মেন্ডিসের ঝড়ে পাকিস্তানকে হারিয়ে হোয়াইটওয়াশ এড়াল শ্রীলঙ্কা

আগের দুই ম্যাচ হেরে সিরিজ খুইয়েছিল শ্রীলঙ্কা। শেষ ম্যাচে তাই লক্ষ্য ছিল অন্তত হোয়াইটওয়াশ এড়ানো। সেই লক্ষ্য পূরণে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিলেন অধিনায়ক কুশল মেন্ডিস। তার বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে পাকিস্তানকে ৮ উইকেটে উড়িয়ে দিয়ে স্বস্তির জয় পেয়েছে লঙ্কানরা। তবে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ ২–১ ব্যবধানে জিতেছে স্বাগতিক পাকিস্তানই।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাওয়ালপিন্ডি ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টিতে আগে ব্যাট করে ৮ উইকেটে ১৬৮ রান তোলে পাকিস্তান। জবাবে ১৭ দশমিক ১ ওভারে মাত্র ২ উইকেট হারিয়ে ১৭২ রান তুলে জয় নিশ্চিত করে শ্রীলঙ্কা। ৪৮ বলে ৯ চার ও ৪ ছক্কায় অপরাজিত ৮৭ রান করে ম্যাচসেরা হয়েছেন কুশল মেন্ডিস।
১৬৯ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে শ্রীলঙ্কা। প্রথম ওভারেই ১৪ রান করেন সিনেথ জয়াবর্ধনে। তবে দ্বিতীয় ওভারে লাহিরু উদারাকে (১) এলবিডব্লিউ করে পাকিস্তানকে প্রথম সাফল্য এনে দেন মোহাম্মদ ইমরান।
এরপর জয়াবর্ধনেকে সঙ্গে নিয়ে ইনিংস এগিয়ে নেন অধিনায়ক মেন্ডিস। দ্বিতীয় উইকেটে ৪১ বলে ৫৯ রান যোগ করেন দুজন। ২৬ বলে ৩৮ রান করা জয়াবর্ধনেকে ফিরিয়ে এই জুটি ভাঙেন আরাফাত মিনহাস।
তবে সেই উইকেটেও শ্রীলঙ্কার রানের গতি কমেনি। এবার কামিন্দু মেন্ডিসকে সঙ্গে নিয়ে পাকিস্তানের বোলারদের ওপর চড়াও হন কুশল। ৩৩ বলে ফিফটি পূর্ণ করার পর আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন লঙ্কান অধিনায়ক।
ব্যক্তিগত ৬৪ রানে থাকার সময় কুশলের ফিরতি ক্যাচ নিতে পারেননি সুফিয়ান মুকিম। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে আরও বড় ইনিংস খেলেন তিনি।
তৃতীয় উইকেটে কামিন্দুর সঙ্গে ৫৫ বলে অবিচ্ছিন্ন ৯৮ রানের জুটি গড়েন কুশল। কামিন্দু ২৭ বলে ৪ চারে ৪০ রান করে অপরাজিত থাকেন। শেষ পর্যন্ত ১৮তম ওভারের প্রথম বলেই চার মেরে দলের জয় নিশ্চিত করেন অধিনায়ক।
এর আগে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা পাকিস্তান শুরুটা করেছিল দারুণ। প্রথম তিন ওভারেই বিনা উইকেটে ৩৪ রান তুলে স্বাগতিকরা। তবে চতুর্থ ওভারে পরপর দুই উইকেট তুলে ম্যাচে ফেরে শ্রীলঙ্কা।
এশান মালিঙ্গার সেই ওভারে প্রথমে ৭ বলে ১২ রান করা ফখর জামান এবং পরে শূন্য রানে ফেরেন আগের ম্যাচে ৯৬ রানের ইনিংস খেলা মাআজ সাদাকাত। এরপর এক প্রান্তে সাহিবজাদা ফারহান লড়াই চালালেও অন্য প্রান্তে নিয়মিত উইকেট হারাতে থাকে পাকিস্তান।
হাসান নওয়াজ ১৬, খাজা নাফে ৩, মোহাম্মদ ইমরান ৬ এবং আবদুল সামাদ ১৫ রানে ফিরে গেলে ১৪তম ওভারে পাকিস্তানের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৬ উইকেটে ১০২ রান।
সেখান থেকে সপ্তম উইকেটে আরাফাত মিনহাসকে নিয়ে ৩৭ বলে ৬৬ রানের জুটি গড়েন ফারহান। ৪৭ বলে ৭ চার ও ৩ ছক্কায় ৭৬ রান করেন পাকিস্তান অধিনায়ক। অন্যদিকে ২০ বলে ২ চার ও ২ ছক্কায় অপরাজিত ৩৪ রান করেন মিনহাস।
শ্রীলঙ্কার হয়ে ৪ ওভারে মাত্র ২১ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন দাসুন শানাকা। দুটি করে উইকেট পেয়েছেন মালিঙ্গা ও নুয়ান তুষারা। বিজয়কান্ত বিয়াসকান্ত নিয়েছেন একটি উইকেট।
প্রথম দুই ম্যাচ জিতে আগেই সিরিজ নিশ্চিত করেছিল পাকিস্তান। তবে শেষ ম্যাচে কুশল মেন্ডিসের ব্যাটিংয়ে সেই জয়ের ধারা ধরে রাখতে পারেনি স্বাগতিকরা।
সিরিজে তিন ম্যাচেই ফিফটি করে মোট ২৩৮ রান করা সাহিবজাদা ফারহান হয়েছেন সিরিজসেরা।
