৩৪ ওভারও টিকল না বাংলাদেশ, জিম্বাবুয়ের কাছে ৯৯ রানের হার
-68277e-720x405.webp)
মাত্র ২৪ রানে জিম্বাবুয়ের ৩ উইকেট তুলে নিয়ে দুর্দান্ত শুরু করেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু সেই সুবিধা ধরে রাখতে পারেননি বোলাররা। ব্রেন্ডন টেলর ও ক্রেইগ আরভিনের বড় জুটিতে ঘুরে দাঁড়িয়ে আড়াইশ ছাড়ানো সংগ্রহ পায় জিম্বাবুয়ে। এরপর ব্যাটিংয়ে নেমে আবারও পুরোনো ব্যর্থতার পুনরাবৃত্তি বাংলাদেশের। পুরো ৫০ ওভার তো দূরের কথা, ৩৪ ওভারও টিকতে পারেননি ব্যাটাররা। তাতে ৯৯ রানের বড় হার দিয়ে ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজ শুরু করল বাংলাদেশ।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) আবুধাবির শেখ জায়েদ ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে আগে ব্যাট করে ৮ উইকেটে ২৭১ রান তোলে জিম্বাবুয়ে। জবাবে ৩৩ ওভার ৪ বলে ১৭২ রানে অলআউট হয় বাংলাদেশ। লিটন দাসের অনুপস্থিতিতে অধিনায়কের দায়িত্ব পাওয়া তাওহীদ হৃদয় জয় এনে দিতে পারলেন না।
চোটের কারণে পুরো সিরিজ থেকে ছিটকে যাওয়া নিয়মিত অধিনায়ক লিটনকে ছাড়াই মাঠে নেমেছিল বাংলাদেশ। জ্বরের কারণে একাদশে ছিলেন না মেহেদী হাসান মিরাজও। তবে বোলিংয়ে শুরুটা ছিল দুর্দান্ত। ইনিংসের প্রথম ওভারেই ব্রায়ান বেনেটকে শূন্য রানে ফেরান তাসকিন আহমেদ। এরপর বেন কারান (৬) ও তাফাদজাওয়া সিগাকেও (১৬) তুলে নেন এই পেসার। মাত্র ২৪ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে জিম্বাবুয়ে।
সেখান থেকে চতুর্থ উইকেটে ১৫০ রানের জুটি গড়ে দলকে উদ্ধার করেন ব্রেন্ডন টেলর ও ক্রেইগ আরভিন। ১০১ বলে ১০ চারে ৮১ রান করেন টেলর। অন্যদিকে ১০৬ বলে ৯ চারে ৯৩ রান আসে আরভিনের ব্যাট থেকে। দুজনের কেউই সেঞ্চুরি না পেলেও তাদের জুটিতেই বড় সংগ্রহের ভিত পায় জিম্বাবুয়ে।
৩৭তম ওভারে টেলরকে ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন সাইফ হাসান। এরপর সিকান্দার রাজাকেও (৪) তুলে নেন তিনি। আরভিনকে ফেরান শরীফুল ইসলাম। তবে অষ্টম উইকেট হারানোর পর নিউম্যান নিয়ামহুরি ও ওয়েলিংটন মাসাকাদজা অবিচ্ছিন্ন জুটিতে আরও ৩৭ রান যোগ করেন। দুজনই ২১ রানে অপরাজিত থাকেন।
বাংলাদেশের হয়ে ৪৪ রানে ৩ উইকেট নেন তাসকিন। শরীফুল ৪৭ ও সাইফ ১৭ রান দিয়ে নেন দুটি করে উইকেট। রিশাদ হোসেন ৬৬ রান দিয়ে পান একটি উইকেট।
২৭২ রানের লক্ষ্য তাড়ায় শুরুতে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেন তানজিদ হাসান তামিম। অন্য প্রান্তে সৌম্য সরকারকে নিয়ে প্রথম উইকেটে ৪৭ রান যোগ করেন তিনি। তবে সৌম্য ৯ রানে ফেরার পর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি তানজিদও। ৩৮ বলে ৯ চার ও এক ছক্কায় ৪৬ রান করে আউট হন এই ওপেনার।
এরপরই শুরু হয় বাংলাদেশের ব্যাটিং বিপর্যয়। নাজমুল হোসেন শান্ত ফেরেন মাত্র ৪ রানে। অধিনায়ক হৃদয়ও বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। ২১ বলে ১৩ রান করে সিকান্দার রাজার বলে এলবিডব্লিউ হন তিনি। ১৭তম ওভারেই ৪ উইকেটে ৯৭ রানে পরিণত হয় বাংলাদেশ।
মাঝের ওভারগুলোতেও ঘুরে দাঁড়াতে পারেননি ব্যাটাররা। মোসাদ্দেক হোসেন ১১, সাইফ হাসান ২৬ ও নুরুল হাসান সোহান ৫ রান করে ফেরেন। এরপর শরীফুল ইসলামও শূন্য রানে আউট হলে ১২৯ রানেই ৮ উইকেট হারিয়ে বসে বাংলাদেশ।
শেষ দিকে রিশাদ হোসেন ৩৩ বলে ২৩ এবং তাসকিন আহমেদ ১৩ বলে অপরাজিত ১৬ রান করে হারের ব্যবধান কিছুটা কমান। তবে জিম্বাবুয়ের বোলারদের সামনে বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি তারা। ৩৪তম ওভারের চতুর্থ বলে মোস্তাফিজুর রহমানকে নিজের বলে ক্যাচ বানিয়ে বাংলাদেশের ইনিংস শেষ করেন ব্র্যাড ইভান্স।
জিম্বাবুয়ের হয়ে ৪৫ রানে সর্বোচ্চ ৪ উইকেট নেন ইভান্স। সিকান্দার রাজা ও ওয়েলিংটন মাসাকাদজা নেন দুটি করে উইকেট।
ওয়ানডেতে সাম্প্রতিক ব্যর্থতা কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্য নিয়েই ত্রিদেশীয় সিরিজ শুরু করেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু প্রথম ম্যাচেই ব্যাটিংয়ের পুরোনো দুর্বলতা আবারও সামনে এল। ম্যাচের আগে অভিজ্ঞ ব্যাটারদের দায়িত্ব নেওয়ার তাগিদ দিয়েছিলেন লিটন। মাঠে সেই দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ের দেখা মিলল না।
