শেষ বলের নাটকীয়তায় আফগানিস্তানের সঙ্গে টাই বাংলাদেশের

জয়ের জন্য শেষ ওভারে বাংলাদেশের প্রয়োজন ১৫ রান। প্রথম দুই বলে এল মাত্র এক রান। পরের তিন বলে চার, দুই ও ছক্কা হাঁকিয়ে ম্যাচের সমীকরণ পাল্টে দিলেন রুবাই ইসলাম রিজন। শেষ বলে দরকার ছিল দুই রান। ব্যাটে বল লাগাতে না পারলেও বাই থেকে এক রান নিয়ে ম্যাচ টাই করলেন তিনি। রিজনের এমন বীরত্বে আফগানিস্তানের বিপক্ষে প্রায় হেরে যাওয়া ম্যাচে সমতা নিয়ে মাঠ ছেড়েছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) ওমানের আল আমেরাত ক্রিকেট গ্রাউন্ডে চার ম্যাচের যুব ওয়ানডে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে টস জিতে আগে ব্যাট করে ৯ উইকেটে ৩০৪ রান তোলে আফগানিস্তান। জবাবে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৮ উইকেটে সমান ৩০৪ রান করে বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচে ৩৩ রানে জেতায় সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে বাংলাদেশের যুবারা।
বড় লক্ষ্য তাড়ায় শুরুটা ভালোই করেছিল বাংলাদেশ। প্রথম ১০ ওভারে ১ উইকেটে ৭০ রান তোলে তারা। ওপেনার আবদুল্লাহ আল মুহি ৪৫ বলে ৫০ রান করেন। এরপর আল আমিন হোসেন রনির ৫৬ বলে ৭১ এবং আহসান আল মুমিনের ৬৬ বলে ৫৬ রানের ইনিংসে জয়ের পথেই ছিল বাংলাদেশ।
একপর্যায়ে ৪০ ওভার শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ছিল ৪ উইকেটে ২৩৬ রান। শেষ ১০ ওভারে জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ৬৯ রান, হাতে ৬ উইকেট। কিন্তু নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে দল। বিশেষ করে ৪৯তম ওভারে ইমরান মোহাম্মাদি মাত্র এক রান দিলে শেষ ওভারে জয়ের জন্য প্রয়োজন পড়ে ১৫ রান।
সেই কঠিন পরিস্থিতিতে ব্যাট হাতে জ্বলে ওঠেন রিজন। আমির হামজার ওভারের প্রথম বল ডট খেলেন শেখ আতিকুর রহমান। দ্বিতীয় বলে এক রান নিয়ে রিজনকে স্ট্রাইক দেন তিনি। এরপর তৃতীয় বলে চার, চতুর্থ বলে দুই এবং পঞ্চম বলে ছক্কা হাঁকিয়ে জয়ের সম্ভাবনা বাঁচিয়ে রাখেন রিজন।
শেষ বলে দুই রান প্রয়োজন হলেও ব্যাটে বল লাগাতে পারেননি তিনি। তবে উইকেটকিপার বল ধরার আগে বাই থেকে এক রান নেন দুই ব্যাটার। তাতেই ৩০৪ রানে শেষ হয় বাংলাদেশের ইনিংস, ম্যাচ হয় টাই। ৩টি চার ও ২টি ছক্কায় ১৯ বলে ৩৩ রানে অপরাজিত থাকেন রিজন।
এর আগে আফগানিস্তানের বড় সংগ্রহে সবচেয়ে বড় অবদান নোমান সালারজাইয়ের। ৯০ বলে ৭৬ রান করেন তিনি। ওপেনার ফরিদউল্লাহ ইহসাস করেন ৪৭ বলে ৫১। শেষ দিকে তাহির সারওয়ারির ৩১ বলে ৪৩ এবং আমির হামজার ১১ বলে ২১ রানে তিনশ ছাড়ায় আফগানরা।
বাংলাদেশের হয়ে বল হাতেও সফল ছিলেন রিজন। ৯ ওভারে ৭২ রান দিয়ে ৪ উইকেট নেন এই পেসার। আগের ম্যাচে ৩৭ রানে ৫ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশকে জিতিয়েছিলেন তিনি। এবার বোলিংয়ের পাশাপাশি ব্যাট হাতেও দলকে পরাজয়ের হাত থেকে বাঁচালেন।
যুব ওয়ানডের ইতিহাসে এটি বাংলাদেশের তৃতীয় টাই। এর আগে ২০০২ সালে কানাডা এবং ২০১৯ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সমতায় শেষ হয়েছিল বাংলাদেশের ম্যাচ।
বুধবার (২১ অক্টোবর) একই মাঠে সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে মুখোমুখি হবে দুই দল।
