রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে হারলেও সিরিজ নিজেদের করে নিয়েছে অস্ট্রেলিয়া
রোমাঞ্চে ভরা এক সিরিজের শেষটা হলো আরও নাটকীয়ভাবে। শেষ ওয়ানডেতে অস্ট্রেলিয়া ১ উইকেটে জিতলেও সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জিতে নিয়েছে বাংলাদেশ। নজর থাকবে এখন চট্টগ্রামের টি-টোয়েন্টি সিরিজে। এশিয়া পোস্টের লাইভ আপডেটের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ।

রোমাঞ্চে ভরা এক সিরিজের শেষটা হলো আরও নাটকীয়ভাবে। শেষ ওয়ানডেতে অস্ট্রেলিয়া ১ উইকেটে জিতলেও সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জিতে নিয়েছে বাংলাদেশ।
পুরো সিরিজেই ছিল বাংলাদেশের লড়াই, পেসারদের দাপট, আর শেষ ম্যাচে শরিফুল ইসলামের অবিশ্বাস্য স্পেল। কুপার কনোলির দুর্দান্ত ১৪৯ রানের ইনিংস অস্ট্রেলিয়াকে সান্ত্বনার জয় এনে দিলেও সিরিজের হাসি শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশেরই।
এশিয়া পোস্ট স্পোর্টসের লাইভ আপডেটের সঙ্গে থাকার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ।
শেষ পর্যন্ত পারল না বাংলাদেশ। শেষ ওভারের তৃতীয় বলে টাসকিনকে কাভার দিয়ে চার মেরে অস্ট্রেলিয়াকে ১ উইকেটের রোমাঞ্চকর জয় এনে দেন অ্যাডাম জাম্পা।
একসময় ম্যাচ অস্ট্রেলিয়ার নিয়ন্ত্রণেই ছিল। কিন্তু শরিফুল ইসলামের দুর্দান্ত স্পেলে শেষ দিকে নাটক জমে ওঠে। তিনি নেন ৬ উইকেট, আর মোস্তাফিজ ফিরিয়ে দেন ১৪৯ রানের অসাধারণ ইনিংস খেলা কুপার কনোলিকে।
তবু এত নাটক, এত মোমেন্টাম বদল, এত সুযোগ-হাতছাড়ার পর শেষ হাসি অস্ট্রেলিয়ার। মিরপুরে রুদ্ধশ্বাস লড়াই জিতে সান্ত্বনার জয় পেল তারা, সিরিজ শেষ হলো বাংলাদেশের ২-১ ব্যবধানে জয়ে।
শেষ ওভারে অস্ট্রেলিয়ার দরকার ছিল ৬ বলে ৩ রান। বল হাতে আসেন টাসকিন আহমেদ। ধীর ওভার রেটের শাস্তিতে বাংলাদেশকে অতিরিক্ত একজন ফিল্ডার বৃত্তের ভেতরে রাখতে হয়, যা শেষ মুহূর্তে বড় চাপ হয়ে দাঁড়ায়।
প্রথম বলে রাইলি মেরেডিথ সিঙ্গেল নিলে স্ট্রাইক পান অ্যাডাম জাম্পা। দ্বিতীয় বলে রান হয়নি। মিরপুরে তখন নিঃশ্বাস বন্ধ করে অপেক্ষা—বাংলাদেশ কি অবিশ্বাস্যভাবে ম্যাচটা ফিরিয়ে আনবে?
