Advertisement

আঙুলের শব্দে ‘আউট’, নিষিদ্ধ সেই ক্রিকেটার

এশিয়া পোস্ট স্পোর্টস
আঙুলের শব্দে ‘আউট’, নিষিদ্ধ সেই ক্রিকেটার
আলোচিত সেই অপেশাদার ক্রিকেটার। ছবি: এক্স

বল ব্যাটের পাশ দিয়ে চলে যাচ্ছে উইকেটকিপারের গ্লাভসে। ঠিক সেই মুহূর্তে স্লিপে দাঁড়ানো ফিল্ডার আঙুল দিয়ে তৈরি করছেন ব্যাটে বল লাগার মতো শব্দ। এরপর সম্মিলিত আবেদনে আঙুল তুলে দিচ্ছেন আম্পায়ার। ইংল্যান্ডের অপেশাদার ক্রিকেটের এমন ভিডিও ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয়েছে তুমুল বিতর্ক।

অভিযোগের কেন্দ্রে থাকা ক্রিকেটারকে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করেছে তার ক্লাব সল্টবার্ন ক্রিকেট ক্লাব। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত চলতি মৌসুম কিংবা নিকট ভবিষ্যতে ক্লাবটির হয়ে তিনি আর খেলতে পারবেন না।

গত ২৫ জুলাই নর্থ ইয়র্কশায়ার অ্যান্ড সাউথ ডারহাম ক্রিকেট লিগের দ্বিতীয় বিভাগের ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল সল্টবার্ন ও নর্টনের দ্বিতীয় একাদশ। সেই ম্যাচের ভিডিওতে সল্টবার্নের এক ফিল্ডারকে আঙুলের সাহায্যে শব্দ তৈরি করতে দেখা যায়।

ভিডিওতে দেখা যায়, ব্যাটার বল খেলার চেষ্টা করলেও ব্যাটে কোনো স্পষ্ট স্পর্শ নেই। বল উইকেটকিপারের হাতে যাওয়ার ঠিক আগে আঙুলে শব্দ করেন কাছাকাছি দাঁড়ানো ফিল্ডার। ব্যাটে বল লাগার মতো আওয়াজ শুনে আবেদন মেনে ব্যাটারকে আউট দেন আম্পায়ার।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর ওই ক্রিকেটারের নাম দেওয়া হয় ‘ক্লিকি পন্টিং’। অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক রিকি পন্টিংয়ের নামের সঙ্গে আঙুলে শব্দ করার ইংরেজি শব্দ ‘ক্লিক’ মিলিয়ে ব্যঙ্গাত্মক নামটি তৈরি করেছেন ক্রিকেট সমর্থকেরা।

ভিডিওটি কয়েক মিলিয়নবার দেখা হয়েছে। একই ধরনের আরও কিছু ভিডিও সামনে এনে আগের ম্যাচগুলোতেও এমন কৌশল ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন অনেকে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রমাণিত হয়নি।

ঘটনাটি নিয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে নর্থ ইয়র্কশায়ার অ্যান্ড সাউথ ডারহাম ক্রিকেট লিগ। লিগ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তদন্তের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার আগে তারা আর কোনো মন্তব্য করবে না।

স্বেচ্ছাসেবীদের মাধ্যমে পরিচালিত সল্টবার্ন ক্রিকেট ক্লাব এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, অভিযোগটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত চলাকালে সংশ্লিষ্ট ক্রিকেটারকে নিষিদ্ধ রাখার পাশাপাশি লিগ কর্তৃপক্ষকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।

ক্লাবটি আরও জানিয়েছে, ঘটনাটি সংশ্লিষ্ট সবার জন্য চাপ ও অস্বস্তি তৈরি করেছে। তাই তদন্ত শেষ হওয়ার আগে খেলোয়াড় এবং তাদের পরিবারের ব্যক্তিগত সীমার প্রতি সম্মান দেখানোর অনুরোধ করেছে তারা।

১৫ ম্যাচে ১০ জয় নিয়ে দ্বিতীয় বিভাগের পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে রয়েছে সল্টবার্ন। তবে ভাইরাল ভিডিওকে ঘিরে ওঠা অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ক্রিকেটারের পাশাপাশি ক্লাবটিকেও আরও শাস্তির মুখে পড়তে হতে পারে।