৫০ ওভারও খেলতে না পারার ব্যর্থতা মনে করিয়ে দিলেন লিটন

আফগানিস্তানের বিপক্ষে সর্বশেষ ওয়ানডে সিরিজের তিন ম্যাচের একটিতেও পুরো ৫০ ওভার ব্যাট করতে পারেনি বাংলাদেশ। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে আগের সিরিজেও প্রথম দুই ম্যাচে অলআউট হয়েছিল দল। এমন ব্যাটিং ব্যর্থতা নিয়েই এবার নতুন অধিনায়ক লিটন দাসের সামনে ওয়ানডে ক্রিকেটে ঘুরে দাঁড়ানোর চ্যালেঞ্জ। ত্রিদেশীয় সিরিজ শুরুর আগে তাই অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের আরও দায়িত্বশীল হওয়ার তাগিদ দিয়েছেন তিনি।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) আবুধাবিতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে ওয়ানডে ত্রিদেশীয় সিরিজ শুরু করবে বাংলাদেশ। প্রতিযোগিতার অন্য দল আফগানিস্তান। পূর্ণাঙ্গ ওয়ানডে অধিনায়ক হিসেবে এটাই লিটনের প্রথম সিরিজ।
শুক্রবার ম্যাচ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে দলের সাম্প্রতিক ব্যাটিং ব্যর্থতা নিয়ে লিটন বলেন, ‘সিনিয়র খেলোয়াড় হিসেবে আমাদের দায়িত্ব নিতে হবে। এখানে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে আমরা ৫০ ওভার ব্যাট করতে পারিনি। জিম্বাবুয়েতেও পারিনি। ব্যাটিং ইউনিট হিসেবে আমাদের দায়িত্ব হলো, প্রথম ছয়-সাতজন ব্যাটারের মধ্যে যারা আছি, তারা যেন ম্যাচ শেষ করতে পারি।’
গত বছরের অক্টোবরে আবুধাবিতেই আফগানিস্তানের কাছে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হয়েছিল বাংলাদেশ। শেষ দুই ম্যাচে যথাক্রমে ১০৯ ও ৯৩ রানে অলআউট হয় দল। এরপর জুলাইয়ে জিম্বাবুয়ে সফরেও ২-১ ব্যবধানে সিরিজ হারে বাংলাদেশ। প্রথম ওয়ানডেতে ১১৬ রানে গুটিয়ে যাওয়ার পর দ্বিতীয় ম্যাচে অলআউট হয়েছিল ২৩৪ রানে।
তবে আগের ব্যর্থতা নিয়ে পড়ে থাকতে চান না বাংলাদেশ অধিনায়ক। তার মতে, অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা নিতে হবে, কিন্তু সেসব ভেবে আত্মবিশ্বাস হারালে চলবে না।
লিটন বলেন, ‘আগে যা ঘটেছে, তা আমাদের প্রস্তুতিতে সাহায্য করতে পারে। কিন্তু আগে খারাপ খেলেছি বলে ভবিষ্যতেও খারাপ খেলব, এমন চিন্তায় পড়ে থাকলে চলবে না। আমাদের মানসিকতা ইতিবাচক রাখতে হবে। আমরা ইতিবাচক ক্রিকেট খেলার চেষ্টা করব।’
ত্রিদেশীয় সিরিজে বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে নতুন মুখ রহস্য স্পিনার আলিস আল ইসলাম। এশিয়ান গেমসে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হলেও ওয়ানডেতে এখনো খেলা হয়নি তার। ঘরোয়া ক্রিকেটে ভালো পারফরম্যান্সের পর এবার প্রথমবারের মতো ওয়ানডে দলে ডাক পেয়েছেন তিনি।
সর্বশেষ ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগে প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবের হয়ে ১০ ম্যাচে ২৪ উইকেট নিয়েছিলেন আলিস। প্রতিযোগিতার সর্বোচ্চ উইকেটশিকারিও ছিলেন এই স্পিনার।
আলিসকে দলে নেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে লিটন বলেন, ‘সাদা বলের ক্রিকেটে আলিস খুব ভালো করছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে সে নিজেকে প্রমাণ করেছে। আমার মনে হয়, তাকে দলে নেওয়ার এটাই সঠিক সময়। দলের সঙ্গে থেকে সে যদি অনেক কিছু শিখতে পারে এবং অবদান রাখতে পারে, তাহলে সেটা বাংলাদেশের জন্য ভালো হবে।’
আগামী বছরের এশিয়া কাপ ও ওয়ানডে বিশ্বকাপের প্রস্তুতির জন্যও ত্রিদেশীয় সিরিজকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করছেন লিটন। অধিনায়ক হিসেবে এই প্রতিযোগিতাকে বড় সুযোগ হিসেবে দেখছেন তিনি।
লিটন বলেন, ‘অধিনায়ক হিসেবে এটা আমার জন্য অনেক বড় সুযোগ। সামনে বিশ্বকাপ ও এশিয়া কাপ আছে। আমার মনে হয়, প্রস্তুতির জন্য এটাই সেরা সুযোগ। এশিয়া কাপে পাঁচ-ছয়টি দল থাকবে, এখানে তিনটি। তবে চাপ ও অন্য বিষয়গুলো প্রায় একই রকম।’
ত্রিদেশীয় সিরিজে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হতে পারবে কি না, এমন প্রশ্নেও আশাবাদী লিটন। তার জবাব, ‘অবশ্যই। আমরা যদি ভালো ক্রিকেট খেলি, তাহলে কেন নয়?’
-537e79.webp)