অবশেষে থামলেন কুপার কনোলি। ৪৯তম ওভারের তৃতীয় বলে মোস্তাফিজুর রহমানের কাটারে বোল্ড হয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। অফ স্টাম্পের বাইরে থেকে কাট করতে গিয়ে বল ব্যাটের ভেতরের কানায় লেগে স্টাম্পে লাগে।
১৩৪ বলে ১৩ চার ও ৬ ছক্কায় ১৪৯ রান করে ফিরেছেন কনোলি। গরম, আর্দ্রতা, ক্র্যাম্প—সবকিছুর সঙ্গে লড়াই করে প্রায় একাই অস্ট্রেলিয়াকে জয়ের দুয়ারে নিয়ে গিয়েছিলেন তিনি।
কনোলির বিদায়ে ম্যাচে আবার রোমাঞ্চ ফিরেছে। অস্ট্রেলিয়ার শেষ উইকেট হাতে, বাংলাদেশের দরকার আর এক উইকেট।
কুপার কনোলির টানা তিন ছক্কার পর ম্যাচ প্রায় অস্ট্রেলিয়ার হাতেই চলে গিয়েছিল। কিন্তু পরের ওভারেই নাটক ফেরালেন শরিফুল ইসলাম। ৪৬তম ওভারে মাত্র ১ রান দিয়ে তুলে নিলেন দুই উইকেট।
ওভারের দ্বিতীয় বলে অলিভার পিককে ফিরিয়ে দেন শরিফুল। কাভারে সহজ ক্যাচ নেন বদলি ফিল্ডার রিশাদ হোসেন। পরের বলেই জেভিয়ার বার্টলেটকে ফেরান তিনি। ব্যাটের কানায় লেগে বল যায় বদলি উইকেটকিপার নুরুল হাসান সোহানের হাতে। এতে পূর্ণ হয় শরিফুলের পাঁচ উইকেটও।
হ্যাটট্রিকের সুযোগও তৈরি হয়েছিল শরিফুলের সামনে, তবে বেন ডোয়ারশুইস সেটি ঠেকিয়ে দেন। ৪৬ ওভার শেষে অস্ট্রেলিয়া ৭ উইকেটে ২৬৭। জয়ের জন্য তাদের দরকার ২৪ বলে ৮ রান, তবে শরিফুলের স্পেলে ম্যাচে আবার উত্তেজনা ফিরেছে।
তাসকিন আহমেদের এক ওভারেই ম্যাচের ছবি প্রায় বদলে দিলেন কুপার কনোলি। ৪৫তম ওভারে টানা তিন বলে তিন ছক্কা মারেন অস্ট্রেলিয়ার বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। প্রথমে শর্ট বলে ফাইন লেগের ওপর দিয়ে, এরপর ডিপ মিড উইকেটের ওপর দিয়ে, আর শেষ বলে সোজা বোলারের মাথার ওপর দিয়ে ছক্কা।
ওভার থেকে আসে ২১ রান। কনোলি পৌঁছে গেছেন ১৪৯ রানে। ৪৫ ওভার শেষে অস্ট্রেলিয়ার রান ৫ উইকেটে ২৬৬। জয়ের জন্য তাদের দরকার আর মাত্র ৯ রান।
তানভীর ইসলামের ওভারে বড় শটের ঝুঁকি না নিয়ে সিঙ্গেলস নিয়েই এগোচ্ছিল অস্ট্রেলিয়া। ক্যামেরন গ্রিন ও কুপার কনোলি দুজনই লং অফ-লং অনে বল ঠেলে রান তুলছিলেন।
তবে ওভারের মাঝপথে মাঠে বসে পড়েন কনোলি। প্রচণ্ড গরম ও আর্দ্রতায় তাঁর ক্র্যাম্পের সমস্যা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফিজিও এসে তাঁকে চিকিৎসা দেন।
বাংলাদেশের জন্য এখন সুযোগ চাপ বাড়ানোর। সেট ব্যাটসম্যান কনোলি অস্বস্তিতে থাকলে রান তোলার গতি কমিয়ে উইকেটের সুযোগ তৈরি করতে পারে বোলাররা।
দারুণ এক ইনিংসে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি পূর্ণ করলেন কুপার কনোলি। তানভীর ইসলামের বলে লং অফে সিঙ্গেল নিয়ে তিন অঙ্কে পৌঁছান অস্ট্রেলিয়ার এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান।
