্স। ছবি: গেটি ইমেজ

ঘরের মাঠে পূর্ণ শক্তির দল নিয়েও বাংলাদেশের কাছে ৯ উইকেটে হেরেছে অস্ট্রেলিয়া। ডারউনের ঐতিহাসিক পরাজয়ের পর কোনো অজুহাত দাঁড় করাননি প্যাট কামিন্স। অস্ট্রেলিয়া অধিনায়কের সরল স্বীকারোক্তি, ম্যাচের প্রতিটি বিভাগেই তার দলকে ছাড়িয়ে গেছে বাংলাদেশ।

Advertisement

ম্যাচ শেষে কামিন্স বলেন, ‘বাংলাদেশ সব বিভাগেই আমাদের হারিয়েছে। ওরা দারুণ ধৈর্যশীল ও শৃঙ্খলাবদ্ধ ছিল। একবার পিছিয়ে পড়ার পর আমাদের জন্য ম্যাচে ফেরা খুব কঠিন হয়ে গিয়েছিল।’

অস্ট্রেলিয়ার পরাজয়ের ভিত্তি তৈরি হয়েছিল প্রথম দিনেই। টস জিতে ব্যাটিং নেওয়ার পর হাসান মাহমুদ, তাসকিন আহমেদ ও ইবাদত হোসেনের পেসের সামনে মাত্র ১৯৮ রানে গুটিয়ে যায় স্বাগতিকেরা। কামিন্সের মতে, সেই ব্যাটিং ব্যর্থতার ক্ষতি আর পুষিয়ে নিতে পারেনি তার দল।

তিনি বলেন, ‘সম্ভবত প্রথম দিনটাই ম্যাচের মোড় ঠিক করে দিয়েছে। আমাদের প্রস্তুতি একদম ঠিক ছিল, তাই কোনো অজুহাত নেই। বাংলাদেশ খুব ভালো খেলেছে। আমাদের আরও দীর্ঘ সময় ব্যাট করার পথ খুঁজে নিতে হতো। এরপর বল হাতেও আমরা ওদের ব্যাটিং ভাঙতে পারিনি।’

অস্ট্রেলিয়ার তারকাখচিত আক্রমণকে ১৩৮ ওভার মাঠে রেখে ৪২৬ রান করে বাংলাদেশ। তানজিদ হাসান তামিমের ১০১ রানের পাশাপাশি নাজমুল হোসেন শান্ত করেন ৮৪ এবং মেহেদী হাসান মিরাজ ৬৫ রান। নিচের সারির ব্যাটারদের প্রতিরোধও অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের হতাশ করেছে।

নিজেদের ব্যাটিং নিয়েই এখন সবচেয়ে বেশি চিন্তিত কামিন্স। অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক বলেন, ‘ব্যাটিং ইউনিটটি আমরা যেভাবে চাই, ঠিক সেভাবে কাজ করছে না। কয়েকজন ভালো শুরু পেয়েছিল, কিন্তু সেই ইনিংসগুলো বড় করতে পারেনি।’

দ্বিতীয় ইনিংসে একাই লড়াই করেছেন ক্যামেরন গ্রিন। তার ১০৪ রানের ইনিংসে অস্ট্রেলিয়া ২৮৪ পর্যন্ত গেলেও অন্য প্রান্ত থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা মেলেনি। গ্রিনের প্রশংসা করে কামিন্স বলেন, ‘এই ইনিংসে গ্রিনের ছন্দ দেখিয়েছে সে কতটা ভালো ব্যাটার। শুধু আমাদের আরও দু-একজনকে তার সঙ্গে টিকে থাকতে হতো। সে অসাধারণ খেলেছে।’

জশ হ্যাজলউডের বোলিংও আলাদাভাবে উল্লেখ করেছেন অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক। বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসে ৮৯ রানে ৬ উইকেট নেওয়া এই পেসারকে নিয়ে কামিন্স বলেন, ‘গত কয়েক বছরে চোটের কারণে জশের সময়টা ভালো যায়নি। কিন্তু সে দলের সবচেয়ে পরিশ্রমী খেলোয়াড়দের একজন। খুব বেশি সহায়তা না পেয়েও ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নিয়ে নিজের মান দেখিয়েছে।’

পরাজয়ের পর দ্বিতীয় টেস্টের একাদশে পরিবর্তনের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি কামিন্স। তিনি বলেন, ‘এমন ম্যাচের পর প্রতিপক্ষের সঙ্গে কার লড়াই কেমন হচ্ছে এবং পরের ম্যাচের দল কেমন হবে, তা দেখা হয়। ম্যাচটি মাত্র শেষ হলো, তাই আমরা সবকিছু নিয়ে ভাবব। ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে আমরা বেশ ভালো। ব্যাটারসহ প্রতিটি বিভাগই কোথায় উন্নতি করা যায়, তা খুঁজে বের করবে।’

অস্ট্রেলিয়ার ১৯৮ রানের জবাবে বাংলাদেশ করেছিল ৪২৬। দ্বিতীয় ইনিংসে মিরাজের ৫ উইকেটে স্বাগতিকেরা থামে ২৮৪ রানে। পরে ৫৭ রানের লক্ষ্য ১৪.২ ওভারে এক উইকেট হারিয়েই পেরিয়ে যায় বাংলাদেশ। দুই ম্যাচের সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট আগামী ২২ আগস্ট ম্যাকেতে শুরু হবে।