ক্রিকেটার রুবেলের চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকীতে স্ত্রীর হৃদয়ভাঙা স্ট্যাটাস

বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার মোশাররফ রুবেলের মৃত্যুবার্ষিকীতে আবেগঘন স্মৃতিচারণ করেছেন তার স্ত্রী চৈতি ফারহানা রূপা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া দীর্ঘ এক পোস্টে তিনি তুলে ধরেছেন চার বছর আগের সেই দিনটির প্রতিটি মুহূর্ত যেদিন তিনি স্বামীকে হারান, আর তার সন্তান হয়ে যায় পিতৃহীন।
পোস্টের শুরুতেই রূপা লিখেছেন, ‘আজ ১৯ এপ্রিল…আজ আমার ছেলের পিতৃহীন হওয়ার দিন। ১৯ এপ্রিলকে আমি ভয় পাই।’
তিনি জানান, দিনটি ঘিরে এখনও তার মধ্যে অস্থিরতা কাজ করে। চার বছর আগের প্রতিটি ঘটনা সকাল, দুপুর, রাত সবকিছু যেন এখনও স্পষ্ট মনে আছে তার।
সেই দিনের বর্ণনায় উঠে আসে রুবেলের অসুস্থতার কঠিন সময়। দীর্ঘদিন প্যারালাইসড অবস্থায় থাকা রুবেলকে নল দিয়ে খাওয়ানো হতো। প্রতিদিনের মতো সেদিনও ভোরে উঠে স্বামীর জন্য খাবার প্রস্তুত করেছিলেন তিনি।
কিন্তু দুপুরের দিকে পরিস্থিতি হঠাৎ বদলে যায়। নার্স ফোন করে জানায় রুবেল অস্বস্তি বোধ করছেন। অফিস থেকে তড়িঘড়ি বের হলেও তীব্র যানজটে আটকে পড়েন রূপা। ‘১৫ মিনিটের রাস্তা আসতে আমার লাগলো দুই ঘণ্টা…মনে হচ্ছিল পৃথিবীর কোথাও কিছু নড়ছে না,’—লিখেছেন তিনি।
বাসায় পৌঁছেই হাসপাতালে নেওয়া হলেও শেষ রক্ষা হয়নি। চিকিৎসকরা অল্প সময়ের মধ্যেই জানিয়ে দেন, সব শেষ। কিন্তু তখনও বাস্তবতা মেনে নিতে পারেননি তিনি। ‘বারবার বলছিলাম আরেকবার দেখেন, আপনাদের কোথাও ভুল হচ্ছে,’ স্মৃতিচারণ করেন রূপা।
এরপরের সময়টা ছিল নিঃশব্দ শোক আর অসহায়তার। স্বামীর মরদেহের পাশে একা বসে থাকা, আত্মীয়দের কান্না, আর শেষ বিদায়ের মুহূর্ত সবকিছুই যেন জমাট বেদনার মতো ফিরে এসেছে তার লেখায়।
রুবেলকে কাফনে মোড়ানো অবস্থায় শেষবার দেখে তিনি লিখেছেন, ‘কি সুন্দর, কি স্নিগ্ধ… আমি শেষবারের মতো কপালে চুমু খেলাম।’
পরবর্তীতে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে হাজারো মানুষ অংশ নেয়। সেই মুহূর্তও তার কাছে অবিস্মরণীয় ‘আহারে! রুবেল যদি দেখতো…’
সবশেষে বনানী কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত হন রুবেল। সেই রাতের স্মৃতি এখনও তাড়া করে বেড়ায় তাকে।