সেঞ্চুরি পূর্ণ করেই দুই হাত তুলে উদ্যাপন করেন কনোলি, খুলে ফেলেন হেলমেট। অস্ট্রেলিয়া ড্রেসিংরুম থেকেও দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানানো হয় তাঁকে। চাপের সময়ে তাঁর এই ইনিংসই অস্ট্রেলিয়াকে ম্যাচে শক্ত অবস্থানে এনে দিয়েছে।
বাংলাদেশকে ব্রেকথ্রু এনে দিলেন শরিফুল ইসলাম। ২৪তম ওভারের শেষ বলে মার্নাস লাবুশেনকে ফিরিয়েছেন তিনি। অফ স্টাম্পের বাইরে বলটি থার্ড ম্যানের দিকে খেলতে চেয়েছিলেন লাবুশেন, কিন্তু ব্যাটের কানায় লেগে যায় বল।
বদলি উইকেটকিপার নুরুল হাসান সোহান ডান দিকে ফুল লেন্থ ডাইভ দিয়ে অসাধারণ ক্যাচ নেন। টিভি আম্পায়ারের কাছে সিদ্ধান্ত গেলেও শেষ পর্যন্ত আউটই থাকেন লাবুশেন।
লাবুশেন ফিরেছেন ৪৫ বলে ২৯ রান করে। ২৪ ওভার শেষে অস্ট্রেলিয়া ৪ উইকেটে ১৩৪। বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বড় উইকেট।
২৩ ওভার শেষে অস্ট্রেলিয়ার রান ৩ উইকেটে ১৩০। জয়ের জন্য তাদের দরকার আরও ১৪৫ রান। কুপার কনোলি ৭০ ও মার্নাস লাবুশেন ২৬ রানে ব্যাট করছেন। দুজনের জুটি দাঁড়িয়েছে ৬০ রানে।
শেষ ১০ ওভারে কোনো উইকেট না হারিয়ে ৫৫ রান তুলেছে অস্ট্রেলিয়া। বাংলাদেশের জন্য এখন সবচেয়ে জরুরি এই জুটি ভাঙা। মোস্তাফিজ কিছুটা খরুচে, আর নতুন বোলার হিসেবে আক্রমণে এসে মোসাদ্দেক প্রথম ওভারে দিয়েছেন ৭ রান।
২০ ওভারের পর অস্ট্রেলিয়ার রান ৩ উইকেটে ১১০। কনোলি ৬০ রানে অপরাজিত, লাবুশেন খেলছেন ১৬ রানে। দুজনের জুটি এখন বাংলাদেশের জন্য বড় চিন্তার কারণ হয়ে উঠছে।
মোস্তাফিজুর রহমানের ওভারে ১০ রান তোলার পর তানভীর ইসলাম কিছুটা নিয়ন্ত্রণ ফেরানোর চেষ্টা করেন। তবে উইকেট না এলে ম্যাচ ক্রমেই অস্ট্রেলিয়ার দিকে ঝুঁকতে পারে।
চাপের মুখে দারুণ ব্যাটিং করছেন কুপার কনোলি। তানভীর ইসলামের বলে কাভার দিয়ে বাউন্ডারি মেরে ওয়ানডেতে নিজের ফিফটি পূর্ণ করেন অস্ট্রেলিয়ার এই ব্যাটসম্যান। ১৭ ওভার শেষে অস্ট্রেলিয়ার রান ৩ উইকেটে ৯৪।
বাংলাদেশ শুরুতে দ্রুত ৩ উইকেট তুলে নিলেও কনোলি ও মার্নাস লাবুশেন ধীরে ধীরে জুটি গড়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ফেরানোর চেষ্টা করছেন।
বাংলাদেশের দেয়া ২৭৫ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নেমে দারুণ শুরু করেছিল অস্ট্রেলিয়া। তবে তৃতীয় ওয়ানডেতে নাহিদ রানার জায়গায় সুযোগ পাওয়া শরিফুল ইসলাম পেয়েছেন জোড়া শিকারের দেখা। এ প্রতিবেদন লেখার সময় অজিদের সংগ্রহ ৭ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে ৫২ রান।
১৭ ইনিংস পর ওয়ানডেতে হাফ সেঞ্চুরির দেখা পেলেন লিটন দাস। পেশির টান লাগায় রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে ড্রেসিংরুমে গেলেও মেহেদীর আউটের পর আবারও ফিরে এসেই অর্ধশতকের দেখা পান তিনি। একই সঙ্গে মিরপুর স্টেডিয়ামেও এটি লিটনের প্রথম অর্ধশতক। এছাড়া সিরিজে দ্বিতীয়বার হাফ সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছেন মোসাদ্দেক। এবার ৪৩ বলে। প্রথম ইনিংস শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৫ উইকেটে ২৭৪ রান।
