বিশ্বকাপে ব্যর্থতার ইতিহাস বদলাতে চান নিগাররা

নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের রেকর্ড খুব উজ্জ্বল নয়। ২৫ ম্যাচে জয় মাত্র ৩টি। সেই পরিসংখ্যানই এবার বদলাতে চান বাংলাদেশ অধিনায়ক নিগার সুলতানা। ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠেয় আসরের আগে তার বার্তা পরিষ্কার, অতীতের ব্যর্থতাকে চাপ হিসেবে নয়, ইতিহাস বদলানোর চ্যালেঞ্জ হিসেবেই নিচ্ছে বাংলাদেশ।
রোববার মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে নিগার বলেন, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দীর্ঘ সময় জয়হীন ছিল বাংলাদেশ। তবে সেটিকে তিনি চাপ হিসেবে দেখছেন না। বরং তার কাছে এটি ইতিহাস বদলানোর সুযোগ।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে বাংলাদেশের তিনটি জয় এসেছে দুই আসরে। ২০১৪ সালে শ্রীলঙ্কা ও আয়ারল্যান্ডকে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। এরপর দীর্ঘ অপেক্ষা। সেই জয়খরা কাটে ২০২৪ বিশ্বকাপে, স্কটল্যান্ডকে হারিয়ে। তবে সেই জয়ের পর আর কোনো ম্যাচ জিততে পারেনি বাংলাদেশ।
নিগারের মতে, দুবাইয়ে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে সেই জয় দলকে আত্মবিশ্বাস দিয়েছিল। যদিও বাকি ম্যাচগুলোতে জয় আসেনি, তবে গত এক বছরে দলের সমন্বয় আরও ভালো হয়েছে বলে মনে করেন তিনি। তার বিশ্বাস, এখন টি-টোয়েন্টিতে আগের চেয়ে বেশি ক্রিকেটার দায়িত্ব নিচ্ছেন। বিশ্বমঞ্চে ভালো খেলতে হলে সেই ধারাবাহিকতাই ধরে রাখতে হবে।
বাংলাদেশ অধিনায়ক বলেন, এখন শুধু ভালো লড়াই করাই লক্ষ্য নয়, জয়ের সংখ্যাও বাড়াতে হবে। বৈশ্বিক আসরে নিয়মিত ম্যাচ জেতার মানসিকতা তৈরি করতে চান তারা। ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে তাই বাংলাদেশের লক্ষ্য আগের রেকর্ডের বাইরে গিয়ে নিজেদের নতুনভাবে প্রমাণ করা।
স্কোয়াডে মাত্র দুইজন মূল পেসার থাকা নিয়েও কথা বলেছেন নিগার। দলে আছেন মারুফা আক্তার ও ফারিহা ইসলাম তৃষ্ণা। এ নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও উদ্বিগ্ন নন অধিনায়ক। তার মতে, পেস বোলিং অলরাউন্ডার রিতু মনি তৃতীয় সিম অপশন হিসেবে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন।
নিগার জানান, গত ছয় মাস ধরে মারুফা ও তৃষ্ণা নিয়মিত দলের সঙ্গে খেলছেন। বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুত ক্রিকেটারদেরই নেওয়ার চিন্তা ছিল টিম ম্যানেজমেন্টের। মারুফা ধারাবাহিকভাবে ভালো করছেন, আর তৃষ্ণাও সাম্প্রতিক সিরিজে সুযোগ পেয়ে নিজের সামর্থ্য দেখিয়েছেন। তাই এই দুই পেসারকে ধরে রাখা এবং বিশ্বকাপের জন্য ফিট রাখা এখন গুরুত্বপূর্ণ।
নিজের ফিটনেস নিয়েও প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন নিগার। আঙুলের পুরোনো চোট নিয়ে আলোচনা থাকলেও তিনি জানালেন, তিনি শতভাগ ফিট। ডান হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলিতে লিগামেন্ট না থাকার পরও বহু বছর ধরে খেলে যাচ্ছেন বলে জানান বাংলাদেশ অধিনায়ক।
নিগারের ভাষায়, বিশ্বের কোনো ক্রিকেটারই পুরোপুরি চোটমুক্ত থাকেন না। সবাই ছোটখাটো সমস্যা নিয়েই খেলে। তার ক্ষেত্রেও কিছু বিষয় আছে, যেগুলো সামলে নেওয়া যায়। মাঠে সেগুলোর কোনো প্রভাব পড়বে না বলেই আত্মবিশ্বাসী তিনি।
ইংল্যান্ড বিশ্বকাপ তাই নিগারের কাছে শুধু আরেকটি বৈশ্বিক আসর নয়। এটি বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটের জন্য পুরোনো হিসাব পাল্টানোর সুযোগ। ২৫ ম্যাচে ৩ জয়ের রেকর্ড বদলে এবার আরও দৃঢ়, আরও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ বাংলাদেশকে দেখাতে চান তিনি।