দলের রান বাড়ানোর চেষ্টায় ‘নো লুক’ শট খেলতে গিয়ে মিড উইকেটে ধরা পড়লেন তাওহীদ হৃদয়। ৮৮ বলে ৮৩ রান করে ফিরেছেন টাইগার মিডলঅর্ডার ব্যাটার। তিনশ রানের দিকে ছুটছে বাংলাদেশ।
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে ফিফটি তুলে নিয়েছেন তাওহীদ হৃদয়। বাংলাদেশ ছুটছে লড়াকু সংগ্রহের পথে। লিটন দাস চোট নিয়ে ফেরার পর মোসাদ্দেক-হৃদয় জুটিতে এগোচ্ছে স্বাগতিকরা। মিরপুরে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা বাংলাদেশের সংগ্রহ ৪০ ওভারে ৩ উইকেটে ১৯৮ রান।
মিরপুরে প্রথম ওয়ানডে ফিফটির অপেক্ষায় ছিলেন লিটন দাস। কিন্তু হ্যামস্ট্রিং চোটের কারণে রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে টাইগার ব্যাটারকে। তাওহীদ হৃদয়ের সঙ্গে জুটি গড়েছেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। বিপর্যয় কাটিয়ে ৩ উইকেট হারিয়ে দেড়শ পেরিয়েছে বাংলাদেশ।
৬১ রানে ৩ উইকেট হারানো বাংলাদেশকে পথ দেখাচ্ছেন লিটন দাস ও তাওহীদ হৃদয়। তাদের জুটিতে একশ পেরিয়েছে বাংলাদেশ।
পঞ্চাশ পেরোতেই ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়েছে বাংলাদেশ। দলীয় ৬১ রানের মাথায় সাজঘরে ফিরে গেছেন নাজমুল হোসেন শান্ত। ৫০ বলে ২৪ রান করে এ বাঁহাতি ব্যাটার।
সৌম্যের আউটের পর প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টায় ছিলেন তামিম-শান্ত। ইনিংস এগিয়েও নিয়েছিলেন খানিকটা। তবে ১০ম ওভারের রেনশর শেষ বলটায় হাঁটু গেড়ে স্লগ সুইপ করতে গিয়ে ক্যাচ দিয়ে ফিরলেন তামিম ১৯ (২০)। এর মধ্য দিয়েই ৫৩ রানের জুটি ভাঙল বাংলাদেশের।
প্রথম ওভারেই সৌম্য সরকারের উইকেটের পর তানজিদ তামিম ও নাজমুল শান্তর ব্যাটে প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টায় বাংলাদেশ। এখন পর্যন্ত ৭ ওভারে এক উইকেটে ৪১ রান স্কোরবোর্ডে তুলেছে টাইগাররা। শান্ত ২৮ বলে ১৫ আর তামিম ১০ বলে ১৩ রানে অপরাজিত আছেন।
শুরুটা ভালো হলো না বাংলাদেশের। মাত্র ২ রান করে বোল্ড সাজঘরে ফিরে গেছেন সৌম্য সরকার।
চোটের কারণে তৃতীয় ওয়ানডের একাদশে নেই মেহেদী হাসান মিরাজ। শেষ মুহুর্তে স্কোয়াডে যোগ হওয়া শেখ মাহেদী হাসান ২০২৩ বিশ্বকাপের পর ওয়ানডে খেলতে নামছেন। নাহিদা রানাকে দেওয়া হয়েছে বিশ্রাম। একাদশে সুযোগ পেয়েছেন বাঁহাতি পেসার শরিফুল ইসলাম।
মিরাজ না থাকায় বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন শান্ত। টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের।